নিউজ ডেক্স
আরও খবর
পাকিস্তানে আফগানিস্তানের পাল্টা বিমান হামলা, সীমান্তে তীব্র সংঘর্ষ
ঐতিহাসিক চুক্তিতে ইরানের বিজয়
পাকিস্তানের চা, আতিথেয়তা ও বিয়ের ঐতিহ্যের প্রেমে মার্কিন কূটনীতিক
এক আপেল, দুই রঙ! নিউজিল্যান্ডে বিরল আপেল দেখতে উৎসুক জনতার ভিড়
লেবাননে প্রচুর মানুষ মারা যাচ্ছে, ইসরাইলের সমালোচনা ট্রাম্পের
ইরান চুক্তি নিয়ে ইসরাইলে ক্ষোভের বিস্ফোরণ, যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা
রাশিয়ায় ড্রোন হামলায় মাদারগঞ্জের ২ যুবক নিহত
সৌদি আরব, আমিরাতে আটক ৯০% ভিক্ষুক, পকেটমার, চোরই পাকিস্তানি নাগরিক
অর্থনৈতিক সংকট, চরম দেউলিয়া দশা এবং আকাশচুম্বী মুদ্রাস্ফীতির করাল গ্রাসে থাকা পাকিস্তানের এক চরম লজ্জাজনক ও জঘন্য বাস্তবতার চিত্র বিশ্বমঞ্চে উন্মোচিত হয়েছে। দেশটিতে ভিক্ষাবৃত্তি এখন আর কোনো ব্যক্তিগত অসহায়ত্ব বা দারিদ্র্যের সাধারণ প্রকাশ নয়, বরং এটি রূপ নিয়েছে এক সুসংগঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্র বা মাল্টি-মিলিয়ন ডলারের মাফিয়া ইন্ডাস্ট্রিতে।
এই চক্রগুলো পবিত্র ওমরাহ ও ট্যুরিস্ট ভিসাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে প্রতি বছর হাজার হাজার পাকিস্তানি নাগরিককে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে, বিশেষ করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরাকে ভিক্ষাবৃত্তির জন্য পাচার করছে।
ভিক্ষাবৃত্তির দায়ে সৌদিসহ ৬ দেশ থেকে ৫ হাজারের বেশি পাকিস্তানি বহিষ্কার
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সৌদি আরবের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর যৌথ তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনার পবিত্র হারামাইন শরীফাইনের আশেপাশে আটক হওয়া পেশাদার ভিক্ষুকদের প্রায় ৯০ শতাংশই পাকিস্তানি নাগরিক।
এই বিশাল চক্রটি ওমরাহ পালনের ছদ্মবেশে মধ্যপ্রাচ্যে প্রবেশ করে এবং সেখানে গিয়ে একটি নির্দিষ্ট নেটওয়ার্কের অধীনে সুপরিকল্পিতভাবে ভিক্ষাবৃত্তি পরিচালনা করে।
এই অপরাধের ভয়াবহতা এতটাই বেশি যে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর কারাগার ও ডিটেনশন সেন্টারগুলো এখন পাকিস্তানি ভিক্ষুক, পকেটমার ও ছোটখাটো অপরাধীদের দিয়ে উপচে পড়ছে।
সারাবিশ্বে পাকিস্তানিদের ভিক্ষাবৃত্তি: ফেরত পাঠানো হলো ৫১ হাজার পাকিস্তানি ভিক্ষুককে
পরিস্থিতি এতটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এখন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কঠোর ও নজিরবিহীন আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে। জেদ্দা, রিয়াদ এবং দুবাই থেকে হাজার হাজার পাকিস্তানি ভিক্ষুককে আটক করে বিশেষ ডিপোর্টেশন ফ্লাইটে করে একযোগে পাকিস্তানে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।
সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার ইতিমধ্যে পাকিস্তান সরকারকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে যে, ওমরাহ ও ট্যুরিস্ট যাত্রীদের কঠোর স্ক্রিনিং এবং এই আন্তর্জাতিক ভিক্ষুক চক্রের হোতাদের বিরুদ্ধে যদি এখনই রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে সাধারণ ও বৈধ পাকিস্তানি নাগরিকদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ বন্ধ বা অত্যন্ত কঠিন করা হবে।
যেভাবে পরিচালিত হয় এই মাফিয়া নেটওয়ার্ক
তদন্তে দেখা গেছে, পাকিস্তানের করাচি, লাহোর, পেশোয়ার এবং মুলতানের মতো বড় বড় শহরগুলোতে এই মাফিয়া চক্রের মূল গডফাদার ও এজেন্টরা সক্রিয়। তারা মূলত গ্রামীণ এলাকার চরম দরিদ্র, অশিক্ষিত এবং বিশেষ করে প্রতিবন্ধী ও নারীদের টার্গেট করে।
সিন্ডিকেটের এজেন্টরা সম্পূর্ণ নিজস্ব খরচে তাদের পাসপোর্ট, ওমরাহ ভিসা ও বিমান টিকিটের ব্যবস্থা করে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠায়। সেখানে পৌঁছানোর পর একটি স্থানীয় সাব-এজেন্ট চক্র তাদের পাসপোর্ট কেড়ে নেয় এবং নির্দিষ্ট আস্তানায় জিম্মি করে রাখে।
প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দলবদ্ধভাবে তাদের শহরের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ও মসজিদের সামনে ভিক্ষা করতে বাধ্য করা হয়। দিনশেষে উপার্জিত অর্থের সিংহভাগই চলে যায় এই মাফিয়া চক্রের পকেটে, আর ভিক্ষুকদের দেওয়া হয় সামান্য কিছু খাবার ও থাকার জায়গা।
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাওয়া, রেকর্ড ভাঙা বেকারত্ব এবং কর্মসংস্থানের চরম অভাব মানুষকে সহজে টাকা উপার্জনের এই অন্ধকার পথে ঠেলে দিচ্ছে।
তবে এর চেয়েও বড় সংকট হলো দেশটির প্রশাসনিক দুর্নীতি ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি। এই আন্তর্জাতিক মানব পাচার ও ভিক্ষুক চক্রের মূল হোতারা প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় প্রশাসনের নাকের ডগায় ঘুরে বেড়ালেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয় না।
ফলস্বরূপ, পাকিস্তানের সবুজ পাসপোর্ট আজ বিশ্বজুড়ে তীব্র সন্দেহ, তল্লাশি ও আন্তর্জাতিক চরম অসম্মানের মুখে পড়েছে।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।