নিউজ ডেক্স
আরও খবর
লেবাননে প্রচুর মানুষ মারা যাচ্ছে, ইসরাইলের সমালোচনা ট্রাম্পের
ইরান চুক্তি নিয়ে ইসরাইলে ক্ষোভের বিস্ফোরণ, যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা
‘যুদ্ধবিরতি’র পরেও থামছে না হত্যা — গাজায় ইসরায়েলি হামলায় মৃতের সংখ্যা ৯৮৩
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ, সব দাবি পূরণ হয়েছে: ট্রাম্প
ইরানের আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা
ইসরাইল লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়ল ইরান
মালয়েশিয়ায় অবৈধ ব্যবসা ও ভিসা অপব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা
রাশিয়ায় ড্রোন হামলায় মাদারগঞ্জের ২ যুবক নিহত
জীবিকার তাগিদে রাশিয়ায় গিয়ে গিয়ে ড্রোন হামলায় জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার দুজন নিহত হয়েছেন।
সোমবার (১৫ জুন) সকালে দুজনের পরিবার মৃত্যুর খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
নিহতরা হলেন, মাদারগঞ্জ উপজেলার রায়েরছড়া গ্রামের মো. আরিফ মিয়া (৩০) ও চরগুজামানিকা গ্রামের বানু মিয়ার ছেলে মাফুল (২৫)।
জানা গেছে, গত ৭ মে মাফুল এক দালালের মাধ্যমে এবং আরিফ তার চাচাতো ভাই আমিনুরের মাধ্যমে রাশিয়ায় যান। মাফুলকে রাজমিস্ত্রীর কাজ এবং আরিফকে ইলেকট্রিশিয়ানের কাজ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর তারা পরিবারকে জানান, প্রতারণার মাধ্যমে তাদেরকে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, অর্থের বিনিময়ে দালালরা রাশিয়ার সেনাবাহিনীর কাছে তাদের সন্তানদের হস্তান্তর করে।
স্বজনরা জানান, গত ২৯ মে মাফুল ও আরিফের সঙ্গে তাদের কথা হয়েছিল। এরপর থেকে তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও বার্তার মাধ্যমে তারা জানতে পারেন, ড্রোন হামলায় ওই দুই যুবক নিহত হয়েছেন।
মাফুলের মা মাহফুজা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলে কাজের জন্য বিদেশে গিয়েছিল। এখন শুনছি আমার ছেলে আর বেঁচে নেই। আমি আমার ছেলের লাশ দেশে ফেরত চাই। যারা তাকে বিদেশে নিয়ে গেছে, তাদের বিচার চাই।
আরিফের বোন কনিকা বলেন, রাজমিস্ত্রির কাজের কথা বলে আমার ভাইকে রাশিয়ায় নেওয়া হয়েছিল। পরে জানতে পারি, তাকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ফোনে কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেছিল, ‘আমাদের বাঁচাও।’ এখন শুনছি, তিনি মারা গেছে। আমরা তার লাশ দেশে ফেরত চাই।
আরিফের বাবা তারা মিয়া বলেন, ঋণ করে ১৬ লাখ টাকা খরচ করে আমিনুরের মাধ্যমে আমার ছেলেকে রাশিয়ায় পাঠিয়েছিলাম। তিনি কাজের জন্য বিদেশে গিয়েছিল। এখন শুনছি, আমার ছেলে আর বেঁচে নেই। আমার ছেলের লাশ দেশে ফেরত চাই এবং দোষীদের বিচার চাই।
অভিযোগের বিষয়ে দালাল আমিনুর রহমান জানান, তিনি তাদেরকে নিয়ে যাননি। আরএস ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সির মাধ্যমে তাদেরকে রাশিয়ায় পাঠানো হয়েছে। তিনি শুধু সহযোগিতা করেছেন।
মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, দূতাবাসের মাধ্যমে না গিয়ে স্থানীয় দালাল চক্রের মাধ্যমে বিদেশে যাওয়া মোটেও ঠিক হয়নি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হচ্ছে। তবে ভুক্তভোগী পরিবার লিখিত আবেদন করলে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।