ইরান চুক্তি নিয়ে ইসরাইলে ক্ষোভের বিস্ফোরণ, যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা – বর্ণমালা টেলিভিশন

ইরান চুক্তি নিয়ে ইসরাইলে ক্ষোভের বিস্ফোরণ, যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৬ জুন, ২০২৬ | ৫:০৩ 3 ভিউ
যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি সমঝোতা চুক্তি করেছে। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে রোববার (১৪ জুন) পাকিস্তান এ ঘোষণা দেওয়ার পরই ইসরাইলে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, ‘আমরা আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের মধ্যে শান্তিচুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।’ তিনি আরও জানান, এই চুক্তিতে সব ফ্রন্টে—লেবাননসহ—সামরিক অভিযান ‘তাৎক্ষণিক ও স্থায়ীভাবে বন্ধ’ করার বিষয় রয়েছে। শাহবাজ শরিফ বলেন, ‘আলোচনায় তুরস্ক, কাতার ও সৌদি আরব ভূমিকা রেখেছে এবং চুক্তিটি শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে স্বাক্ষরিত হবে।’ এরপরই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান— উভয় দেশ চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন চুক্তিটি ‘সম্পূর্ণ’। অন্যদিকে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘিরাবাবাদি বলেন, ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত স্বাক্ষর হবে। ইসরাইলের দাবি: তারা চুক্তিতে বাধ্য নয় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণার পর ইসরাইলি কর্মকর্তারা জানান, তারা এই চুক্তির শর্ত মানতে বাধ্য নয়। একই সময়ে ইসরাইলি সেনাবাহিনী দক্ষিণ লেবাননে একাধিক হামলা চালায়। ইসরাইলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নাকি ট্রাম্পকে জানিয়েছেন, ইসরাইলি এই চুক্তির দ্বারা বাধ্য নয় এবং লেবানন সংক্রান্ত কোনো শর্ত মানবে না। নেতানিয়াহুর এ বক্তব্যের সুর ধরে ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ বলেন, ইসরাইলি সেনারা লেবানন, সিরিয়া ও গাজায় ‘নিরাপত্তা জোনে’ অনির্দিষ্টকাল থাকবে। কাটজ আরও বলেন, ইসরাইলের দখলে থাকা এলাকাগুলো থেকে বেসামরিক নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়া হবে। ওই এলাকার বেসামরিক বাড়িঘরগুলো ‘সন্ত্রাসী অবকাঠামো’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, সেগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, এসব এলাকার কিছু অংশ থেকে বেসামরিক মানুষ সরানো হবে এবং সেগুলোকে ‘সন্ত্রাস অবকাঠামো’ হিসেবে ধ্বংস করা হবে। ইসরাইলি নেতাদের কড়া প্রতিক্রিয়া দেশটির অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ বলেন, এই চুক্তি ইসরাইল ও ‘সমগ্র মুক্ত বিশ্বের জন্য খারাপ’। সেইসঙ্গে ইসরাইলকে একাই ইরানের বিরুদ্ধে লড়তে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতেমার বেন গাভির বলেন, ‘ট্রাম্পের চুক্তি আমাদের জন্য বাধ্যতামূলক নয়। ইসরাইল কোনো অধীন রাষ্ট্র নয়।’ সংস্কৃতি-বিষয়ক মন্ত্রী মিকি জোহার বলেন, ‘ইসরাইল কেবল তখনই ব্যবস্থা নেবে যখন তার নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে।’ মিডিয়া ও বিশ্লেষকদের তীব্র মন্তব্য ইসরাইলি সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তীব্র ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানান। কিছু মন্তব্যে ট্রাম্প ও মার্কিন নেতৃত্বকে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করা হয় এবং বলা হয় ইসরাইল এখন একা হয়ে পড়েছে। একজন সাংবাদিক এমন মন্তব্যও করেন যে, ইসরাইলের এখন সবচেয়ে বেশি দরকার ‘সার্বভৌম সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা’। সেই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলেও আখ্যা দেন। ইসরাইলের ‘চ্যানেল ১৪ নিউজ’-এর সাংবাদিক ইনন মাগাল, যাকে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র হিসেবে গণ্য করা হয়, এক্স অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, ইরান ও লেবাননের যুদ্ধে ইসরাইলকে একা ফেলে দেওয়া হয়েছে। তিনি ট্রাম্পকে পরাজিত ব্যক্তি এবং মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে ঘৃণ্য ব্যক্তি বলে আখ্যা দেন। ইসরাইলের গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ‘ইসরাইল ডিফেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি ফোরাম’ (আইডিএসএফ) এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ইরানের ‘সন্ত্রাসী’ সরকারের সঙ্গে যেকোনো চুক্তিই শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হতে বাধ্য এবং বর্তমান চুক্তিটির পরিণতিও ভিন্ন কিছু হবে না।’ আইডিএসএফ আরও বলেছে, ‘এখন মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর, সামনে কী আসছে তার জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার এবং লেবানন ও ইরান থেকে হুমকি দূর করার ক্ষেত্রে ইসরাইলের স্বার্থের প্রশ্নে কোনো আপস না করার উপযুক্ত সময়।’ বিরোধীদের সমালোচনা ইসরাইলের বিরোধী নেতা ইয়ার গোলান বলেন, এই চুক্তির ফলে ইসরাইল আরও দুর্বল অবস্থানে পড়েছে। সেইসঙ্গে তিনি সরকারের নীতিকে ’ব্যর্থ বলে সমালোচনা করেন। আরেক সাবেক সেনাপ্রধান ও রাজনৈতিক নেতা গাদি আইজেনকট বলেন, এই চুক্তি ইসরাইলের নিরাপত্তা উদ্বেগ সমাধান করতে ব্যর্থ হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট বলেন, বর্তমান সরকার সিদ্ধান্ত নিতে অক্ষম এবং ইসরাইলকে যুদ্ধ ও অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
বিশ্বকাপে মাইলফলকের সামনে মেসি গ্রুপ পর্বে নেইমারের মাঠে ফেরার সম্ভাবনা খুব কম: ব্রাজিলের গণমাধ্যম লেবাননে প্রচুর মানুষ মারা যাচ্ছে, ইসরাইলের সমালোচনা ট্রাম্পের ইরান চুক্তি নিয়ে ইসরাইলে ক্ষোভের বিস্ফোরণ, যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা হত্যা মামলায় ড. আবুল বারকাতের জামিন প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে ভারতে টেলিগ্রাম সাময়িক বন্ধ নতুন গিলাফে সজ্জিত হলো পবিত্র কাবা শরিফ লন্ডনে হাসনাত আবদুল্লাহর সভাস্থল ঘিরে আ.লীগের বিক্ষোভ, ডিম নিক্ষেপ যুবলীগ নেতার হাত-পা ভেঙে দিল দুর্বৃত্তরা ‎আমগাছে উঠে অনলাইনে হাজিরা দিলেন প্রধান শিক্ষক উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় কলেজছাত্রের ওপর হামলা রাশিয়ায় ড্রোন হামলায় মাদারগঞ্জের ২ যুবক নিহত বিআরটিএর ওয়েবসাইট ক্লোন: এআই ক্যামেরার ভুয়া মামলায় গচ্চা লাখ লাখ টাকা, বিদেশি চক্রের ফাঁদ এইচএসসিতেও থাকছে সিসিটিভির নজরদারি: সার্বক্ষণিক ইন্টারনেটসহ বিভিন্ন নির্দেশনা জারি বৃথা গেল শরিফুলের ৬ উইকেট, কনোলির প্রথম সেঞ্চুরিতে অস্ট্রেলিয়ার রোমাঞ্চকর জয় ইন্টারপোলের রেড নোটিশে নেই বেনজীর আহমেদের নাম, গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্ন খালেদা জিয়াকে ‘কালো মানিক’ দিতে চাওয়া সেই সোহাগ পর্নোগ্রাফি মামলায় গ্রেপ্তার টেকনাফে মাটির নিচে ‘বারুদের স্তূপ’: টেকনাফে মাটির তলদেশ থেকে ১০টি তাজা গ্রেনেড ও বিপুল গোলাবারুদ উদ্ধার খুলনায় মসজিদে সশস্ত্র হামলা: চাঁদাবাজি নাকি ব্যবসায়িক শত্রুতা? তদন্তে পুলিশ মৌলবাদীদের পথেই হাটলেন মন্ত্রী পরিষদঃ প্রাথমিকে সংগীত শিক্ষক নিয়োগে মন্ত্রীপরিষদের অসন্মতি