নিউজ ডেক্স
আরও খবর
চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ ব্যবসায়ীদের অভিযোগের পর বিএনপি সাংসদের ছেলে যুবদল নেতা আটক
বাঁশখালীতে পল্লী বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিল, ক্ষোভে ফুঁসছেন সাধারণ জনতা
চাটখিলে দলিল লেখকদের ভোটযুদ্ধ: আওয়ামী লীগের ঘরে ৭ পদ, বিএনপির ৩
বিএনপির সদস্য সচিবের অ্যাম্বুলেন্স থেকে ১১৭ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার
কোনো মামলা ছাড়াই রাতে তুলে নিয়ে গেল ডিবি, ৫ ঘণ্টা পর মিলল ছাত্রলীগ কর্মীর লাশ
বরগুনায় ১৯ দিনে ২২ মরদেহ উদ্ধার
তীব্র সমালোচনার মুখে ‘কাকতালীয়ভাবে’ পরিবর্তিত ইউনিয়নের নাম পুনর্বহালের নির্দেশনা
চট্টগ্রামে ব্যবসায়ীদের ঘুম হারাম: চান্দগাঁওয়ে দিনে-দুপুরে গুলি ছুড়ে চাঁদা দাবি
চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও বিসিক শিল্প এলাকায় এবার প্রকাশ্য দিবালোকে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে ফাঁকা গুলি ছুড়ে চাঁদা দাবির এক দুর্ধর্ষ ঘটনা ঘটেছে।
গতকাল ২০শে জুন, শনিবার পাঁচ যুবকের একটি সশস্ত্র দল এই বাণিজ্যিক এলাকায় এসে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে এই শিল্প এলাকায় বেশ কয়েকটি গুলির ঘটনা ঘটায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মাঝে এখন চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্র ও সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, শনিবার চান্দগাঁও বিসিক শিল্প এলাকার ইয়ুনুস্কো (এসটিএস) গ্রুপের সামনের সড়কে পাঁচ যুবকের একটি দল অবস্থান নেয়।
সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্ট দেখা গেছে, চাঁদার দাবিতে দলটি সেখানে প্রবেশ করার মুহূর্তে একজনের হাতে থাকা পিস্তল দিয়ে দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে।
পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার মাধ্যমে অস্ত্রধারী ওই পাঁচ যুবককে চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে।
‘তোকে পায়ে গুলি করব’: যুবদল নেতাকে হুমকি
ঘটনার ঠিক পরপরই একটি মোবাইল ফোন নম্বর থেকে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হিসেবে পরিচিত এক যুবদল নেতাকে সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীর ঘনিষ্ঠজনদের দাবি, ফোনে অত্যন্ত আগ্রাসী ভাষায় তাকে বলা হয়— “তোকে প্রথমে পায়ে গুলি করব, তোর কোন বাপ তোকে বাঁচায় দেখব।”
চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন সংবাদমাধ্যমকে জানান, “পাঁচজন সন্ত্রাসী চাঁদার দাবিতে এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে বলে আমরা প্রাথমিক তথ্য পেয়েছি। পুলিশের পক্ষ থেকে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।”
চান্দগাঁওয়ের এই ঘটনা চট্টগ্রামবাসীর মনে চলতি বছরের ২৮শে ফেব্রুয়ারির চকবাজারের ঘটনাটিকে আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে। সেদিন চকবাজার থানার চন্দনপুরা এলাকায় পুলিশি পাহারার মধ্যেই স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমানের বাসা লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছিল সন্ত্রাসীরা।
ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমানের অভিযোগ ছিল, কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারীরা তার বাসায় এই হামলা চালায়।
এর আগে গত ২রা জানুয়ারিও একই বাসায় গুলি করা হয়েছিল, যার ফলে জানালার কাচ ও দরজা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পুলিশের পাহারার মধ্যেই বারবার এমন গুলির ঘটনায় পুরো চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী মহলে তীব্র নিরাপত্তা হীনতা দেখা দিয়েছে।
চান্দগাঁও শিল্প এলাকার ব্যবসায়ীরা বলছেন, যদি শিল্পাঞ্চলেই দিনের আলোতে এভাবে অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি চালানো হয়, তবে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। দ্রুততম সময়ে এই পাঁচ অস্ত্রধারীকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা না হলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
