সক্ষমতা, সাহস, সম্মান এবং শৈলী – বর্ণমালা টেলিভিশন

ড. মামুনুর রশীদ
প্রকাশিতঃ ১৩ আগস্ট, ২০২৬
৫:১৫ পূর্বাহ্ণ
36 ভিউ

সক্ষমতা, সাহস, সম্মান এবং শৈলী

ড. মামুনুর রশীদ
আপডেটঃ ১৩ আগস্ট, ২০২৬ | ৫:১৫ 36 ভিউ
সম্মান। বড়ই বিচিত্র এক চাওয়া। অনেক কিছু করেও পাওয়া যায়না। জিন্নাহ পায়নি। কিছু না করেও পাওয়া যায়। মুজিবকে নিয়ে বেলুচিস্তানের লোকদের জিজ্ঞেস করুন। তবে কথা সত্য। সম্মান সহজে অর্জিত হয়না। সোজা ভাষায় বলতে, কেউ এমনি কাউকে সম্মান দেয়না। সম্মান অর্জন করতে হয়। সক্ষমতা দিয়ে। আপনি নিজের সক্ষমতা বৃদ্ধি করুন, সম্মান আপনার পিছনে ছুটবে। আর সক্ষমতার জন্য সাহস খুব দরকারি। অর্থনীতির ভাষায় আমরা অনেকে সাহসকে ঝুঁকি নেয়ার যোগ্যতা হিসেবে দেখি। বাংলাদেশ যখন টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার জন্য চেষ্টায় রত, তখন আরও কয়েক হাজার ম্যাচ হারতে হবে তার কোনো নিশ্চয়তা ছিলোনা। কিন্তু সাহস ছিলো। সাবের হোসেন, ওবায়দুল কাদের, আকরাম-নান্নুদের চেষ্টায় অনেক সমালোচনা ঠেকিয়ে টেস্ট স্ট্যাটাস পায় বাংলাদেশ। ১৯৭১ সালে স্বাধীনের সময় যেমন বাংলাদেশ তলাবিহীন ঝুড়ি ছিলো। ১৯৯০ সালেও ছিলো। কিছুই কেনার সামর্থ্য ছিলোনা। মিসকিনের দেশ ছিলো। আরবের শেখদের কাছে মাথা-দরে বিক্রি হতো বাংলাদেশের আদম’রা। দালাল ছিলো পাকিস্তানের ছেড়ে যাওয়া জামাতিরা। দাতাদের কনফারেন্সে এটাচে কেস হাতে পিছু পিছু ঘুরতো অর্থমন্ত্রীরা, প্রাপ্ত দান অনুগ্রহ অনুদানের উপর ভিত্তি করে করা হতো পরের অর্থবছরের বাজেট। ২০০৯ এ দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসে এক নারীর সাহসিকতায় পাল্টে যায় সব। একের পর এক অবকাঠামো, চুক্তি, এবং নতুন বৈদেশিক সম্পর্ক স্থাপন করতে থাকে বাংলাদেশ। যারা আগে ঢুকতেই দিতোনা, তারা পোর্ট-এন্ট্রি ভিসার অফার দিয়েছিলো। ৪০০ ডলারের মাথাপিছু আয় এসে ঠেকলো ২৮০০ ডলারে। আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা গোষ্ঠীর জন্য ঘর তৈরি হচ্ছিলো। অনেকে আশ্রয়ণ প্রকল্পে পাকা এপার্টমেন্ট পর্যন্ত পেয়েছে। ইউরোপ আমেরিকার অনেক দেশে তাদের জনগোষ্ঠীর একটা অংশ এখনও খোলা আকাশের নিচে ঘুমায়। রেলস্টেশন, বিমানবন্দরে নতুন টার্মিনাল থেকে শুরু করে গৃহহীনদের জন্য দেয়া আধপাকা ঘরের মধ্যে শুধু সক্ষমতাই ছিলো না, ছিলো অসাধারণ শৈলী। এতে না কারো মাটি চুরি করতে হয়েছে, না কারো বালি। এই শৈলী এসেছে সম্মান অর্জনের মাধ্যমে। ১৯৪৩ সালে আব্রাহাম মাসলো সাইকোলজিকাল রিভিউ জার্নালে “এ থিওরি অফ হিউম্যান মোটিভেশন” বিষয়ে একটা গবেষণাপত্রে “চাহিদার ক্রমবিন্যাস” পাবলিশ করেন। জৈবিক চাহিদা থেকে আত্ম-উপলব্ধি পর্যন্ত পাঁচটা ধাপের কথা বলেছেন। একটা দেশ যখন তার চাহিদার উপরের দিকে যেতে চায়, তার শৈলীর পরিবর্তন জরুরি। ভাতের অভাব কাটিয়ে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ ছিলো। ২০২৬ সালেও শেখ হাসিনার নাম লেখা চালের বস্তা ফ্রি বিলানো হচ্ছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা ১০০% উন্নত না হলেও, ক্ষুদ্র অপরাধ কমে গিয়েছিলো। যেখানে সেখানে মানুষকে গুলি করে দেয়া, চাঁদাবাজি, জ*বাই করে হত্যা করা অনেকদিন মানুষ শুনেনি। বিপদে পড়লে মানুষের সাহায্যে মানুষ এগিয়ে গেছে। একটা সেন্স অফ বেলঙ্গিংনেস তৈরি হয়েছিলো। মানুষের মধ্যে বিশেষ করে মহিলাদের মধ্যে একটা আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছিলো। অন্যের কাজকে সম্মান করার একটা প্রতিযোগিতা তৈরি হচ্ছিলো। পরের ধাপই ছিল সেল্ফ অ্যাকচুয়ালাইজেশন – আত্ম-উপলব্ধি। শকুনের চোখ পড়লো। কিছু ইতর তাদের স্বাধীনতার জন্য বাকি ৯৫% মানুষের ৫৫ বছরের সব অর্জন ধ্বংস করে দিলো। তাও মাত্র দুই বছরে। দেশকে বিক্রি করে দিলো বিদেশিদের কাছে। এমনভাবে বিক্রি করেছে যে এই দেশ থাকলে তাদের অস্তিত্বের সংকট দেখা দিচ্ছিলো। অথচ কি দিব্বি এই দেশের আলো বাতাসে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এখন শৈলীর প্রশ্নই উঠেনা। ফ্যামিলি কার্ডের জন্য ধর্ষিত হচ্ছে মানুষ। বাড়ি বানিয়ে দেয়ার নামে ছবি তোলা হচ্ছে। সাহসের নামে প্রতিবেশী দেশের সাথে সম্পর্ক ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। সক্ষমতার নামে প্রায় ৯০০ এর মতো বাচ্চাকে টিকা না দিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। দুইটা সময়ের পার্থক্য বুঝতে হলেও কিছুটা শৈলীর দরকার আছে। টম-ডিক-হ্যারি টাইপের যে কেউ হঠাৎ এগুলো বুঝবেনা।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

[TheChamp-FB-Comments]
ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
উড়োজাহাজ থেকে ২০ কোটি টাকার স্বর্ণ উদ্ধার স্থায়ী কমিটির প্রতিবেদন নিয়েও সংসদে বিতর্ক ইউনিয়নেও প্রশাসক বিএনপি নেতারা, ভোট বন্ধের শঙ্কা জামায়াতের সিরিয়ার কাছে তিন গোলের হার বাংলাদেশের দ্বাদশ শ্রেণি পার না হওয়ার আক্ষেপ, ভবিষ্যৎ নিয়ে সতর্ক কারিনা দুধ ছাড়াও ক্যালসিয়াম পাবেন যেসব খাবার থেকে শুভ জন্মাষ্টমী আজ রাউজানে বিএনপির সমর্থককে গুলি করে হত্যা নবম পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন রোববার মেসিকে বিদায়ী সম্মাননা জানাতে বিশেষ উদ্যোগ নিল আর্জেন্টিনা যেসব বিষয় নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা নিষিদ্ধ তনু হত্যায় দুই সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ ‘৬ মাসে ২ লাখ বাংলাদেশি নেবে মালয়েশিয়া’: শাহে আলমের বক্তব্যকে ভিত্তিহীন বলল মালয়েশিয়ান সরকার এশিয়ান গেমসের টি-টোয়েন্টি দলে ফিরলেন শান্ত দ্বীনি শিক্ষার নামে মাদ্রাসায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী সমন্বয়ে ধর্ষকচক্র: ৭ বছরের ছাত্রের জবানবন্দিতে উঠে এলো ভয়ঙ্কর চিত্র অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ইউনূসের থ্রি জিরোর পর এবার এলো তারেক রহমানের ‘থ্রি আর’ স্ট্র্যাটেজি দাগনভূঞায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে সাংবাদিক-পুলিশসহ আহত ২০ ব্যক্তিগত চ্যাট গোপন রাখতে হোয়াটসঅ্যাপের নতুন ফিচার বেতন দ্বিগুণ সেবা অনিশ্চিত প্রকাশ্যে মার্কিন প্রশাসনের অন্তর্দ্বন্দ্ব