ফুলবাড়ি কোল বেসিনে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন হবে সরকারের আরেকটা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত – বর্ণমালা টেলিভিশন

নিউজ ডেক্স
প্রকাশিতঃ ১৮ আগস্ট, ২০২৬
৫:১০ পূর্বাহ্ণ
2 ভিউ

ফুলবাড়ি কোল বেসিনে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন হবে সরকারের আরেকটা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৮ আগস্ট, ২০২৬ | ৫:১০ 2 ভিউ
আজকে একটা নিউজে চোখ আটকে গেলো। সরকার ফুলবাড়ি কোল বেসিনে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন করতে আগ্রহী। এশিয়া এনার্জি একবার এই পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন করতে উদ্যোগ নিয়েছিলো। জনতার আন্দোলনে তা ভেস্তে যায়। কিন্তু এশিয়া এনার্জি তাদের আশা ছাড়েনি। এত বছরেও তারা তাদের এজেন্ট নিয়োগ দিয়ে রেখেছিলো। পাশেই বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির উত্তোলন কার্যক্রম চলমান আছে। যদিও তা আন্ডারগ্রাউন্ড পদ্ধতিতে উত্তোলন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এই কয়লাখনি সম্প্রসারণের জন্য সরকার সম্ভাব্যতা যাচাই করেছিলো। সৌভাগ্যবশত এই প্রজেক্টের সাথে আমি সংযুক্ত ছিলাম। ফলে এই বিষয়ে আমার কিছু জানাশোনা আছে। বর্তমান কয়লাখনির দক্ষিন পাশ আন্ডারগ্রাউন্ড মাইনের জন্য উপযুক্ত। উত্তর পাশের বিশাল অংশ উন্মুক্ত পদ্ধতি ছাড়া উপায় নেই। কারণ কয়লার লেয়ার খুব উঁচুতে। ফুলবাড়ি এলাকার কয়লার লেয়ার ৩০০ মিটারের কাছাকাছিতে। যা কখনো আন্ডারগ্রাউন্ড পদ্ধতিতে সম্ভব নয়। উন্মুক্ত পদ্ধতি ছাড়া উপায় নেই। উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন করতে হলে ফুলবাড়ির বিশাল অংশজুড়ে মানুষজনকে অন্যত্র সরিয়ে নিতে হবে। একটা অংশ খনন করে মাটি একজায়গায় রাখতে হবে। কয়লা উত্তোলনের পর তা আবার ভরাট করা হবে। তবুও তা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবেনা। একটু নিচু হয়ে থাকবে। যেখানে চাষাবাদ সম্ভব নয়। তাহলে প্রশ্ন আসে এত বিপুল সংখ্যক মানুষকে কোথায় স্থানান্তর করা হবে? এত জায়গা কি আছে? হ্যাঁ আছে তবে তা আবাদি জমি। যেখানে ফসল হয়। এই অঞ্চল হল আমাদের শস্যভাণ্ডার। ফলে শস্যভাণ্ডার ধ্বংস করতে হবে। ফুলবাড়ির যে অংশে কয়লার বেসিন তাতে ফসলি জমি যেমন আছে তেমনি পুরা ফুলবাড়ি উপজেলা সদরকে সরিয়ে নিতে হবে। তা কি আদৌ সম্ভব? আমাদের কয়লা অনেক উন্নতমানের। বিটুমিনাস কয়লা। আমাদের এক টনের বিপরীতে ভারতীয় কয়লা দুই টন ব্যবহার করা লাগে। সাথে পাওয়া যাবে লাইম স্টোন। যা সিরামিক শিল্পে কাজে লাগানো যাবে। কিন্তু এইসব কয়লা আর লাইমস্টোন ব্যবহারের সুষ্ট পরিকল্পনা কি আমাদের আছে? তার পাশেই রয়েছে দীঘিপাড়া কোল বেসিন। যেখানে বিপুল কয়লা মজুদ আছে। সেখানে আন্ডারগ্রাউন্ড পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন করলে দেশের কয়লার চাহিদা মেটানো সম্ভব। অথচ সেখানে সরকারের কোন পরিকল্পনা নাই। উন্মুক্ত কয়লা উত্তোলনে দীর্ঘমেয়াদি অনেক ক্ষতির কারণ রয়েছে। পরিবেশের বিরুপ প্রতিক্রিয়া, বিশাল এলাকাজুড়ে মানুষজনকে উচ্ছেদ এবং তাদের বাস্তুসংস্থান করার জন্য আবাদী জমির অধিগ্রহন। শস্যভাণ্ডারকে ধ্বংস করাও বড় ধরনের ক্ষতি। উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের ফলে পানির লেয়ার নিচে নেমে যাবে। ফলে এই অঞ্চলের সুপেয় পানির অভাব দেখা দিবে। এতসব ক্ষতির পরেও বর্তমান কয়লাখনি এবং দীঘিপাড়ায় আন্ডারগ্রাউন্ড পদ্ধতির সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সেখানকার কয়লা উত্তোলন না করে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা তোলার পরিকল্পনা কেনো? তবে কি সে আগের করা এশিয়া এনার্জির ভাগবাটোয়ারা এখানে বড় নিয়ামক ভূমিকা রাখছে? যদি তাই হয় তবে তা দেশের জন্য বুমেরাং হবে। এটা হবে সরকারের আত্মঘাতী আরেকটা সিদ্ধান্ত। যদি সত্যি সত্যি সরকার এটা বাস্তবায়ন করতে চায় তবে আরেকটা ফুলবাড়ি ট্রাজেডি হয়তো অপেক্ষা করছে। আমাদের যা খনিজ সম্পদ আছে তার বেশিরভাগ দিনাজপুর অঞ্চলে। কয়লা , আকরিক লোহা ও চুনাপাথর আছে সেখানে। আমাদের কয়লাকে বলা হয় বিটুমিনাস কয়লা। যার দাহ্য ক্ষমতা অনেক বেশি। ফলে অনেক কম পরিমাণ ব্যবহারে বেশি ফল পাওয়া যায়। বর্তমানে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনিতে কয়লার উত্তোলন হয়। এই বেসিনে মোট মজুদ আছে ৪২০ মিলিয়ন মেট্রিক টন কয়লা। বর্তমান খনির উত্তর এবং দক্ষিণ পাশে ১৯০ মিলিয়ন মেট্রিক টন মজুদ আছে। যা এখনো উত্তোলন করার কার্যক্রম শুরু হয়নি। এই কয়লাখনিকে সম্প্রসারণের জন্য বিগত সরকার সম্ভাব্যতা যাচাই করেছিলো। বিরামপুর থানায় একটা দীঘিপাড়া নামক জায়গা আছে। সেখানে সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়। সেখানে ৭০৬ মিলিয়ন মেট্রিক টন কয়লা আছে বলে অনুমান করা হয়। এই দুই জায়গার কয়লা আন্ডারগ্রাউন্ড পদ্ধতিতে উত্তোলন সম্ভব। এই খনি বাস্তবায়ন হলে আমাদের চাহিদা মেটানো যায় সহজে। ফুলবাড়ি বেসিনের কয়লা উত্তোলন উন্মুক্ত পদ্ধতি ছাড়া উপায় নাই। তা করতে গেলে মিনিমাম ৪০-৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকা অধিগ্রহন করা লাগবে। যার অধিকাংশ আবাদি জমি আর ফুলবাড়ি শহর। আমরা বর্তমান কয়লাখনি সম্প্রসারণ ফিজিবিলিটি স্টাডি করেছিলাম। সেই সময়ের দুইটা ঘটনা শেয়ার করি। ঘটনা ১ঃ কয়লখনির উত্তরে চৌহাটি গ্রাম। সেখানে আমাদের টিম সার্ভে করতে যায়। গ্রামবাসি সার্ভের ফলে তাদের উচ্ছেদ হবার ভয়ে সার্ভে করতে দেয়নি। পরে একদিন তাদের সাথে বসি। মিনিমাম ৩০০ মানুষ মাঠে জড়ো হয়। তাদের বিভিন্নভাবে বুঝিয়ে শুনিয়ে সার্ভে সম্পন্ন করা হয়। সে কাজটা যে কত কষ্টসাধ্য ছিলো তা একমাত্র আমিই জানি। কারণ পুরা বিষয়টা আমাকেই মীমাংসা করতে হয়েছিলো। ঘটনা ২ঃ দক্ষিণ এবং উত্তর পাশে আমরা সিসমিক সার্ভে করি। সিসমিক সার্ভের জন্য আমাদের কিছু জায়গা পর পর ডেটোনেটর ব্লাস্ট করা লাগছে। ফলে এই এলাকার কাঁচা ঘরবাড়িতে কিছু ফাটল দেখা দেয়। তাও অতি সামান্য। তারজন্য পুরা এলাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার দাবীতে খনি অবরোধ করে। পুরা খনির কর্মকর্তা সহ আমরা ২৩ দিন অবরুদ্ধ ছিলাম। পরে সরকার ,কয়লাখনি কর্তৃপক্ষ দেনদরবার করে তাদের সাড়ে সাত কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিয়ে খনি চালু করে। এবার ভাবুন ফুলবাড়ি শহর ,আশপাশের গ্রাম এবং ফসলি জমি অধিগ্রহণ করতে কতটা বেগ পোহাতে হবে। আমার মনে হয় জনগণ তা কখনো মেনে নিবেনা। ফলে আমাদের জন্য আরেকটা বড় ধরনের ট্রাজেডি হয়তো অপেক্ষা করছে। সরকার যদি আসলে কয়লা তুলতে চায় তবে বর্তমান খনির দক্ষিণ পাশ সম্প্রসারণ আর দীঘিপাড়া নতুন খনি বাস্তবায়ন করে তবে আমাদের চাহিদা মিটানো সম্ভব। এখানে উল্লেখ্য যে, বড়পুকুরিয়ার তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ থাকার কারণে বর্তমান খনির উৎপাদিত কয়লা অব্যবহৃত হয়ে পড়ে আছে। কয়লার স্তুপ বাড়ছে। স্বপ্রজ্বলনের কারণে জ্বলে যাচ্ছে এবং বৃষ্টিতে ধুয়ে যাচ্ছে কয়লা। যাতে নষ্ট হচ্ছে অনেক প্রাকৃতিক সম্পদ। আগে এটার সুষ্ট ব্যবহার দরকার। তারপর অন্যচিন্তা করা উচিত। সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হোক। -আবু হেনা মোস্তফা কামাল (ফুলবাড়িয়া কয়লাখানির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন সহ-পরামর্শক)

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
‘ভারতের সাথে দেশের স্বার্থবিরোধী চুক্তি’ বয়ান সৃষ্টি করা মানুষগুলো কেন ‘মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি’ নিয়ে নীরব? ‘শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ একান্তই ভারতীয় আদালতের বিষয়, ভারত সরকারের কিছু করার নেই’, অবস্থান স্পষ্ট দিল্লির বাদামতলী ঘাট: আওয়ামী লীগ আমলে ছিল সরকারি ফি ১০০ টাকা, এখন বিএনপি নেতাদের চাঁদা ২-৫ হাজার, নিচ্ছে পুলিশও নিয়মিত কর্মকর্তাদের ওপর আস্থাহীনতা, আমলাতন্ত্র নিয়ন্ত্রণে চুক্তিভিত্তিক কর্মকর্তাদের ওপর ভরসা সরকারের বগুড়ার প্রথম জুলাই শহীদের মা ১৬ মামলার আসামি হেরোইন ও বিভিন্ন মাদকসহ গ্রেপ্তার জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলার উন্নতিতে আরও সময় লাগবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফুলবাড়ি কোল বেসিনে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন হবে সরকারের আরেকটা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হাটহাজারীতে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি বর্ষণ: আহত-১, এলাকায় চরম আতঙ্ক সিলেটে ট্রিপল মার্ডার: গ্রেপ্তার বাবুলের ৪ দিনের রিমান্ড ঢাবির ফজলুল হক হলে ছাত্রদল-শিবিরের হাতাহাতি একাদশের ভর্তি নীতিমালা চূড়ান্ত করতে কমিটি ঢাকার সড়কে নামছে ‘পিংক’ বাস, চালক-কন্ডাক্টর নারী গাজায় যুদ্ধবিরতি: হামাসের সঙ্গে ট্রাম্পের জামাতার বৈঠক সূত্রাপুরে শ্রমিক মিতুল হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার ১০ গল্পটা ঢাকাই সিনেমার দুই ‘মালকা বানুর’র অবিবাহিত বন্ধুকে যে কথাগুলো বলবেন না ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবের নতুন নির্দেশনা ‘ম্যাচিউরড’ পুরুষ স্ত্রীকে এ কথা কখনও বলেন না কাঠমান্ডুতে বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি: বিকল্প ফ্লাইটে ফিরছেন ১২৭ যাত্রী অদৃশ্য বিপদ থেকে মুক্তির দোয়া