নিউজ ডেক্স
আরও খবর
৫ বছর আগেই ‘জাস্টিস ফর হাদি’ গ্রুপ: হাদি কিলিং মিশিন কি পুরনো ‘মেটিক্যুলাস ডিজাইন’?
যেমন খুশি তেমন সাজো প্রতিযোগিতা? আবারও বদলে গেল পুলিশের পোশাক
অনিয়ম-অব্যবস্থাপনায় অতিষ্ঠ নগরবাসী: আওয়ামী লীগের মিছিল ক্রমশ দীর্ঘতর: বদলাচ্ছে রাজনৈতিক সমীকরণ
শিশুকে ধর্ষণের দায়ে কৃষকের যাবজ্জীবন
ছয় দেশের ৭০ জন চিহ্নিত, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আতিউরসহ ১০ কর্মকর্তা
হত্যা মামলায় ড. আবুল বারকাতের জামিন
ইন্টারপোলের রেড নোটিশে নেই বেনজীর আহমেদের নাম, গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্ন
শত শত কোটি টাকায় ভাসতে থাকা জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনে আজ তিনমাস ধরে বেতন বন্ধ
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের সহায়তায় গঠিত ‘জুলাই শহিদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন’ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে সরকারি কোষাগার থেকে কোটি কোটি টাকার অনুদান পেয়েছে। অথচ সেই ফাউন্ডেশনেই গত তিন মাস ধরে কর্মীদের বেতন দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে উঠেছে আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির একাধিক গুরুতর অভিযোগ।
একশ কোটি টাকার সরকারি অনুদান
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে গণ-অভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের সহায়তার লক্ষ্যে গঠিত জুলাই শহিদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ত্রাণ তহবিল থেকে একশ কোটি টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছিল। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে আসা এই বিপুল অর্থ ফাউন্ডেশনটির কার্যক্রম পরিচালনা, আহতদের চিকিৎসা ও শহিদ পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল বলে জানা যায়। এর বাইরেও অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে ফাউন্ডেশনটিতে আরও অনুদান যুক্ত হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, যার ফলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পুরো মেয়াদে প্রতিষ্ঠানটি আর্থিকভাবে যথেষ্ট সচ্ছল ছিল।
তবু তিন মাস ধরে বেতন বন্ধ
এত বিপুল অনুদান পাওয়া এই ফাউন্ডেশনেই কর্মরত কর্মীরা গত তিন মাস ধরে কোনো বেতন পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। সরকারি কোষাগার থেকে শত কোটি টাকার বেশি অনুদান প্রাপ্তির পরও প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কর্মীদের বেতন আটকে থাকার বিষয়টি প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে— এত বিপুল অর্থ এলো কোথায়, খরচ হলো কীভাবে, আর কর্মীদের বেতনের মতো মৌলিক দায় কেন অপরিশোধিত থেকে গেল।
শহিদের তালিকায় ভুয়া নাম অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ
ফাউন্ডেশনটির বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো, সরকারি জুলাই শহিদ গেজেটে ভুয়া নাম অন্তর্ভুক্ত করে শহিদের সংখ্যা কৃত্রিমভাবে বাড়ানো হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকৃতপক্ষে গণ-অভ্যুত্থানে নিহত নন এমন ব্যক্তিদের নাম শহিদের তালিকায় তুলে দিয়ে সরকারি অনুদান ও স্বীকৃতি আদায় করা হয়েছে। এর ফলে যে আসলে জুলাই আন্দোলনে প্রাণ দিয়েছেন, ক্ষতিপূরণ পাওয়ার কথা যাদের প্রকৃত প্রাপ্য, তাদের অনেকেই বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিজ লোকদের শহিদ দেখিয়ে অনুদান আত্মসাতের অভিযোগ
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ফাউন্ডেশন সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি তাদের নিজস্ব পরিচিত বা ঘনিষ্ঠ লোকজনকে শহিদ হিসেবে দেখিয়ে সরকারি অনুদানের টাকা আত্মসাৎ করেছেন, এমনকি বাস্তবে নিহত হওয়া পরিবারগুলোকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ না দিয়ে এই অর্থ আত্মসাতের প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে। এই অভিযোগ সত্য হলে তা শুধু আর্থিক দুর্নীতিই নয়, বরং জুলাই আন্দোলনে শহীদ হওয়া পরিবারগুলোর প্রতি একটি গুরুতর অন্যায়ও বলে বিবেচিত হতে পারে।
আহতদের চিকিৎসা খরচ আত্মসাতের অভিযোগ
মাঠ পর্যায় থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযোগ উঠেছে, জুলাই আন্দোলনে আহত ব্যক্তিদের জন্য বরাদ্দ চিকিৎসা খরচের অর্থও যথাযথভাবে তাদের কাছে পৌঁছায়নি, বরং এই অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহতদের চিকিৎসা সহায়তার জন্য নির্ধারিত অর্থ যদি প্রকৃত প্রাপকদের কাছে না পৌঁছায়, তবে তা ফাউন্ডেশনের মূল উদ্দেশ্যকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।
জবাবদিহিতার প্রশ্ন
জুলাই শহিদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব ও আস্থা নিয়ে গঠিত একটি প্রতিষ্ঠান হলেও, এর বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগগুলো— শহিদ তালিকায় ভুয়া নাম অন্তর্ভুক্তি, অনুদানের অর্থ আত্মসাৎ, চিকিৎসা খরচ আত্মসাৎ এবং নিজস্ব কর্মীদের বেতন না দেওয়া— প্রতিষ্ঠানটির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে গভীর সংকটের ইঙ্গিত দেয়। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় গঠিত একটি কল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান যদি প্রকৃতপক্ষে এই অনিয়মে জড়িত থাকে, তাহলে তা শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, বরং জুলাই আন্দোলনের প্রকৃত শহিদ ও আহতদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতার প্রশ্নকেও সামনে নিয়ে আসে।
এই অভিযোগগুলো নিয়ে ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ বা সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। বিষয়টি স্বাধীনভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ্যে আনার দাবি জোরদার হচ্ছে, যাতে প্রকৃত শহিদ পরিবার ও আহতরা তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত না হন এবং জনগণের অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হয়।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।