নিউজ ডেক্স
আরও খবর
রোহিঙ্গা-ক্যাম্পে দিনদিন বাড়ছে সহিংসতা: মসজিদে যাওয়ার পথে উগ্রবাদী সংগঠন আরসা কমান্ডারকে গুলি করে হত্যা
নোয়াখালীতে গভীর রাতে ব্যবসায়ীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি, আহত ৫
ভারতীয় গরু নিয়ে টানাটানি: কুড়িগ্রামে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ
যশোরে পুলিশের যৌথ অভিযানে চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘ডেভিড ইমন’সহ গ্রেপ্তার ৪
হাটহাজারীতে গুলিবর্ষণে চলন্ত গাড়ির পেছনের সিট ঝাঁঝরা, ভাগ্যক্রমে বাঁচলেন সাংবাদিক
জুলাই সহিংসতার চট্টগ্রাম ট্র্যাজেডি: ভুয়া আসামি, সাজানো এজাহার, বিদেশে থেকেও আসামি
রামুর বনাঞ্চলে তাণ্ডব: জবরদখল উচ্ছেদ করতে গিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলায় রক্তাক্ত ৫ বনকর্মী
কক্সবাজার হোটেলের কাছেই খালি মাঠে কর্মচারীর মরদেহ উদ্ধার, শরীরে আঘাতের চিহ্ন
কক্সবাজারের পর্যটন অঞ্চল ইনানী সৈকত সংলগ্ন মাঠে এক হোটেল মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত যুবকের নাম আবদুল আজিজ (২৭)। সুরতহাল প্রতিবেদনে নিহতের শরীরে একাধিক আঘাত ও জখমের স্পষ্ট চিহ্ন পাওয়ায় এটি সাধারণ কোনো মৃত্যু নয়—বরং একটি ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ বলে তীব্র দাবি তুলেছে নিহতের পরিবার।
গতকাল ২৯শে জুলাই, বুধবার দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে ইনানী সৈকতের পূর্ব পাশে অবস্থিত বিলাসবহুল পাঁচতারকা হোটেল ‘বে-ওয়াচ’-এর স্টাফ কোয়ার্টারের উত্তর-পূর্ব কোণের খালি জায়গা থেকে উখিয়া থানা পুলিশ আজিজের লাশ উদ্ধার করে।
নিহত আজিজ উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের জুম্মাপাড়ার বাসিন্দা রশিদ আহমদের ছেলে। তিনি বিগত প্রায় এক বছর ধরে ওই হোটেলে গরুর খামারের পরিচর্যার দায়িত্বে ছিলেন এবং হোটেলেরই স্টাফ কোয়ার্টারে বসবাস করতেন।
আজ ৩০শে জুলাই, বৃহস্পতিবার দুপুরে ময়নাতদন্তের জন্য পুলিশ নিহতের লাশ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
ঘটনার বর্ণনায় নিহতের স্ত্রী সায়কা ইয়াছমিন অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে জানান, গত মঙ্গলবার দুপুরে আজিজ বাড়ি থেকে হোটেলের উদ্দেশ্যে বের হন। বুধবার বেলা ১১টার দিকে তার সঙ্গে শেষবারের মতো মুঠোফোনে কথা হয়েছিল। এরপর রাত একটার দিকে মর্মান্তিক খবরটি পান তিনি।
তিনি আরো বলেন, “আমার স্বামীকে মারধর অথবা শ্বাসরোধ করে হত্যা করার পর খালি মাঠে ফেলে রেখে যাওয়া হয়েছে। আমাদের সংসারে ছোট ছোট তিনটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। ওদের নিয়ে এখন আমি কোথায় দাঁড়াব?”
পরিবারের পক্ষ থেকে অবিলম্বে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
হোটেল বে-ওয়াচের উপমহাব্যবস্থাপক এনায়েত উল্লাহ ঘটনার বিষয়ে জানান, আজিজ স্থানীয় লোক ছিলেন এবং তাদের খামার দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন। তবে তাঁর এই আকস্মিক ও রহস্যজনক মৃত্যু কীভাবে হলো, সে বিষয়ে কোনো ধারণা নেই বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার জানান, “স্টাফ কোয়ার্টারের পাশের খালি জায়গা থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁর শরীরে একাধিক ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিক তদন্ত চলছে, তবে ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরেই মৃত্যুর মূল কারণ পরিষ্কার হওয়া যাবে।”
