নিউজ ডেক্স
আরও খবর
চাঁপাইনবাবগঞ্জে সাংবাদিক অ্যাসোসিয়েশনের ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত।
সৌদিতে আগুনে পুড়ে নিহত আত্রাইয়ের ৭ প্রবাসীর জানাজা সম্পন্ন
পুকুর থেকে কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার, পানিতে ডোবার লক্ষণ মেলেনি
রংপুরে চার খুন: ‘পুলিশ ভুল সুইচ চাপায় পানিতে সব ধুয়ে যায়, কোনো ষড়যন্ত্র নেই’—ডিবি
মাদারীপুরে পরিত্যক্ত ঘরে বিকট শব্দে ফাটল বোমা, এলাকাজুড়ে চরম আতঙ্ক
বরিশালে লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন: দিনে-রাতে ১০-১১ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন
মোবাইল ফোনে ভিডিও দেখিয়ে ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ২ কিশোর
নারায়ণগঞ্জে হারিয়ে যাচ্ছে একের পর কিশোরী, নিখোঁজ অর্ধ শতাধিক
নারায়ণগঞ্জে কিশোরীদের নিখোঁজের ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে। জেলার আড়াইহাজার উপজেলাতেই গত তিন মাসে ৪০ কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। একের পর এক কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় পরিবারগুলোর মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন মাসে আড়াইহাজার থানায় কিশোরী নিখোঁজের ঘটনায় ৪০টি জিডি হয়েছে।
এসব ঘটনায় নিখোঁজ কিশোরীদের বয়স মূলত ১৪ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে। নিখোঁজের ঘটনাগুলোর কারণ অনুসন্ধানে পুলিশ কাজ করছে।
সর্বশেষ গত ২৭শে আগস্ট, বৃহস্পতিবার এক দিনেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে চার কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। তাদের পরিবারের সদস্যরা থানায় পৃথক জিডি করেন।
পরে অনুসন্ধানে দুজনের অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হয় পুলিশ। বাকি দুজনের সন্ধানেও অনুসন্ধান চলছিল।
আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সবজেল হোসেন জানান, গত তিন মাসে কিশোরী নিখোঁজের ঘটনায় ৪০টি জিডি হয়েছে। প্রতিটি ঘটনা গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র বলছে, নিখোঁজ কিশোরীদের অনেকের ক্ষেত্রেই মুঠোফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের বিষয়টি সামনে এসেছে।
বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা মুঠোফোন অ্যাপের মাধ্যমে তরুণদের সঙ্গে পরিচয় ও সম্পর্কের পর কেউ কেউ বাড়ি ছেড়ে যাচ্ছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে নিখোঁজ সব কিশোরীর ক্ষেত্রে একই কারণ কাজ করছে—এমনটি বলছে না পুলিশ। কেউ স্বেচ্ছায় বাড়ি ছেড়েছে কি না, নাকি কোনো ধরনের প্রলোভন, প্রতারণা কিংবা চাপের শিকার হয়েছে—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কিশোরীদের নিখোঁজ হওয়ার পেছনে পারিবারিক পরিবেশও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কিশোর বয়সে আবেগ, পরিবারের সঙ্গে দূরত্ব, অভিভাবকের অতিরিক্ত শাসন এবং সম্পর্কের বিষয়টি পরিবারের কাছে প্রকাশ করতে না পারার মতো কারণও অনেক সময় কিশোরীদের বাড়ি ছাড়ার দিকে ঠেলে দিতে পারে।
আড়াইহাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুর রহমান বলেন, শুধু মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া কিংবা কঠোর শাসনের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। কিশোর-কিশোরীদের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলা এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার পাশাপাশি মুঠোফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিরাপদে ব্যবহারের বিষয়ে সচেতন করতে হবে।
এদিকে একসঙ্গে এত কিশোরীর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে, নিখোঁজ হওয়ার পর তাদের কতজনকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং কতজন এখনো পরিবারের কাছে ফেরেনি।
৪০টি জিডির মধ্যে কতটি ঘটনার নিষ্পত্তি হয়েছে, কতজনকে কোথা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে কিংবা কতটি ঘটনায় অপরাধের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে—এ বিষয়ে বিস্তারিত পরিসংখ্যান এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো কিশোরী নিখোঁজ হলে দ্রুত থানায় জানানো জরুরি। একই সঙ্গে তার সাম্প্রতিক ছবি, মুঠোফোন নম্বর, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট এবং নিখোঁজ হওয়ার আগে কার সঙ্গে যোগাযোগ ছিল—এসব তথ্য পুলিশকে দিলে অনুসন্ধানে সহায়তা হতে পারে।
তিন মাসে ৪০ কিশোরীর নিখোঁজ হওয়ার তথ্য শুধু আড়াইহাজার নয়, পুরো নারায়ণগঞ্জের কিশোরীদের নিরাপত্তা নিয়েই উদ্বেগ তৈরি করেছে।
নিখোঁজের প্রতিটি ঘটনা আলাদাভাবে তদন্তের পাশাপাশি কিশোরীদের অনলাইন নিরাপত্তা, পারিবারিক যোগাযোগ এবং সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তাও সামনে এসেছে।
