নিউজ ডেক্স
আরও খবর
২১ বছর পর ওয়ানডে-তে অস্ট্রেলিয়া বধ
১৯৭০ বিশ্বকাপ ফাইনালের স্মৃতিচারণ করলেন কিংবদন্তি ব্রাজিলিয়ান রিভেলিনো
বিসিবির ২৫ পরিচালকের পরিচয় জেনে নিন
বিশ্বকাপ নিয়ে হাতি গরিলার ভবিষ্যদ্বাণী!
মেসিহীন আর্জেন্টিনাকে জেতালেন লাউতারো ও সিমিওনে
বিশ্বকাপের আগে তারকাকে হারানোর শঙ্কায় জার্মানি
আজকের খেলা: ৬ জুন ২০২৬
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ইতিহাস গড়ার সামনে টাইগাররা
মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। স্বাগতিকদের লক্ষ্য এবার নতুন ইতিহাস গড়া। ক্রিকেটের অন্যতম পরাশক্তি দলটির বিপক্ষে এবার অবশেষে জয় পাওয়ার এক তীব্র ও বাস্তব বিশ্বাস নিয়েই মাঠে নামবে বাংলাদেশ দল।
দুই দল শেষবার দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজে মুখোমুখি হয়েছিল ২০১১ সালে, যেখানে অস্ট্রেলিয়া ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নিয়েছিল। দীর্ঘ ১৫ বছর পর এখনকার পরিস্থিতি অনেকটাই আলাদা।
মেহেদী হাসান মিরাজের বাংলাদেশ দল ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টানা তিনটি হোম সিরিজ জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে এই লড়াইয়ে নামছে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া এখানে এসেছে পাকিস্তানের কাছে সিরিজ হারের স্মৃতি নিয়ে, এবং তাদের দলের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী খেলোয়াড়ও এই সফরে নেই।
বিশ্বকাপজয়ী পেস ত্রয়ী প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক ও জশ হ্যাজলউড শুরু থেকেই এই সফরের দলে ছিলেন না। এরপর গোড়ালির চোটে অধিনায়ক মিচেল মার্শ দল থেকে ছিটকে যাওয়ায় এবং ট্রাভিস হেড ব্যক্তিগত কারণে ছুটি নেওয়ায় সফরকারীরা আরও কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে।
অন্তর্বর্তীকালীন অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জশ ইংলিশ।
সামনে থাকা এই দারুণ সুযোগটি নিয়ে নিজের উচ্ছ্বাস মোটেও আড়াল করার চেষ্টা করেননি মিরাজ। সোমবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের সেরা ক্রিকেট খেলার চেষ্টা করব। আমি খুবই আত্মবিশ্বাসী কারণ এই মুহূর্তে সবাই ফর্মে আছে—ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের পর ব্যাটার এবং বোলাররা সবাই খুব ভালো ছন্দে রয়েছে। এটা আমাদের জন্য মস্ত বড় সুযোগ, বিশেষ করে অনেক বছর পর আমরা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলছি। যেহেতু খেলা আমাদের নিজেদের মাঠে, তাই এই সুবিধার সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে পারলে তা হবে একটি বিশাল অর্জন।’
অস্ট্রেলিয়ার দলে বড় বড় তারকাদের অনুপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও, সফরকারীদের হালকাভাবে না নেওয়ার ব্যাপারে সতর্ক ছিলেন মিরাজ।
তিনি জানান যে বাংলাদেশ দল মাত্র গত রবিবার জানতে পেরেছে যে মার্শ ও হেড খেলছেন না। তবে তাদের দল প্রতিপক্ষকে পূর্ণ সম্মান দিয়েই এই সিরিজে মাঠে নামছে।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমরা তাদের একটি শক্তিশালী স্কোয়াডসহ অত্যন্ত ভালো দল হিসেবেই বিবেচনা করছি। তাদের নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা না করে আমরা আমাদের সর্বোচ্চ স্তরের পারফরম্যান্স করার চেষ্টা করব। আমাদের পরিকল্পনা একদম সহজ—ভালো ক্রিকেট খেলা এবং ম্যাচ জেতা।’
এই সিরিজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হতে যাচ্ছে মিরপুরের পিচের ধরন।
সাম্প্রতিক হোম সিরিজগুলোতে পিচে ঘাস রাখা হয়েছিল, যার ফলে স্পিনের পাশাপাশি পেস এবং সিম মুভমেন্টও কার্যকর ভূমিকা রেখেছে।
ইংলিশ জানান যে অস্ট্রেলিয়া স্থানীয় কন্ডিশন নিয়ে তাদের বাড়ির কাজ সেরে এসেছে।
তিনি বলেন, ‘এখানে নিউজিল্যান্ড সিরিজে উইকেটে কিছুটা বেশি ঘাস দেখা গিয়েছিল—সেটি স্পিন-সহায়কের চেয়ে সিম-বান্ধব ছিল বেশি। আমরা সেটা মাথায় রাখছি, তবে যেকোনো পরিস্থিতির জন্যই আমরা প্রস্তুত।’
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের অতীত রেকর্ড খুব একটা সমৃদ্ধ না হলেও, স্বাগতিকরা যে তাদের কঠিন পরীক্ষা নেবে তা স্বীকার করেছেন ইংলিশ।
তিনি পরিশেষে বলেন, ‘বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলা সবসময়ই চ্যালেঞ্জিং। তারা খুবই ভারসাম্যপূর্ণ একটি দল এবং নিজেদের চেনা কন্ডিশনে খেলছে। তবে আমাদের নিজেদের ওপর দারুণ বিশ্বাস আছে—এটি সত্যিই একটি দুর্দান্ত সিরিজ হতে যাচ্ছে।’

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।