নিউজ ডেক্স
আরও খবর
আইএফএবের স্বীকারোক্তি: আর্জেন্টিনার বিপক্ষে এমবোলার লাল কার্ডটি ভুল ছিল
অধিনায়কত্ব হারাচ্ছেন মিরাজ, ওয়ানডের নেতৃত্বও পাচ্ছেন লিটন
বিশ্বকাপ ফাইনালের পরেই রেফারিং ছাড়লেন স্লাভকো ভিনচিচ
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কাব্রালের বাঁকানো শট ‘বিশ্বকাপের সেরা গোল’
ভারতের বাংলাদেশ সফর ঝুলে থাকার আবহেই মিরাজের সাক্ষাৎকার: বরফ গলবে কি?
বিশ্বকাপ ফাইনালে পারাদেস কান্ডঃ লাল কার্ডের তথ্য প্রযুক্তিগত ত্রুটি, তবে ম্যাচশেষে সংঘর্ষ তদন্তে ফিফা’র কমিটি
ব্যালন ডি’অর ২০২৬: বিশ্বকাপ ফাইনালের পারফরম্যান্সে ধাক্কা খেলেন মেসি, এগিয়ে ইয়ায়ামাল, হ্যারি কেইন
ফ্রান্সের কোচ হয়ে জিদান বললেন, ‘এটাই আমি চাইছিলাম’
ফরাসি ফুটবলে বহুল প্রতীক্ষিত একটি অধ্যায়ের সূচনা হলো। দিদিয়ে দেশম সরে দাঁড়ানোর পর প্রত্যাশা মতোই ফ্রান্স জাতীয় দলের নতুন কোচ হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন জিনেদিন জিদান। মঙ্গলবার ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন (এফএফএফ) আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
৫৪ বছর বয়সী জিদানের জন্য জাতীয় দলের এই হটসিট একেবারেই নতুন নয়—মানসিকভাবে তিনি বহুদিন ধরেই এখানে আসার অপেক্ষায় ছিলেন। বলা চলে, ফ্রান্স ডাগআউটের চাবিটা তাঁর হাতে ওঠার প্রহর গুনছিলেন ফুটবলপ্রেমীরাও।
২০১২ সালে শুরু হওয়া দেশম যুগের অবসান ঘটেছে চলতি মাসের শুরুতে, বিশ্বকাপে দল চতুর্থ হওয়ার পর। এই দেশমের হাত ধরেই ২০১৮ সালে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ছোঁয় ফরাসিরা, আর ২০২২ সালে খেলে রোমাঞ্চকর ফাইনাল।
প্যারিসে এফএফএফের সদর দপ্তরে এক জমকালো আয়োজনে জিদানকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। অনুভূতি জানাতে গিয়ে এই ফরাসি কিংবদন্তি বলেন, ‘ফ্রান্সের কোচ হতে পারাটা আমার জন্য অনেক বড় আনন্দের। সত্যি বলতে, ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। ভেতরে প্রচণ্ড আবেগ কাজ করছে, তবে নিজেকে সামলে রাখার চেষ্টা করছি। এই চ্যালেঞ্জটা নেওয়ার জন্য আমি পুরোপুরি প্রস্তুত এবং এটাই এখন আমাকে অনুপ্রাণিত করছে।’
১৯৯৮ সালে দেশকে প্রথম বিশ্বকাপ জেতানো দলের সতীর্থ ছিলেন দেশম ও জিদান। পরবর্তীতে রিয়াল মাদ্রিদকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া জিদান ২০২১ সালে ক্লাব ছাড়ার পর থেকেই ফ্রান্স দলের দায়িত্ব নিতে নিজেকে প্রস্তুত করছিলেন।
অন্য কোনো ক্লাবে না যাওয়ার কারণ পরিষ্কার করে জিদান বলেন, ‘আমার মন-প্রাণ শুধু ফ্রান্স দলের কোচ হওয়ার দিকেই ছিল। গত চার-পাঁচ বছরে বিভিন্ন ক্লাব থেকে অনেক প্রস্তাব পেয়েছি, কিন্তু জাতীয় দলের কথা ভেবে সব ফিরিয়ে দিয়েছি।’
খেলোয়াড় হিসেবে ১৯৯৮ বিশ্বকাপ ফাইনালের সেই জোড়া গোল কিংবা ২০০০ সালের ইউরো জয়—সবখানেই ছিলেন মধ্যমণি। তবে কোচ হিসেবে জিদানের অভিজ্ঞতা এযাবৎ কেবল রিয়াল মাদ্রিদ কেন্দ্রিক। আর সেখানেই তিনি গড়েছেন ইতিহাস। ২০১৬ থেকে ২০১৮—টানা তিনবার উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতে আধুনিক ফুটবলে এক অবিশ্বাস্য নজির গড়েছিলেন তিনি।
ক্লাব আর জাতীয় দল পরিচালনার পার্থক্য মানছেন জিদানও, ‘নিঃসন্দেহে এটি একেবারে আলাদা এক অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে। ক্লাবে কোচিং করানোর অভিজ্ঞতা আমার আছে। এটা আমার জন্য নতুন একটা পথ, তবে নতুন কিছুকে আমি ভয় পাই না।’
ফরাসি ফুটবলে লরেন ব্লাঙ্ক ও দিদিয়ে দেশমের পর সাবেক সতীর্থ হিসেবে জাতীয় দলের ডাগআউট সামলানোর তালিকায় যুক্ত হলো জিদানের নাম। জিদানের স্পষ্ট বক্তব্য, ‘এই দলের জয়ের ধারা বজায় রাখতে আমি আমার সবটুকু উজাড় করে দেব। ফ্রান্স দলকে জেতানো আর ওদের সার্ভিস দেওয়া ছাড়া আমার আর কোনো লক্ষ্য নেই।’
জিদানের সঙ্গে আপাতত চার বছরের চুক্তি করেছে ফরাসি ফুটবল বোর্ড। অর্থাৎ স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কোয় অনুষ্ঠেয় ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত এমবাপ্পেদের ডাগআউটে দেখা যাবে তাঁকে।
জিদান-যুগের প্রথম পরীক্ষাটা হবে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর, উয়েফা নেশনস লিগে তুরস্কের বিপক্ষে অ্যাওয়ে ম্যাচে। আর ঘরের মাঠ স্টেড দ্য ফ্রান্সে ফরাসি সমর্থকদের সামনে তিনি প্রথম নামবেন ২ অক্টোবর, ইতালির বিপক্ষে বড় ম্যাচে।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।