নিউজ ডেক্স
আরও খবর
ব্যবসায়ী থেকে চাঁদার টাকা আনতে যাওয়া বিএনপির ২ নেতাকে গণপিটুনি, মুচলেকায় মুক্তি
বাবার সঙ্গে গাঁজা নিতে এসে ১৪ বছরের কিশোরী আটক
অভিযুক্তের বাড়িতে উত্তেজিত জনতার আগুন, নিহত ৩
হাসপাতালে অসুস্থ শিশুর মাকে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ, অতঃপর…
কালিয়াকৈরে শিশু ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা ধামাচাপা দিতে সালিশ, মায়ের মামলা
তাহিরপুর দুই কিশোরের গণধর্ষণের শিকার ৭ বছরের শিশু
ঢাকায় ৩০ ঘণ্টার ব্যবধানে জোড়া দম্পতিসহ ১৩ লাশ
নেত্রকোনায় শিক্ষকের পৈশাচিকতা: ১২ বছরের ছাত্রকে মাসের পর মাস বলৎকার, মাদ্রাসার মোহতামিম পলাতক
পবিত্র শিক্ষাঙ্গনে আবারো এক কলঙ্কজনক অধ্যায় রচিত হলো নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলায়। একটি দ্বীনি মাদ্রাসার মোহতামিমের (প্রধান শিক্ষক) বিরুদ্ধে নিজের ১২ বছরের এক কোমলমতি ছাত্রকে দীর্ঘ ৬-৭ মাস ধরে ভয়ভীতি দেখিয়ে বলৎকার করার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুটির মায়ের দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম হেলাল উদ্দীন ওরফে হাফিজুর রহমান (৩০)। সে দুর্গাপুর উপজেলার কাকৈরগড়া রামনগর গ্রামের বাসিন্দা এবং কেন্দুয়ার রোয়াইলবাড়ি আমতলা ইউনিয়নের একটি মাদ্রাসার মোহতামিম হিসেবে কর্মরত।
গতকাল ১৬ জুন, মঙ্গলবার শিশুটির মা বাদী হয়ে কেন্দুয়া থানায় এই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি রুজু করেন। তবে ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত লম্পট শিক্ষক পলাতক রয়েছে।
যেভাবে প্রকাশ্যে এলো এই ভয়াবহ ঘটনা
মামলার এজাহার ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ১২ জুন (শুক্রবার) দুপুরে ওই শিক্ষার্থী মাদ্রাসার টয়লেটে যায়। সেখান থেকে ফিরতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি দেরি হওয়ায় মায়ের মনে সন্দেহের দানা বাঁধে। মা তখন ছেলেকে পরম মায়ায় জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে একপর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে শিশুটি। সে জানায়, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক হেলাল উদ্দিন তাকে নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে যৌন নির্যাতন করে আসছিল। এমনকি গত শুক্রবারও তাকে মাদ্রাসার একটি নির্জন কক্ষে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। এই পাশবিকতার কথা কাউকে জানালে তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল।
বিষয়টি জানার পর শিশুটির মা প্রথমে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হন এবং পরবর্তীতে গতকাল (মঙ্গলবার) সকালে কেন্দুয়া থানায় গিয়ে হেলাল উদ্দিনকে একমাত্র আসামি করে মামলা ঠুকে দেন।
কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের বক্তব্য
এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার বিষয়ে মাদ্রাসার পরিচালক আনিসুজ্জামান সিদ্দিক রেনু গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ”অভিযুক্ত শিক্ষক বিগত ১২ বছর ধরে আমাদের মাদ্রাসায় কর্মরত আছেন। এর আগে তার বিরুদ্ধে এমন কোনো অভিযোগ আমরা পাইনি। তবে এই ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হলে আমরা তার দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোর শাস্তি দাবি করছি।”
এদিকে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা নিশ্চিত করে কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী মাকসুদ জানান, ”প্রাথমিক তদন্তে আমরা ভুক্তভোগী শিশুর ওপর নির্যাতনের সত্যতা পেয়েছি। মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। আসামি পলাতক থাকলেও তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের চিরুনি অভিযান ও তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। দ্রুতই তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।”
এই ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসী ও অভিভাবক মহল তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং অবিলম্বে ওই ধর্ষক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে ফাঁসির আওতাভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।