নিউজ ডেক্স
আরও খবর
হামের প্রাদুর্ভাবে মৃত্যু হাজারের ঘরে
গণহারে পোলট্রি খামার ডেকে আনছে যে বিপদ!
ডেঙ্গুতে তিনজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪৫৮
সিভিল সার্জনদের নিয়োগে শর্ত স্বাস্থ্যমন্ত্রীরঃ দিতে হবে ই-জিপি ও ডিডিও পাসওয়ার্ড!
২৪ ঘণ্টায় হামে প্রাণ গেল আরও ৫ শিশুর, ৮ শত ছুঁইছুঁই
হামের উপসর্গে আরও ৪ জনের মৃত্যু
ওষুধ ছাড়াই নিয়ন্ত্রণে থাকবে ডায়াবেটিস, জেনে নিন সেই ম্যাজিক উপাদান
খাবারের যে ধারাবাহিকতা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ঠিক রাখবে
আমরা অনেকেই মনে করি, যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে শুধু তাদেরকেই রক্তে শর্করার মাত্রার দিকে নজর দিতে হবে। তবে ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। খাবার গ্রহণের পর রক্তে গ্লুকোজের মাত্রায় যে পরিবর্তন আসে তার ওপর নির্ভর করে আপনি সারাদিন কতটা ক্ষুধার্ত, ক্লান্ত বা উদ্যমী বোধ করবেন। এই পরিবর্তনকেই গ্লুকোজ স্পাইক বা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা হঠাৎ বৃদ্ধি পাওয়া বলে।
গ্লুকোজ স্পাইক মানে হলো খাবার খাওয়ার পর রক্তে শর্করার পরিমাণ হঠাৎ বেড়ে যাওয়া। বিশেষ করে এমন খাবার খাওয়া হয় যাতে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ বেশি থাকে যা দ্রুত হজম হয়ে যায়। ফলে শরীর বেশি পরিমাণে ইনসুলিন নিঃসরণ করে যা গ্লুকোজকে রক্ত থেকে শরীরের কোষে পৌঁছাতে সাহায্য করে। শরীরে শর্করা পরিবর্তনের মাত্রা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। এছাড়া কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবারের সঙ্গে আপনি আর কী খাচ্ছেন, তার ওপরও নির্ভর করে।
ভারতের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. অলোক চোপড়া ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্টের মাধ্যমে গ্লুকোজের মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়া (গ্লুকোজ স্পাইক) এবং খাবার খাওয়ার ধারাবাহিকতা কীভাবে এতে প্রভাব ফেলতে পারে, সে বিষয়ে তার মতামত জানিয়েছেন। ডা. চোপড়ার মতে, বার বার উচ্চ-গ্লাইসেমিক খাবার খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা ওঠানামার একটি চক্র তৈরি হতে পারে। তিনি বলেন, এর ফলে খাওয়ার পরপরই অনেকের আবার ক্ষুধা অনুভব হতে পারে এবং সেই সঙ্গে তীব্র আকাঙ্ক্ষা, ক্লান্তি বা ঝিমুনি ভাব দেখা দিতে পারে।
এই চিকিৎসক ইনসুলিন নিয়েও আলোচনা করেছেন। তার বক্তব্য হলো, শরীরকে যদি বার বার প্রচুর পরিমাণে ইনসুলিন নিঃসরণ করতে হয়, তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বা ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমে যাওয়ার সমস্যা তৈরি হতে পারে। তবে ডায়াবেটিস একটি জটিল শারীরিক অবস্থা এবং একে কেবল গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার বিষয় দিয়ে পুরোপুরি ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়।
এরপর ডা. চোপড়া খাবার খাওয়ার একটি সহজ নিয়ম তুলে ধরেন। তার মতে,
১. ফাইবার বা আঁশযুক্ত খাবার দিয়ে খাওয়া শুরু করতে হবে। বিশেষ করে পাতে থাকতে শাকসবজি।
২. এরপরে প্রোটিন ও ফ্যাট যুক্ত খাবার খেতে হবে। তবে অবশ্যই স্বাস্থ্যকর ফ্যাট খাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
৩. শর্করা (স্টার্চ) ও চিনিযুক্ত খাবার পরে খেতে হবে। যদি আপনার খাবারে ভাত, রুটি বা অন্য কোনো শর্করাযুক্ত খাবার থাকে, তবে ডা. চোপড়া সেগুলো ফাইবার, প্রোটিন ও ফ্যাট খাওয়ার পরে গ্রহণ করার পরামর্শ দেন।
ডা. চোপড়া আরও বলেন, উচ্চ ফাইবারযুক্ত ও ন্যূনতম প্রক্রিয়াজাত খাবারের ওপর গুরুত্ব দিন। কার্বোহাইড্রেটের সঙ্গে প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট মিলিয়ে খান এবং পরিশোধিত চিনি ও কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ কমিয়ে আনুন।
খাবার খাওয়ার ক্রম মেনে চলা একটি উপকারী অভ্যাস হতে পারে ঠিকই, তবে এটি ডায়াবেটিসের চিকিৎসা বা চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়। আপনার যদি ডায়াবেটিস বা প্রি-ডায়াবেটিস থাকে, তবে আপনার সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক কার্যকলাপ, ওষুধ এবং স্বাস্থ্যগত প্রয়োজনীয়তা সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।
[TheChamp-FB-Comments]