নিউজ ডেক্স
আরও খবর
ফের উত্তপ্ত দিল্লি, যন্তর মন্তরে পুলিশি হামলা
একদিনেই ইলন মাস্কের সম্পদ বাড়ল ৬১ বিলিয়ন ডলার
বিয়ের পাত্র খুঁজতে তরুণীর অভিনব কাণ্ড
যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহারে নতুন বাস্তবতার মুখে কুর্দি বাহিনী
কিয়েভে রাশিয়ার হামলা, লক্ষ্যবস্তু ডাটা সেন্টার; ইন্টারনেট যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ইউক্রেন
জাতিসংঘে ল্যাভরভের হুঁশিয়ারি— দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলে প্রভাব বিস্তার করছে ন্যাটো
নিউইয়র্কে বোয়িংয়ের সঙ্গে বিমানের আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি স্বাক্ষর; জানালেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত
ভেঙে পড়েছে ফ্রান্সের শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ উত্তাল রাজপথ
ফ্রান্সজুড়ে স্কুল শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ আরও সহিংস রূপ নিয়েছে। শুক্রবার বিভিন্ন শহরে শিক্ষার্থীরা আগুন জ্বালিয়ে সড়ক ও স্কুলের প্রবেশপথ অবরোধ করে। কোথাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়া হলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার প্রায় ৪০০ স্কুল বন্ধ ছিল। দেশটির মোট ৩ হাজার ৭০০ উচ্চবিদ্যালয়ের মধ্যে অন্তত ৫৬৪টিতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। সবমিলিয়ে শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।
গত সেপ্টেম্বর প্যারিস অঞ্চলে শুরু হওয়া এই আন্দোলন দ্রুত দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ সময় ক্লাস, অপর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা, অতিরিক্ত গরম শ্রেণিকক্ষ এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের অনুপস্থিতির অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করছে।
প্যারিসের কেন্দ্রীয় একটি স্কুলের ১৫ বছর বয়সি শিক্ষার্থী সাইমন বলেন, তাদের এক বছর ধরে বিজ্ঞান শিক্ষক ছিল না। পাঠ্যবইও পর্যাপ্ত নেই। তার দাবি, শহরতলির স্কুলগুলোর পরিস্থিতি আরও খারাপ।
পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর ব্রেস্টে কেরিশেন উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন বস্তু ছুড়লে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। পূর্বাঞ্চলীয় বেলফোর শহরে এক পুলিশ সদস্যকে ঘিরে ধরে কয়েকজন তরুণ মারধর করার ঘটনাও ঘটেছে। এ ঘটনায় ১৭ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ ঘটনাটিকে অসহনীয় বলে মন্তব্য করেছেন।
প্যারিসের দুটি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রবেশপথেও আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। দমকল বাহিনী গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, পুলিশ অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করছে। নিয়মিত কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারে অনেক শিক্ষার্থী আহত হচ্ছে বলেও দাবি তাদের। পুলিশের বিরুদ্ধে তিন বিক্ষোভকারীকে মারধরের অভিযোগের পর বাহিনীটির পক্ষ থেকে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হয়েছে।
দক্ষিণাঞ্চলীয় তুলুজ শহরে কাঁদানে গ্যাসের প্রভাবে চোখে জ্বালাপোড়া হলে বিক্ষোভকারীরা একে অপরকে চোখের ড্রপ দিতে দেখা যায়। প্যারিসের উত্তরে অবারভিলিয়েতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠি ও দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জাম ব্যবহার করে।
এদিকে আন্দোলনটি দেশটির রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলছে। আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কয়েক মাস আগে সরকার অভিযোগ করেছে, বামপন্থি দল ফ্রান্স আনবোডের নেতৃত্ব আন্দোলনকে উসকে দিচ্ছে। দলটির নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ আবারও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন। তবে দলটির নেতা ম্যানুয়েল বমপার সরকারের অভিযোগকে ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’ হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে অভিযোগ করেছেন, চরম সহিংস গোষ্ঠীগুলো শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তার দাবি, আন্দোলন শুরুর পর অন্তত ৬৫ জন স্কুলকর্মী আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৪০ জন প্রধান শিক্ষক। আহত শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১৭০ এবং ১০০টির বেশি স্কুলে গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ফ্রান্সের বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানিন জানিয়েছেন, বিক্ষোভে সন্তানদের কারণে কোনো সম্পত্তির ক্ষতি হলে সংশ্লিষ্ট অভিভাবকদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের বিষয়ে প্রসিকিউটরদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দারমানিনের তথ্য অনুযায়ী, আন্দোলন শুরুর পর প্রায় ২ হাজার মানুষকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের প্রায় ৯০ শতাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।
[TheChamp-FB-Comments]