নিউজ ডেক্স
আরও খবর
২৪টি এসি চালাতে ৭ কোটি টাকার সাবস্টেশন, ই-জিপির শর্তের তোয়াক্কা না করে ঠিকাদারের নিম্নমানের পণ্য সরবরাহ
জুলাই-আগস্টে সিলেটের থানা থেকে লুটের অস্ত্র মিলছে নদীর পাড়, চা বাগানে-জংলায়, জড়িতরা অধরা
পদ্মার চর পেরিয়ে সোনা যাচ্ছে ভারতে, ঢুকছে হেরোইন-ফেনসিডিল
ব্যান্ডউইথ ব্যবসার সিন্ডিকেট: ৩ প্রতিষ্ঠানের জোট- বাজার দখলের চেষ্টা
দলের নারী নেত্রীরা এমন হলে তাদের পুরুষ নেতাদের কী অবস্থা- প্রশ্ন মামুনুল হকের
জুলাইতে আন্দোলন করে কোটা সংস্কারের পর পিছিয়ে পড়ছেন বাংলাদেশের নারীরা
অবশেষে চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি এবং ওসিওয়াই তুলে দেওয়া হচ্ছে বিদেশিদের হাতে
ইউনূস আমলের নীতিমালা সংশোধনীর ফাঁদে সরকারি প্রতিষ্ঠানের ২ লাখ আউটসোর্স কর্মীর চাকরি ঝুঁকিতে
ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় করা সংশোধনীর ফাঁদে পড়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে কর্মী সরবরাহ করা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
খাতসংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, ২১শে সেপ্টেম্বর অর্থ বিভাগের জারি করা সংশোধনীতে নতুন সেবা নেওয়ার সময় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আউটসোর্সিংয়ের সুযোগ সীমিত করা হয়েছে। এ কারণে ‘আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় সেবা গ্রহণ নীতিমালা-২০২৫’-এর সংশোধনী বাতিলের দাবি তুলেছেন তাঁরা।
এ নিয়ে তারা আউটসোর্সিং কর্মচারী ঐক্য পরিষদ ইতিমধ্যে রাজপথে আন্দোলন করে যাচ্ছেন। তারা বিভিন্ন দফা-দাবিও দিয়েছেন।
তাঁদের আশঙ্কা, সংশোধনী কার্যকর হলে দেশের প্রায় ১ হাজার ৮০০ লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান ব্যবসা হারাতে পারে এবং এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রায় ২ লাখ মানুষের চাকরি ঝুঁকিতে পড়বে।
সম্প্রতি অর্থ বিভাগে দেওয়া এক লিখিত আবেদনে তাঁরা এ দাবি জানান। বিভিন্ন আউটসোর্সিং সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের মালিক ও প্রতিনিধিরা আবেদনটিতে স্বাক্ষর করেছেন।
আবেদনে বলা হয়েছে, উদ্যোক্তারা দীর্ঘদিন ধরে সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল সরবরাহ করছেন।
এ খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬, সরকারি ক্রয় আইন-২০০৬, সরকারি ক্রয় বিধিমালা এবং আউটসোর্সিং নীতিমালা মেনে কার্যক্রম পরিচালনা করে। কিন্তু সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আলোচনা বা পরামর্শ ছাড়াই সরকার সংশ্লিষ্ট নীতিমালা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে আবেদনকারীদের অভিযোগ।
তাঁদের ভাষ্য, ২০০৮ সালে আউটসোর্সিং সেবা গ্রহণের নীতিমালা চালুর পর থেকে এ খাতের বিস্তার ঘটেছে। পরে ২০১৮ সালের নীতিমালায় বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে বেসরকারি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কর্মী নিয়োগের কাঠামো আরও সুসংগঠিত করা হয়।
সর্বশেষ ২০২৫ সালের নীতিমালাতেও এ ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা বজায় ছিল।
আবেদনে আরও বলা হয়, সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে আউটসোর্সিং সেবা দেওয়াই এসব প্রতিষ্ঠানের প্রধান ব্যবসা। তাই সংশোধনী কার্যকর হলে অনেক প্রতিষ্ঠান কাজ হারাবে। এতে উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ ঝুঁকিতে পড়বে, পাশাপাশি কর্মীদের বেকার হয়ে পড়ার আশঙ্কাও তৈরি হবে।
আবেদনকারীরা উল্লেখ করেছেন, প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিত লাইসেন্স নবায়ন ফি ও নিরাপত্তা জামানত দেওয়ার পাশাপাশি আয়কর ও ভ্যাটসহ বিভিন্ন সরকারি রাজস্ব পরিশোধ করে। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কর্মরত বহু মানুষ তাঁদের পরিবার নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। ফলে খাতটি হঠাৎ সংকুচিত হলে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি সরকারি রাজস্বেও প্রভাব পড়তে পারে বলে তাঁদের মত।
চিঠিতে সংশোধনীটিকে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিদ্যমান ব্যবস্থার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে দাবি করা হয়েছে।
আবেদনকারীদের মতে, এতে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালনা করা লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে বৈষম্য তৈরি হবে এবং সরকারও বিপুল রাজস্ব হারাতে পারে। তাঁরা সংশোধনীটি পুনর্বিবেচনা করে রদ, রহিত ও বাতিল করার পাশাপাশি অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ব্যবসা ও বিনিয়োগ সুরক্ষার ব্যবস্থাও চেয়েছেন তাঁরা।
অর্থ বিভাগ ২১শে সেপ্টেম্বর নতুন করে আউটসোর্সিং সেবা নেওয়ার ক্ষেত্রে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সেবা গ্রহণের সুযোগ বন্ধ করে একটি নির্দেশনা জারি করে।
নির্দেশনায় বলা হয়, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো এখন থেকে সরাসরি ব্যক্তির কাছ থেকে সেবা নিতে পারবে, অথবা অর্থ বিভাগ অনুমোদিত বিশেষায়িত সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তা নিতে হবে।
অর্থ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে ‘আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় সেবাগ্রহণ নীতিমালা, ২০২৫’-এর কয়েকটি ধারা সংশোধন করা হয়েছে। সংশোধিত নিয়মে আউটসোর্সিং কর্মীর পারিশ্রমিক তাঁর নিজের ব্যাংক হিসাব অথবা মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে সরাসরি দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।
সরকারি প্রতিষ্ঠানের অনুমতি ছাড়া সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান কর্মী বদল করতে পারবে না। চুক্তিতে নির্ধারিত কাজের বাইরে কোনো কর্মীকে নিয়োগ করাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। চুক্তির শর্ত ভঙ্গ হলে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট-২০০৬ এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস-২০০৮ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।
[TheChamp-FB-Comments]