চিংড়ি রপ্তানি কমেছে ৬২ শতাংশ, বাংলাদেশকে পেছনে ফেলে এগিয়ে গেছে ইন্দোনেশিয়া – বর্ণমালা টেলিভিশন

নিউজ ডেক্স
প্রকাশিতঃ ১০ আগস্ট, ২০২৬
৫:২৯ পূর্বাহ্ণ
0 ভিউ

চিংড়ি রপ্তানি কমেছে ৬২ শতাংশ, বাংলাদেশকে পেছনে ফেলে এগিয়ে গেছে ইন্দোনেশিয়া

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১০ আগস্ট, ২০২৬ | ৫:২৯ 0 ভিউ
বিশ্ববাজারে উচ্চ ফলনশীল ও তুলনামূলক কম দামের ‘ভেনামি’ জাতের চিংড়ির চাহিদা দিন দিন বাড়লেও বাংলাদেশ এখনো আটকে আছে প্রথাগত ‘বাগদা’ চিংড়ির ওপর নির্ভরতায়। এর ফলস্বরূপ গত ১৪ বছরে দেশের চিংড়ি রপ্তানি কমে গেছে প্রায় ৬২ শতাংশ। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি), মৎস্য অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টারস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএফইএ) তথ্য বলছে, ২০১২-১৩ অর্থবছরে দেশ থেকে প্রায় ৫০ হাজার টন চিংড়ি রপ্তানি হয়েছিল, যার বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছিল প্রায় ৫৭ কোটি ডলারে। অথচ সদ্যসমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এসে তা নেমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৯ হাজার টনে, যা থেকে আয় হয়েছে ২৮ কোটি ৫৬ লাখ ১০ হাজার ডলার। অর্থাৎ দেড় দশকের ব্যবধানে চিংড়ি রপ্তানি কমেছে প্রায় ৩১ হাজার টন বা ৬২ শতাংশ, আর বৈদেশিক মুদ্রা আয়ে ক্ষতি হয়েছে ২৮ কোটি ৪৪ লাখ ডলার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রপ্তানি হয়েছিল ২৯ কোটি ৬২ লাখ ৯০ হাজার ডলার মূল্যের ২৩ হাজার ২৩৮ টন চিংড়ি, যা তার আগের ২০২৩-২৪ অর্থবছরের তুলনায় ৪ হাজার ৭ টন ও ৪ কোটি ৮০ লাখ ডলার বেশি ছিল। কিন্তু সদ্যসমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ফের বড় ধরনের পতন দেখা গেছে—এক বছরের ব্যবধানেই রপ্তানি কমেছে ৪ হাজার ২৩৮ টন এবং আয় কমেছে ১ কোটি ৬ লাখ ৮০ হাজার ডলার। সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরে সব মিলিয়ে ৪৪ কোটি ৩৪ লাখ ২০ হাজার ডলার মূল্যের হিমায়িত মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ৪৪ কোটি ১৫ লাখ ৮০ হাজার ডলারের তুলনায় মাত্র ১৮ লাখ ৪০ হাজার ডলার বা দশমিক ৪২ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানি হয়েছে ২৮ কোটি ৫৬ লাখ ১০ হাজার ডলারের, হিমায়িত মাছ ৯ কোটি ৪১ লাখ ৩০ হাজার ডলারের এবং মৎস্যজাত পণ্য ৬ কোটি ৩৬ লাখ ৮০ হাজার ডলারের। অর্থাৎ মৎস্যজাত পণ্য বাদ দিলে হিমায়িত মাছ রপ্তানি আয়ের প্রায় ৭৫ দশমিক ২১ শতাংশই আসে একা চিংড়ি থেকে। রপ্তানিকারকদের ভাষ্যমতে, দেশের চিংড়ি রপ্তানি এখনো মূলত বাগদাকেন্দ্রিক হলেও আন্তর্জাতিক বাজারে ভেনামি ছাড়া অন্য জাতের চিংড়ির চাহিদা তুলনামূলক কম। বিশেষত চীন, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, পর্তুগাল, যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানির মতো দেশগুলোতে বাগদার সামান্য চাহিদা থাকায় তারা প্রয়োজন অনুযায়ী তা আমদানি করে থাকে। তবে ক্রমবর্ধমান চাহিদার বিপরীতে বাগদা আমদানি বছর বছর কমছে। কম বাজারমূল্য ও হেক্টরপ্রতি বেশি উৎপাদনের কারণে ইউরোপের বাজারে ভেনামি জাতের চিংড়ির চাহিদা ও জনপ্রিয়তা—দুটোই বাড়ছে। অথচ বাংলাদেশে এই সুযোগ থাকা সত্ত্বেও ব্যবসায়ীরা এখনো পুরনো বাগদা চিংড়িতেই আটকে আছেন। ভেনামি জাতের চিংড়ি উৎপাদন ও রপ্তানির উদ্যোগ এখনই না নেওয়া হলে দেশের চিংড়ি রপ্তানি খাত পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা। রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান এমইউ সি ফুডসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শ্যামল দাসের ভাষায়, ‘বৈশ্বিক বাজারে চিংড়ি রপ্তানির কর্তৃত্ব অনেক আগেই হারিয়েছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক বাজারে ভেনামি জাতের চিংড়ির চাহিদা বেশি থাকলেও আমরা সেই সুযোগ নিতে পারিনি। বাগদা চিংড়ি রপ্তানি নিয়েই এখনো পরিকল্পনা চলছে। সরকার এরই মধ্যে বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে সেগুলো মাঠে প্রয়োগ না হওয়ায় রপ্তানিতে খুব বেশি আশার জায়গা তৈরি করতে পারেনি মৎস্য খাত।’ তিনি আরও মন্তব্য করেন, সরকার এ বিষয়ে নজর না দিলে মৎস্য খাতের প্রধান রপ্তানি পণ্য চিংড়ি শুধু দেশীয় বাজারেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবে। ভেনামি চিংড়ি উৎপাদনে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি দেশ উদ্যোগ নিয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ইন্দোনেশিয়া। দেশটির পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশের পূর্ব সুম্বা জেলায় প্রায় ২ হাজার ১৫০ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ করে সরকারিভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে ওয়াইংগাপু সমন্বিত চিংড়ি চাষ প্রকল্প। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বছরে প্রায় ৫২ হাজার টন চিংড়ি উৎপাদন এবং সাত হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। প্রকল্পে সরকারের বিনিয়োগ ধরা হয়েছে ৭ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন রুপিয়া (ইন্দোনেশিয়ার মুদ্রা) বা ৩৯ কোটি ৮৬ লাখ ডলার, এবং ২০২৮ সালের মধ্যে প্রকল্পটি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে বছরে প্রায় ৪ ট্রিলিয়ন রুপিয়া বা ২২ কোটি ১৪ লাখ ডলারের উৎপাদনমূল্য অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ইন্দোনেশীয় সরকার। এর বিপরীতে বাংলাদেশ সরকারের মৎস্য অধিদপ্তরের আওতাধীন কক্সবাজার জেলার চকোরিয়া-রামপুরা মৌজায় চিংড়ি জোন হিসেবে ঘোষিত সাত হাজার একর জমি বছরের পর বছর অনাবাদি অবস্থায় পড়ে আছে; সেখানে কোনো চিংড়ি উৎপাদনই হয় না। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই জমিগুলো রপ্তানিকারকদের দীর্ঘমেয়াদে লিজ দেওয়া হলে দেশের রপ্তানি চিত্র সম্পূর্ণ বদলে যেতে পারত। বিএফএফইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তারিকুল ইসলাম জহির বলেন, ‘ইউরোপের বাজারে আমরা যেসব বাগদা চিংড়ি রপ্তানি করি তার দাম বেশি হওয়ায় সেখানে ভেনামি চিংড়ির চাহিদা বাড়ছে। এ কারণে সেখানে আমরা রপ্তানিতে পিছিয়ে পড়ছি। অন্যদিকে ছোট আকারের চাকা চিংড়ি (কেজিতে ৩০ পিস) ভারত, ইন্দোনেশিয়া বা ভিয়েতনাম ৪-৫ ডলারে বিক্রি করলেও আমাদের স্থানীয় বাজারে তা ৭ ডলারের বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় বাজারে দেশীয় চিংড়ির চাহিদা বেশি। সে কারণে আমাদের উৎপাদন বাড়ানো ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।’ সম্প্রতি অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে মৎস্য খাতে ২ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন করা হয়েছে। এখন কীভাবে ও কোন প্রক্রিয়ায় অর্থ বরাদ্দ দেয়া হবে সে বিষয়ে আলোচনা চলছে।’ তারিকুল ইসলাম জহির বলেন, ‘জমি কিনে বিনিয়োগ করার সুযোগ আমাদের নেই। এজন্য সরকার যদি জমি লিজ দেয়, তাহলে আমরা সেখানে বিনিয়োগ করে উৎপাদন বাড়াতে কাজ করব। পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যবসায়ীরা মাঠ পর্যায়ের চাষীদের সব ধরনের লজিস্টিক সুযোগসহ বিনিয়োগ করবেন এবং চাষীদের নিশ্চয়তা দেয়া হবে তাদের থেকে ব্যবসায়ীরা সেই উৎপাদিত পণ্য কিনে নেবে। এভাবে না হলে চিংড়ি খাতে উন্নতি করা সম্ভব না।’ কক্সবাজারের চিংড়ি চাষের জন্য ঘোষিত সাত হাজার একর জমি প্রকৃত ব্যবসায়ীদের বরাদ্দ দেওয়া হলে খাতটি আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারে বলেও দাবি করেন তিনি। জানা গেছে, আগে দেশে ১২২টি প্রতিষ্ঠান চিংড়ি ও মৎস্যজাতীয় পণ্য রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩০-৩৫টিতে। বাকিগুলোর মধ্যে কিছু বন্ধ হয়ে গেছে, আবার কিছু কারখানা ভাড়া দিয়ে দিয়েছে। অথচ এসব কারখানার বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা ছিল চার লাখ টনের বেশি। বর্তমানে দেশে মোট ২ লাখ ৬২ হাজার ৯৮০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের চিংড়ির চাষাবাদ হয়ে থাকে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ভেনামি চিংড়ির হেক্টরপ্রতি উৎপাদন বাগদার তুলনায় ১০-১২ গুণ বেশি হলেও দেশে এখনো এই জাতের চিংড়ি উৎপাদন সম্ভব হয়নি। ফলে বৃহৎ পরিসরে বাগদা রপ্তানির ওপরই নির্ভরশীল থেকে গেছে বাংলাদেশের রপ্তানি খাত। এদিকে সনাতন পদ্ধতিতে চাষাবাদ অব্যাহত থাকায় হেক্টরপ্রতি বাগদার উৎপাদনও ক্রমেই কমে আসছে। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, দেশীয় অভ্যন্তরীণ বাজারে ভালো দাম পাওয়া গেলেও বিশ্ববাজারে চিংড়ি শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে সনাতন চাষাবাদ পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে এসে বৃহৎ পরিসরে সরকারি নীতি প্রণয়ন ও ভেনামি চাষ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
হেফাজতকে সঙ্গে নিয়ে আগামীর পথ চলার আশ্বাস তারেক রহমানের চিংড়ি রপ্তানি কমেছে ৬২ শতাংশ, বাংলাদেশকে পেছনে ফেলে এগিয়ে গেছে ইন্দোনেশিয়া যশোরে দিনে ১৪ ঘণ্টা থাকছে না বিদ্যুৎ, খামারে মরছে হাজার হাজার মুরগি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের শরীরে বাসা বেঁধেছে মরণঘাতী ক্যান্সার পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন: পুলিশে থাকা ‘লীগের দোসর ও গুপ্তরা’ বাহিনীর মনোবল ক্ষতিগ্রস্ত করছে পুলিশে কর্মরত গোপালগঞ্জবাসীদের ‘গোপালী’ আখ্যা দিয়ে তাদের চিহ্নিত ও তালিকা তৈরির নির্দেশ নারায়ণগঞ্জের এমপির বিদেশি ত্রাণের লোভে ৯ বছর ধরে রোহিঙ্গা সেজে নিবন্ধিত হাজার হাজার বাংলাদেশি ফেঁসে গেলেন এনআইডি-পাসপোর্ট করতে গিয়ে এক সপ্তাহে ডিমের দাম বাড়ল দেড়গুণ, ডজন ঠেকল ১৮০ টাকায়: সিন্ডিকেট ভাঙবে কে? ১০০ কোটি টাকার জীবনরক্ষাকারী যন্ত্র অচল: অথচ সচল যন্ত্র ‘নষ্ট’ দেখিয়ে লোপাট অর্ধকোটি টাকা সাতক্ষীরায় ছাত্রদলের ১০ নেতাকর্মীকে পিটুনি দিয়ে হাসপাতালে পাঠাল ছাত্রলীগ ত্রুটিপূর্ণ আইনে কাজী জেসিনকে বিটিভির ডিজি নিয়োগ, সমালোচনার মুখে সংশোধনের চেষ্টা সরকারের অনুমতি ছাড়া কারও ছবি তোলা কি অপরাধ? সার্বিয়ায় ঐতিহাসিক সফরে গেলেন জেলেনস্কি বাইডেনের শরীরে ক্যানসার ছড়িয়ে পড়েছে হরমুজ খুলতে ক্ষতিপূরণ চায় ইরান, উদ্বিগ্ন উপসাগরীয় দেশ যাত্রীদের অভিযোগ— রাত কাটাচ্ছেন মেঝেতে, খাবার ও চিকিৎসায় অব্যবস্থাপনা গণহারে পোলট্রি খামার ডেকে আনছে যে বিপদ! ক্রিকেট তারকার সঙ্গে অভিনেত্রীর প্রেমের গুঞ্জন চটপটি খাওয়ানোর কথা বলে ব্রিজের নিচে নিয়ে ছাত্রকে ধর্ষণ, মাদ্রাসার হাফেজকে গণপিটুনি যুবলীগ নেতার বাড়িতে হামলা-লুটপাটে গিয়ে জনতার প্রতিরোধে হাত খোয়ানো বিএনপি নেতা কীভাবে ‘জুলাই যোদ্ধা’?