নিউজ ডেক্স
আরও খবর
তিন মাসে ব্যাংকে কোটির বেশি টাকার হিসাব বেড়েছে ৫ হাজার
খেলাপি ঋণের চাপে ১৫ ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি ২ লাখ ২৯ হাজার কোটি টাকা
মাছ-মুরগি-ডিমের চড়া দাম: বাড়তি টাকা দিয়েও মিলছে না বোতলজাত ভোজ্যতেল
ডলারের দরপতনে প্রভাব স্বর্ণের দামে
যুক্তরাষ্ট্রে জুলাইয়ে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে ১১ শতাংশ
শুধু জ্বালানি তেল ক্রয়ে ইউনূস-তারেক সরকারের ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অতিরিক্ত ব্যয় ৫.৪৯ বিলিয়ন ডলার
অর্থ সংকট: ১ লাখ ২১ হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্দে খরচ বন্ধের নির্দেশ
ঋণের সুদ কমলেও বিনিয়োগে গতি নেই
ঋণের সুদ কমেছে, ব্যাংকগুলোতে তারল্যও রয়েছে পর্যাপ্ত। আমদানি নীতিতেও এসেছে কিছুটা শিথিলতা। এরপরও চলতি অর্থবছরের শুরুতে বেসরকারি বিনিয়োগে গতি ফেরার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বরং নতুন শিল্প স্থাপন ও বিদ্যমান কারখানার সক্ষমতা বাড়ানোর অন্যতম প্রধান সূচক মূলধনি যন্ত্রপাতি ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানি কমেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের জুলাইয়ের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাইয়ে শিল্পের মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানির ঋণপত্র (এলসি) নিষ্পত্তি হয়েছে ১৪ কোটি ৯৫ লাখ ডলারের। গত বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ১৬ কোটি ৩৫ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে এলসি নিষ্পত্তি কমেছে ১ কোটি ৪০ লাখ ডলার বা ৮ দশমিক ৬ শতাংশ।
একই সময়ে শিল্পের কাঁচামাল আমদানির এলসি নিষ্পত্তিও কমেছে। জুলাইয়ে এ খাতে এলসি নিষ্পত্তি হয়েছে ১৯৩ কোটি ৭৭ লাখ ডলারের, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ২০৮ কোটি ১৭ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরে কমেছে ১৪ কোটি ৪০ লাখ ডলার বা ৬ দশমিক ৯২ শতাংশ।
অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিনিয়োগের স্থবিরতাকে এখন শুধু ঋণের উচ্চ সুদ বা অর্থের সংকট দিয়ে ব্যাখ্যা করার সুযোগ নেই। ব্যবসায়িক আস্থার ঘাটতি, গ্যাস-বিদ্যুতের অনিশ্চয়তা, উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়া, দুর্বল চাহিদা এবং নীতিগত অনিশ্চয়তার মতো বিষয়গুলোও উদ্যোক্তাদের নতুন বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত করছে।
কমছে ঋণের সুদ
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে ব্যাংকঋণের গড় সুদহার ১১ দশমিক ৮১ শতাংশে নেমেছে। এক বছর আগে এ হার ছিল ১২ দশমিক ১৪ শতাংশ। বড় শিল্পের ঋণের সুদহারও কমে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশে? (তথ্য অনুযায়ী ১২ দশমিক ০৫ শতাংশ) হয়েছে। এক বছর আগে এ হার ছিল ১২ দশমিক ৪৯ শতাংশ। কৃষিঋণের সুদহারও সামান্য কমেছে—জুলাইয়ে ১১ দশমিক ৬৪ শতাংশ, এক বছর আগে যা ছিল ১১ দশমিক ৬৯ শতাংশ।
এর পাশাপাশি বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত জুলাইয়ে নীতি সুদহার ৫০ ভিত্তি পয়েন্ট কমিয়ে ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ করেছে। বিনিয়োগ বাড়াতে ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নও শুরু হয়েছে।
তারপরও মূলধনি যন্ত্রপাতি ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানি কমে যাওয়াকে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দুর্বল চাহিদারই প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
বাংলাদেশ-থাই চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি শামস মাহমুদ বলেন, উদ্যোক্তারা এখন শুধু ঋণের সুদের হার দেখছেন না। নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ, উৎপাদন ব্যয়, বাজারে চাহিদা এবং বিনিয়োগ করা অর্থ ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনাও তাঁরা বিবেচনায় নিচ্ছেন।
শামস মাহমুদের ভাষ্য, গ্যাসের ঘাটতির কারণে বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। কোনো কোনো কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রাখতে হচ্ছে, আবার কোথাও ব্যয়বহুল বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে অনেক উদ্যোক্তা নতুন সক্ষমতা তৈরির বদলে বিদ্যমান ব্যবসা টিকিয়ে রাখাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।
অর্থের চেয়ে বড় সমস্যা আস্থা
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন মনে করেন, শুধু অর্থের সরবরাহ বাড়ালেই বিনিয়োগ বাড়বে না। বিনিয়োগের জন্য নীতিগত আস্থা ও স্থিতিশীলতা জরুরি।
তিনি বলেন, সহনীয় উৎপাদন ব্যয়, নির্ভরযোগ্য জ্বালানি, দক্ষ অবকাঠামো এবং নতুন বাজারে প্রবেশের সুযোগও নিশ্চিত করতে হবে। ব্যাংকগুলোতে অতিরিক্ত তারল্য থাকার পরও বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি দুর্বল। এর অর্থ হলো উৎপাদনশীল বিনিয়োগের জন্য ঋণের চাহিদাই দুর্বল হয়ে পড়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, শিল্পের কাঁচামাল ও মূলধনি যন্ত্রপাতির আমদানি সাধারণত ভবিষ্যৎ উৎপাদন ও বিনিয়োগের একটি গুরুত্বপূর্ণ পূর্বসূচক। তাই জুলাইয়ের আমদানি কমে যাওয়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকলে তা বেসরকারি বিনিয়োগ ও শিল্প উৎপাদনের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
বর্তমানে ব্যাংকিং খাতে অর্থের জোগান ও ঋণের সুদ—দুই দিক থেকেই কিছুটা স্বস্তি তৈরি হলেও উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ সিদ্ধান্তে তার প্রতিফলন নেই। ফলে বেসরকারি বিনিয়োগের গতি ফেরাতে শুধু আর্থিক সুবিধা নয়, ব্যবসার পরিবেশ ও নীতিগত আস্থার উন্নতিও জরুরি হয়ে উঠেছে।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।
[TheChamp-FB-Comments]