কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে ঋণ কমে গেছে, হুমকিতে কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধি – বর্ণমালা টেলিভিশন

নিউজ ডেক্স
প্রকাশিতঃ ৮ আগস্ট, ২০২৬
৫:১৫ পূর্বাহ্ণ
3 ভিউ

কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে ঋণ কমে গেছে, হুমকিতে কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধি

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৮ আগস্ট, ২০২৬ | ৫:১৫ 3 ভিউ
ব্যাংক খাতে ঋণের ওপর সুদ যুক্ত হওয়ায় ঋণস্থিতি সাধারণত ধারাবাহিকভাবে বাড়তে দেখা যায়। তবে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে এ প্রবণতার ব্যতিক্রম ঘটেছে কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) খাতে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ শেষে এ খাতে ঋণস্থিতি নেমে এসেছে ২ লাখ ৯৮ হাজার ৮৯ কোটি টাকায়, যা গত বছরের ডিসেম্বর শেষে ছিল ৩ লাখ ১৪ হাজার ২৭৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ মাত্র তিন মাসে ঋণস্থিতি কমেছে ১৬ হাজার ১৮৪ কোটি টাকা বা ৫ দশমিক ১৫ শতাংশ। নতুন ঋণ বিতরণের তুলনায় আদায় বেশি হওয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ব্যাংকারদের ভাষ্য, শরিয়াহভিত্তিক কয়েকটি ব্যাংকসহ একাধিক ব্যাংকে নতুন ঋণ বিতরণ কার্যত স্থবির। একই সঙ্গে উচ্চ সুদহার, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ঘাটতি, বিনিয়োগে অনিশ্চয়তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কারণে উদ্যোক্তারাও নতুন ঋণ গ্রহণে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। ফলে সিএমএসএমই খাতে ঋণপ্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এর প্রভাব পড়েছে বেসরকারি খাতের সামগ্রিক ঋণ প্রবৃদ্ধিতেও। মার্চ শেষে এ প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন। এদিকে ব্যাংক খাতে গড় ঋণসুদ ১১ দশমিক ৯২ শতাংশে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, ঋণ বিতরণ বাড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে অর্থনীতিতে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ এখনও তৈরি হয়নি। বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধান হলে ঋণের চাহিদা ও বিতরণ—উভয়ই বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। জাতীয় এসএমই নীতিমালা অনুযায়ী, ২০২৯ সালের মধ্যে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মোট ঋণের অন্তত ২৭ শতাংশ সিএমএসএমই খাতে বিতরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। চলতি বছরের জন্য এ লক্ষ্যমাত্রা ২৫ দশমিক ৫০ শতাংশ। কিন্তু বাস্তবে এ খাতে ঋণের অংশীদারিত্ব ধারাবাহিকভাবে কমছে। মার্চ শেষে ব্যাংক খাতের মোট ১৮ লাখ ৭৮ হাজার ৯৯ কোটি টাকার ঋণের মধ্যে সিএমএসএমই খাতে বিতরণ হয়েছে মাত্র ১৫ দশমিক ৮৭ শতাংশ। গত ডিসেম্বর শেষে এ হার ছিল ১৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ। ২০২৪ সালের শেষে ছিল ১৮ দশমিক ৪০ শতাংশ এবং তার আগের বছর ছিল ১৯ দশমিক ১১ শতাংশ। বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ঋণপ্রাপ্তি কমে গেলে কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি মন্থর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সময়ে ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার স্বল্পসুদের প্রণোদনা ঋণ কর্মসূচিও প্রত্যাশিত সাড়া পাচ্ছে না। ফলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ সময়ে ব্যাংকগুলো সিএমএসএমই খাতে ৫২ হাজার ১০৮ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করেছে। একই সময়ে আদায় হয়েছে ৬৫ হাজার ২৯১ কোটি টাকা। যদিও আদায়যোগ্য ঋণের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ১৭ হাজার ৬৯১ কোটি টাকা। অর্থাৎ বিতরণের তুলনায় আদায় বেশি হলেও আদায়যোগ্য ঋণের বড় অংশই অনাদায়ী থেকে গেছে। ফলে মার্চ শেষে সিএমএসএমই ঋণের খেলাপির হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬ দশমিক ০৪ শতাংশ, যা ডিসেম্বর শেষে ছিল ২৪ দশমিক ০৩ শতাংশ। একই সময়ে পুরো ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণের হার দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ। ব্যাংকভিত্তিক হিসাবে সিএমএসএমই ঋণে সর্বোচ্চ খেলাপির হার দেখা গেছে ইসলামী ধারার ব্যাংকগুলোতে। মার্চ শেষে এ শ্রেণির ব্যাংকগুলোর সিএমএসএমই ঋণের ৪৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর খেলাপির হার ৪২ দশমিক ৭৩ শতাংশ। বিশেষায়িত ব্যাংকে ২২ দশমিক ৫৮ শতাংশ, বেসরকারি ব্যাংকে ১৪ দশমিক ১৫ শতাংশ এবং বিদেশি ব্যাংকে ৪ দশমিক ৬০ শতাংশ। অন্যদিকে ঋণ বিতরণে আবারও শীর্ষ পাঁচ ব্যাংকের তালিকায় ফিরে এসেছে ইসলামী ব্যাংক। ব্র্যাক ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক ও সিটি ব্যাংকের পরেই রয়েছে ব্যাংকটির অবস্থান। ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলতাফ হোসেন বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ঋণে আদায়ের হার তুলনামূলক ভালো এবং এ খাতে কম ঋণেই বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি সম্ভব। এ কারণে ব্যাংকটি সিএমএসএমই ঋণ বিতরণে গুরুত্ব দিচ্ছে। তাঁর দাবি, অতীতে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও বর্তমানে এ খাতে সবচেয়ে বেশি ঋণ বিতরণকারী ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
দল ক্ষমতা হারালে সবার আগে পিছটান দেন তারকা রাজনীতিবিদ’রা, দু’দিনের রাজনীতিবিদ সাকিব কেন ব্যাতিক্রম? রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে সাকিবের দেশে ফেরার আর সুযোগ নেই: আমিনুল শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনের প্রতিক্রিয়ায় নওফেলের বাড়িতে ককটেল ও অগ্নিসংযোগ কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে ঋণ কমে গেছে, হুমকিতে কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধি এলএনজি ক্রয়ের অনুমোদন মিলল ছুটির দিনে বসানো ক্রয় কমিটির বৈঠকে পাঁচটি দেশের ওপর রেমিট্যান্সের ৬২ শতাংশ নির্ভরতা, বাড়ছে কৌশলগত ঝুঁকির শঙ্কা ফের পিছিয়ে গেল রূপপুরের উৎপাদনের যাত্রা: আগস্টে জাতীয় গ্রিডে যোগ হচ্ছে না পরমাণু বিদ্যুৎ বিনা আমন্ত্রণেই বিদেশে যাবার পথে দিল্লি থেকে ঘুরে যেতে চেয়েছিলেন ড. ইউনূস ১৪ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন বৈদেশিক ঋণের প্রতিশ্রুতি পেল বাংলাদেশ, উল্টো সর্বোচ্চ ঋণ পরিশোধের চাপ উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়ল পৌনে ৩ কোটি টাকার সড়ক, বাঁশ-বালুর বস্তায় ঠেকা! আওয়ামী লীগ আমাদের শত্রু নয়, মিত্র, আমরা একসঙ্গে যুদ্ধ করেছি: এমপি নাছির চৌধুরী ‘আপনারা দেখেননি, আমরা কীভাবে থানা জ্বালিয়ে পিটিয়ে পুলিশ মেরেছি’: প্রকাশ্যে এনসিপি নেতার স্বীকারোক্তি রিয়ালের সঙ্গে আরও ছয় বছরের চুক্তি বাড়ালেন ভিনিসিউস প্রকল্প ব্যয় ১৬৫ কোটি থেকে ঠেকলো ৩২৬ কোটিতে, ২০০ কোটির অপ্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ক্রয়ের তোড়জোড় ইআবা নেতা ফয়জুল করিম: ‘জুলাইতে রাজপথে ছিলাম আমরা, বিএনপি-জামায়াত ছিল না’ নাশকতা সন্দেহ: বাসভবনে আগুন, পাকিস্তানি হাইকমিশনার সস্ত্রীক আইসিইউতে ‘শেখ হাসিনা থেকে ১০ লাখ টাকা পাওয়া’ আহসান জুলাই যোদ্ধা নন- দাবি বিএনপি নেতার, জামায়াত নেতার ভাষ্য, ‘সারজিসও ছাত্রলীগ করত’ রিয়াল মাদ্রিদ নাকি বার্সেলোনা: কোথায় যাবেন রদ্রি? চাকরি হারানোর শঙ্কায় কর্মচারীরা প্রেমিকের সঙ্গে ঝগড়ার জেরে ১৮ তলা থেকে লাফ, অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলেন তরুণী