এক সপ্তাহে ডিমের দাম বাড়ল দেড়গুণ, ডজন ঠেকল ১৮০ টাকায়: সিন্ডিকেট ভাঙবে কে? – বর্ণমালা টেলিভিশন

নিউজ ডেক্স
প্রকাশিতঃ ১০ আগস্ট, ২০২৬
৫:২২ পূর্বাহ্ণ
23 ভিউ

এক সপ্তাহে ডিমের দাম বাড়ল দেড়গুণ, ডজন ঠেকল ১৮০ টাকায়: সিন্ডিকেট ভাঙবে কে?

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১০ আগস্ট, ২০২৬ | ৫:২২ 23 ভিউ
মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে ডিমের বাজারে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের উত্তাল অবস্থা—দাম বেড়েছে প্রায় দেড়গুণ। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে কোথাও কোথাও ফার্মের মুরগির ডিমের এক ডজন এখন বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়, যেখানে মাত্র এক সপ্তাহ আগেই এই দাম ছিল ১২০ টাকা। হঠাৎ এই মূল্যবৃদ্ধিতে ক্রেতাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে তীব্র ক্ষোভ। সরকারের নজরদারির অভাব ও সিন্ডিকেটকে দায়ী করেন তারা। সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ। সাশ্রয়ী আমিষের প্রধান উৎস হিসেবে খাদ্যতালিকায় নিয়মিত থাকা ডিমের দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেক পরিবার এখন প্রয়োজনের তুলনায় কম ডিম কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। কেউ কেউ তো একেবারেই খাদ্যতালিকা থেকে ডিম বাদ দিতে বাধ্য হয়েছেন। রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে এক ডজন ডিমের দাম সর্বনিম্ন ১৬৫ থেকে সর্বোচ্চ ১৮০ টাকা পর্যন্ত ঠেকেছে। এই হিসাবে এক হালি ডিম কিনতে ভোক্তাকে গুনতে হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, যা মাত্র এক সপ্তাহ আগেও ছিল ৪০ টাকা। বর্তমান বাজারদরে একটি ডিমের দাম দাঁড়িয়েছে ১৫ টাকায়—এই দামেই মিলছে এক হালি লেবু। অথচ প্রতিবছর রমজান মাস এলে সাধারণত একটি লেবুর দামে এক হালি ডিম পাওয়া যায়, যখন লেবুর হালি বেড়ে ১৫০ টাকা পর্যন্ত ওঠে। খুচরা ব্যবসায়ীদের দাবি, মধ্যস্বত্বভোগীদের সিন্ডিকেটের কারণেই বাজারে সময়ে সময়ে বিভিন্ন পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। তাদের মতে, প্রান্তিক চাষি বা খামারিরা যেমন ন্যায্যমূল্য পান না, তেমনি খুচরা বিক্রেতারাও খুব বেশি লাভবান হতে পারেন না—কোনো পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়লে আসল ফায়দা লোটেন মধ্যস্বত্বভোগীরাই। রাজধানীর রামপুরা এলাকার মুদি দোকানি বাপ্পারাজ জানান, পাইকারি ব্যবসায়ীদের দাবি বন্যার কারণেই ডিমের এই সংকট তৈরি হয়েছে। তবে তার নিজের ধারণা, এত অল্প সময়ে এতটা দাম বাড়ার পেছনে শুধু বন্যাই দায়ী নয়, বরং এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মধ্যস্বত্বভোগীর সিন্ডিকেট। উদাহরণ টেনে তিনি প্রশ্ন তোলেন, সিন্ডিকেট না থাকলে পোলাও চালের দাম কীভাবে এক মাসেই ১৫০ থেকে ২৫০ টাকায় পৌঁছাল? রোববার সকালে শ্যাওড়াপাড়ায় ডিম কিনতে গিয়ে দোকানির সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ান গৃহিনী মুনিরা ফেরদৌস। তার অভিযোগ, দোকানি তার কাছ থেকে বাড়তি দাম আদায়ের জন্য ৫৫ টাকায় ডিমের হালি চেয়েছেন। শেষমেশ কিছু না কিনেই সেই দোকান থেকে ফিরে যান তিনি। দাম বাড়ার নেপথ্যে কী পোল্ট্রি খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে গেলেই দ্রুত বেড়ে যায় ডিমের দাম। দেশে প্রতিদিনের ডিমের চাহিদা প্রায় সাড়ে তিন থেকে চার কোটি, ফলে উৎপাদন বা সরবরাহে সামান্য ঘাটতিও বাজারে বড় প্রভাব ফেলে। তবে দাম বৃদ্ধির আরেকটি বড় কারণ কারসাজি—খামারিরা ন্যায্যমূল্য না পেলেও মধ্যস্বত্বভোগীরা কখনোই কম লাভে ডিম বিক্রি করেন না, বরং সংকটের সুযোগ কাজে লাগানোর অপেক্ষায় থাকেন তারা। এ বিষয়ে বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিআইএ) মহাসচিব এম সাফির রহমান বলেন, ডিমের মূল্যবৃদ্ধি মূলত নির্ভর করে জোগান ও চাহিদার ওপর। সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় দেশের অসংখ্য লেয়ার খামারি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন—বন্যার পানিতে ভেসে গেছে মুরগি ও ডিম, নষ্ট হয়েছে অনেক খামারির উৎপাদিত ডিমও। এর ফলেই বাজারে হঠাৎ তৈরি হয়েছে জোগানের বড় সংকট, যা দাম বৃদ্ধির মূল কারণ। তবে তিনি ক্ষোভও প্রকাশ করেন এই বলে যে, ভোক্তাদের দেওয়া চড়া দামের সুফল খামারিরা কখনোই পান না। খামারিদের বিক্রয়মূল্য ও ভোক্তাদের ক্রয়মূল্যের মধ্যে থাকে বিরাট ব্যবধান, কারণ খামারিরা সরাসরি ভোক্তার কাছে পণ্য বিক্রির সুযোগ পান না। এই ফাঁক কাজে লাগিয়ে বেশি মুনাফা তুলে নেন মধ্যস্বত্বভোগীরা, অথচ দোষের ভাগ চাপানো হয় খামারিদের ওপরই। উল্লেখ্য, চলতি জুলাই মাসে দেশের বিভিন্ন জেলায় পোল্ট্রি মুরগি ও ডিমের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার প্রতিবাদে মহাসড়কে ডিম ভেঙে প্রতীকী বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন খামারিরা। বিপিআইএর তথ্যমতে, খামার পর্যায়ে একটি ডিম উৎপাদনে খরচ পড়ছে প্রায় ১০ টাকা, অথচ বিক্রি করতে হচ্ছে প্রায় ৬ টাকায়—অর্থাৎ প্রতিটি ডিমে খামারিদের গুনতে হচ্ছে ৪ টাকা করে লোকসান। দীর্ঘদিন ধরে খামার পর্যায়ে ডিমের দাম সমন্বয় না হওয়ায় পোল্ট্রি শিল্পের মূল চালিকাশক্তি প্রান্তিক খামারিরাই পড়েছেন সবচেয়ে বড় সংকটে। সংগঠনটির দাবি অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে এই খাত থেকে ঝরে পড়েছেন প্রায় ৬৪ হাজার খামারি।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

[TheChamp-FB-Comments]
ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
১ কোটি কর্মসংস্থানের সরকারি মূলা ও বাস্তবতা: বিশ্বব্যাংক বলছে কর্মহীন হবেন ৬ লাখ মানুষ, বাড়বে দারিদ্র ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চার ঘন্টা যানজটে আটকে অ্যাম্বুলেন্সেই রোগীর মৃত্যু বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন: এক বছরে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে ১৪ লাখ মানুষ আবেগঘন বার্তায় শ্রমিকদের কাছে ক্ষমা চেয়ে কারখানা বন্ধ ঘোষণা: ‘টিকিয়ে রাখার অনেক চেষ্টা করেছি, পারলাম না’ বিষাদময় গ্রীষ্ম পার করার পর এখন মেসির সামনে কী? থার্ড টার্মিনাল: ৯৯.৯১% কাজ শেষ হলেও ব্যয় বাড়ানো হচ্ছে ৯০২ কোটি টাকা রাজনীতি থেকে ধর্ম- অনলাইনে মত প্রকাশে ভয়: ঝুঁকিতে সাংবাদিকতা-বাকস্বাধীনতা নারায়ণগঞ্জে হারিয়ে যাচ্ছে একের পর কিশোরী, নিখোঁজ অর্ধ শতাধিক ভেনেজুয়েলার তেল-সম্পদ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দিলেন অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট, ট্রাম্পের সন্তোষ প্রকাশ রাশিয়ার মিগ-২৯ থেকে চীনা জে-১০: গল্পটি সক্ষমতার, মিথ্যা এবং ধোঁকাবাজিরও বাণিজ্যে ভারত-নির্ভরতা বাড়ছেই, দুই বছরে বাণিজ্য ঘাটতি আরও প্রকট পায়রা ও আদানিকে রেকর্ড ক্যাপাসিটি চার্জ প্রদান: গত অর্থবছরে কেন এত বেশি দিতে হলো? একটির খরচে ৫টি মেট্রো নির্মাণ সম্ভব হচ্ছে না: লাইন-২ রুটে খরচ ৬০ হাজার কোটি টাকার বেশি যুক্তরাজ্যে আশ্রয়ের নামে এলজিবিটি কোটায় আবেদনের শীর্ষে পাকিস্তান, দ্বিতীয় বাংলাদেশ পটিয়ায় পুলিশ কর্মকর্তাকে পিটিয়ে স্বর্ণালঙ্কার ও পৌনে আট লাখ টাকা লুট জাতীয় চার নেতার ম্যুরালকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ উল্লেখ করে অপসারণ, ইউএনওর ওপর ক্ষুব্ধ বীর মুক্তিযোদ্ধারা প্রশাসনের নাকের ডগায় সিলগালা করা ৯ লাখ ঘনফুট বালু গায়েব! পাচারে জড়িত স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা চাঁপাইনবাবগঞ্জে সাংবাদিক অ্যাসোসিয়েশনের ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত। সৌদিতে আগুনে পুড়ে নিহত আত্রাইয়ের ৭ প্রবাসীর জানাজা সম্পন্ন পুকুর থেকে কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার, পানিতে ডোবার লক্ষণ মেলেনি