ইয়েমেনে বিমান হামলা জোরদার করেছে ওয়াশিংটন – বর্ণমালা টেলিভিশন

ইয়েমেনে বিমান হামলা জোরদার করেছে ওয়াশিংটন

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২১ April, ২০২৫ | ১১:২২ 172 ভিউ
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে রোমে যুক্তরাষ্ট্র ও তেহরানের আলোচনার মধ্যে ইয়েমেনে বিমান হামলা জোরদার করেছে ওয়াশিংটন। হুথি বিদ্রোহীদের দাবি, সর্বশেষ হামলায় ইয়েমেনের রাজধানী সানায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং আরও ৩০ জন আহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলা অভিযানের অংশ হিসেবে এ প্রাণহানির ঘটনা ঘটলো বলে দাবি করেছে তারা। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই হামলা বা এতে বেসামরিক হতাহতের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। সোমবার (২১) এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে টাইমস অব ইসরাইল। হুথি বিদ্রোহীদের দাবি, সানার শু'উব জেলায় ফারওয়া মহল্লার একটি বাজারে বিমান হামলা চালানো হয়। আগেও এই এলাকাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হুথিদের উপগ্রহ চ্যানেল আল-মাসিরাহ প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহন ও ভবনের ধ্বংসস্তূপের পাশে মানুষের আর্তচিৎকার, একজন শিশুর নিথর দেহ কোলে নিয়ে আহাজারি করছেন অনেকে। আহতদের স্ট্রেচারে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। রোববার দিবাগত রাতেও যুক্তরাষ্ট্র ইয়েমেনের অন্যান্য অঞ্চলে—অমরান, হোদেইদা, মারিব ও সা’দা প্রদেশেও হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। এর আগে গত সপ্তাহে ইয়েমেনের রাস ইসা জ্বালানি বন্দরে মার্কিন বিমান হামলায় অন্তত ৭৪ জন নিহত এবং ১৭১ জন আহত হন। এই হামলা এমন সময় চালানো হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে রোমে আলোচনা পুনরায় শুরু হয়েছে। ওয়াশিংটন হুথি বিদ্রোহীদের আক্রমণের সঙ্গে তেহরানকে সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করে আসছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলা-অভিযান পারমাণবিক আলোচনার প্রেক্ষাপটে কৌশলগত বার্তা হিসেবেও দেখা যেতে পারে। কারণ, ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরে হুথিদের ইরানের সমর্থিত বাহিনী হিসেবে বিবেচনা করে আসছে এবং ইয়েমেনকে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানি প্রভাব প্রতিরোধের একটি প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে দেখছে। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সংঘাত কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—বরং এটি দীর্ঘদিন ধরে চলা মধ্যপ্রাচ্য-ভিত্তিক ভূরাজনৈতিক দ্বন্দ্বের একটি অংশ। ২০১৪ সালে ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখলের মধ্য দিয়ে হুথিরা তাদের আধিপত্য বিস্তার শুরু করে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে, ইসরাইল-গাজা যুদ্ধের জেরে হুথি যোদ্ধারা রেড সি ও আশেপাশের জলপথে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা জাহাজগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে। হুথিদের দাবি—তাদের হামলা ফিলিস্তিনি জনগণের পক্ষে প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ। এই জলপথ, বিশেষ করে বাব-আল-মান্দেব প্রণালী, বৈশ্বিক পণ্য পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। হুথিদের হামলায় এই পথ ব্যবহার করা বিপজ্জনক হয়ে উঠলে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। অনেক বিশ্লেষক বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইয়েমেনে তার সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়ে তেহরানকে চাপ দিচ্ছে। এদিকে ইরান সরাসরি হুথিদের পক্ষ না নিলেও তাদের প্রতি সমর্থনের ইঙ্গিত দিয়ে আসছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে একটি বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

[TheChamp-FB-Comments]
ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
গ্যাসের দাম বাড়ার পঞ্চহেতু কোস্ট গার্ডের পাঁচ জাহাজ থেকে মুছে ফেলা হলো জয় বাংলা ও জাতীয় চার নেতার নাম তিন মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ছাড়াল ৭৪৭ কোটি ডলার দেয়ালে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ লিখন: স্কুলছাত্রীদের শনাক্ত করল পুলিশ, শিক্ষার্থী-নিপীড়নের শংকা বাংলাদেশকে হরমুজ প্রণালী ব্যাবহারের প্রস্তাব ইরানের; বাধা হতে পারে ইউনূস সরকারের করা ‘মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি’ ব্যাংক হিসাব জব্দের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিরা ব্যাংক দেউলিয়া হওয়ার বিতর্কে পদত্যাগ করলেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট ম্যাককেনা অতিরিক্ত যৌন আবেদনময় দৃশ্যে অভিনয় করতে চান না পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে কারখানা বন্ধের ইঙ্গিত মালিকদের ইসলামী বক্তা ও জামায়াতের সাংসদ আমির হামজার নারীঘটিত অডিও-ভিডিও পাওয়ার দাবি রাশেদ খাঁনের পোশাক শ্রমিক নির্যাতন আড়াল করতে পারেনি সরকার, পুলিশি নির্যাতন ও রাজনীতিকরণে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগ হামলা বন্ধে সৌদি’র ১ বিলিয়ন ডলার প্রস্তাব; জবাবে হুথিদের ৫১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ ও ইয়েমেনের শাসনভার দাবি শ্রমিক অসন্তোষে স্থবির দেশের প্রধান রপ্তানি খাত: বড় সংকটের মুখে তৈরি পোশাকশিল্প বীর মুক্তিযোদ্ধার জানাজা ও দাফনে জামায়াত-শিবিরের বাধার ঘটনার প্রতিবাদে শৈলকুপায় মানববন্ধন ইউনূস আমলে হামের টিকার অনিয়ম তদন্তে কমিশন গঠন মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের জের ধরে সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আজ ৫ই নভেম্বর, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এই অঞ্চলের একাধিক পোশাক কারখানায় শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করছেন। একপর্যায়ে পুলিশের রক্তচক্ষু ও বাধা উপেক্ষা করে হাজারো শ্রমিক রাজপথে নেমে এলে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়। সকালে সাভার ও আশুলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোতে শ্রমিকেরা যথারীতি উপস্থিত হলেও তারা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অংশ না নিয়ে কর্মবিরতির ডাক দেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সার্বিক নিরাপত্তাশঙ্কা দেখা দিলে বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের জামগড়া, নিশ্চিন্তপুর ও নরসিংহপুর এলাকার একাধিক পোশাক কারখানা কর্তৃপক্ষ কারখানাগুলোতে ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। কাঠগড়া এলাকার একটি বিশিষ্ট শিল্পগ্রুপের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় এই অঞ্চলের অধিকাংশ কারখানাতেই ইতিমধ্যে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিছু কারখানায় শ্রমিকেরা ভেতরে থাকলেও তারা উৎপাদন কাজ বন্ধ রেখেছেন। সকাল ১০টার পর আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় পরিস্থিতি মোড় নেয় নতুন দিকে। সেখানকার কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা এক জোট হয়ে সড়কে অবস্থান নেন এবং মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে বাধা দিলে তৈরি হয় মুখোমুখি অবস্থান, যা এলাকায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করে। পরে শ্রমিকেরা পুলিশের সে বাধা তোয়াক্কা না করেই একযোগে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন এবং জামগড়ার দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাভারের হেমায়েতপুর, উলাইল, পদ্মার মোড় এবং আশুলিয়ার বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের বিভিন্ন কৌশলগত ও সংবেদনশীল পয়েন্টে পুলিশ ছাড়াও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিক্ষোভরত শ্রমিকদের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের কাছাকাছি অবস্থানে থেকে সতর্ক টহল দিচ্ছেন। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, সে জন্য পুরো শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ট্রাম্প শ্রমিকদের কারখানায় ফিরে আসার আহ্বান শ্রমমন্ত্রীর খুলনা অঞ্চলে চুইঝালের শতকোটি টাকার বাণিজ্য সচিবালয় স্থানান্তরের প্রতিবাদে ফের সড়ক অবরোধ শেকৃবি শিক্ষার্থীদের