নিউজ ডেক্স
আরও খবর
ধ্বংস করে দেওয়া শেখ হাসিনার বাড়ি ‘সুধা সদন’ থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার
মেট্রো স্টেশন থেকে উদ্ধার অত্যাধুনিক প্রযুক্তির পাইপবোমার ছাতা খুললেই ঘটাত বিস্ফোরণ
‘পুর্ব শত্রুতার জেরে’ পুলিশের এসবি কর্মকর্তার ওপর হামলা, পিঠে ৪৩টি সেলাই
ছাত্রলীগে গুপ্তবেশে ছিলেন ছাত্রদলের দুই নেতা, ‘কৌশল’ বলে স্বীকার করলেন
হোটেল কেলেঙ্কারির পর এবার দরিদ্র চা দোকানির ২৫ হাজার টাকা বকেয়া এনসিপির দুই নেতার
রাজধানীতে একদিনে গ্রেপ্তার ৪২৪
শাহবাগে ৪০ লাখ টাকার জাল নোটসহ গ্রেপ্তার ৪: প্রশ্নবিদ্ধ নতুন নোটের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য
মোহাম্মদপুরে টানা তিন সপ্তাহ ধরে তীব্র গ্যাস সংকট: জাপান গার্ডেন সিটিসহ আশপাশের এলাকায় জীবন নির্বাহে চরম ভোগান্তি
রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে রান্নার গ্যাসের তীব্র সংকট চলছে। জাপান গার্ডেন সিটি, তাজমহল রোড, জাকির হোসেন রোড, বাবর রোড, আসাদ অ্যাভিনিউসহ আশপাশের বাসিন্দারা সারাদিনই গ্যাসহীনতায় ভুগছেন। অনেকের অভিযোগ, এমন দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র সংকট আগে কখনো দেখা যায়নি।
সাধারণত শীতকালে সকালে গ্যাসের চাপ কম থাকলেও রাতে রান্না করা যেত। কিন্তু এবার সারাদিনই চুলায় আগুন জ্বলছে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। অনেক পরিবার বিস্কুট-রুটি খেয়ে চলছে, শিশু ও বয়স্কদের খাবার তৈরিতে চরম সমস্যা হচ্ছে।
ঘরে ঘরে বাড়ছে বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের ব্যবহার
গ্যাসের সংকটের কারণে মোহাম্মদপুরসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ইলেকট্রিক চুলা, ইলেকট্রিক হিটার, রাইস কুকার এবং ইলেকট্রিক ফ্রায়ারের ব্যবহার ব্যাপকভাবে বেড়েছে। অনেক পরিবার এখন এসব বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম কিনে রান্নার কাজ চালাচ্ছেন। ফলে বিদ্যুৎ বিলও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে গেছে। দোকানে এ ধরনের সরঞ্জামের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দামও কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী। অনেকে এলপিজি সিলিন্ডার বা মাটির চুলায় কাঠ জ্বালিয়েও রান্না করছেন, যা অতিরিক্ত খরচ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
জাতীয় কারণ: এলএনজি টার্মিনালে আগুন
এই সংকটের মূল কারণ কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) আগুন। ২১ জুলাই ইউএস-ভিত্তিক এক্সেলারেট এনার্জির টার্মিনালের একটি বয়লার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩,৮০০ এমএমসিএফডি, কিন্তু সরবরাহ স্বাভাবিক সময়েও ২,৭০০-২,৮০০ এমএমসিএফডির মধ্যে সীমাবদ্ধ। আমদানিকৃত এলএনজির ওপর নির্ভরতা (৩৫-৪০ শতাংশ) বেড়ে যাওয়ায় একটি টার্মিনালের সমস্যা সারাদেশে প্রভাব ফেলেছে। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ দল মেরামতের কাজ করছে, তবে স্বাভাবিক সরবরাহ ফিরতে আরও কয়েকদিন বা তার বেশি সময় লাগতে পারে।
তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি গ্রাহকদের কাছে ক্ষমা চেয়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে, চাপ কম থাকবে বলে। মোহাম্মদপুরসহ ঢাকার মিরপুর, ধানমন্ডি, কাফরুল, কলাবাগান, বাড্ডা, রামপুরাসহ বিভিন্ন এলাকায় এই প্রভাব সবচেয়ে বেশি।
বাসিন্দাদের দুর্ভোগ
জাপান গার্ডেন সিটির বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সারাদিন গ্যাস না থাকায় শিশুদের খাবার তৈরি করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। অনেকে রেস্তোরাঁ থেকে খাবার কিনছেন, যা খরচ বাড়াচ্ছে। সিএনজি স্টেশনেও দীর্ঘ লাইন, যানবাহন চলাচল ব্যাহত।
এলাকাবাসী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন এবং দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের গ্যাস খাত দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও নতুন উৎস আবিষ্কারের অভাবে এমন সংকটে পড়ছে।
তিতাস গ্যাস ও পেট্রোবাংলা কর্তৃপক্ষ বলছে, মেরামতকাজ চলছে এবং পরিস্থিতি উন্নতির চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে স্বাভাবিক সরবরাহ ফিরতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হতে পারে।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।