নিউজ ডেক্স
আরও খবর
বাসের পর লঞ্চেও অরাজকতা: নির্ধারিত ভাড়ার তোয়াক্কা নেই, যাত্রীদের কাছ থেকে ইচ্ছেমতো আদায়
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদ: ইউরোপের চার দেশের সমর্থন
ফেসবুকে তারেক রহমানের সমালোচনামূলক ভিডিওতে ‘লাইক’ দেওয়ায় বরখাস্ত শিক্ষক!
২৮০ কোটি টাকার সড়ক এখন চষা ক্ষেত: ‘লীগ-সম্পৃক্ততায়’ বাতিল ঠিকাদারের কার্যাদেশ, কাজও বন্ধ এক বছর ধরে
কৃষকের ভর্তুকির সার পাচার হয়ে যাচ্ছে মিয়ানমারে, বিনিময়ে ঢুকছে ইয়াবা-অস্ত্র
ভারতীয় ইলিশে দেশের বাজার সয়লাব, ১৯০ টাকার ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১৮শ টাকায়!
বনশ্রীতে পথকুকুরদের খাবার দেওয়া তরুণীকে পেটালেন যুবদলের নেতাকর্মীরা
‘শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ একান্তই ভারতীয় আদালতের বিষয়, ভারত সরকারের কিছু করার নেই’, অবস্থান স্পষ্ট দিল্লির
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর জন্য তারেক রহমান সরকারের বারবার অনুরোধের প্রেক্ষাপটে ভারতের শীর্ষস্থানীয় সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ ধরনের অনুরোধ ভারতীয় বিচার বিভাগের এখতিয়ারভুক্ত এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতকেই নিতে হবে। এখানে ভারত সরকারের কিছু করার নেই।
তবে একইসঙ্গে তারা জানিয়েছেন, ঢাকাকে এই কট্টর অবস্থান থেকে সরিয়ে আনতে দুই দেশের মধ্যে নিবিড় আলোচনা চলছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে সাংবাদিক রিতু সরিনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক সম্পর্ক থেকে বিচ্ছিন্ন কিছু নয় বলে মন্তব্য করেছেন এক ভারতীয় কর্মকর্তা।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (এমইএ) সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালে স্বাক্ষরিত দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তির শর্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি নথিপত্রসহ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই প্রত্যর্পণ অনুরোধ পাঠানো হয়েছিল।
এর আগে তারেক রহমানের অনুরোধের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতি অনুযায়ী বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং নতুন কোনো তথ্য থাকলে তা জানানো হবে।
বাংলাদেশে কথিত ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডের রায় হওয়া শেখ হাসিনার দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বর্তমানে নিষিদ্ধ। এই প্রেক্ষাপটে ঢাকার পক্ষ থেকে ২০১৩ সালের প্রত্যর্পণ চুক্তি এবং শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়ের কথা উল্লেখ করে বারবার তাকে ফেরত চাওয়া হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ব্রিকস আউটরিচ অধিবেশন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে দুই দেশের মধ্যকার বিস্তৃত কূটনৈতিক উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকে গত দুই বছর ধরে ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান দুই দেশের সম্পর্ককে জটিল করে তুলেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হাসিনার প্রত্যর্পণ ও অন্যান্য পলাতক আসামিদের হস্তান্তর না হওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফরে যাবেন না।
ঢাকার এই অবস্থানের নেপথ্যে রয়েছে গত ৫ই আগস্ট নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার এক সংবাদ সম্মেলন, যা নিয়ে বাংলাদেশ সরকার তীব্র আপত্তি জানিয়েছে। এ ছাড়া ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তরা ভারতে পলাতক দাবি করে তাদের হস্তান্তরেরও দাবি জানিয়েছে ঢাকা।
সংবাদ সম্মেলনের পূর্বেই শেখ হাসিনা নিজে একাধিক ভার্চুয়াল বক্তব্যে জানিয়েছেন, তিনি ডিসেম্বরে নিজেই দেশে ফিরবেন- হত্যা, নির্যাতনের ঝুঁকি নিয়ে। তাঁর এই বক্তব্যে ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার ও জামায়াত-শিবিরসহ বিভিন্ন দলের ভেতরে দেখা দিয়েছে ব্যাপক অস্বস্তি।
এদিকে, ভারতীয় কর্মকর্তাদের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, নয়াদিল্লি বিষয়টিকে সম্পূর্ণ বিচার বিভাগীয় প্রক্রিয়া হিসেবে দেখছে এবং একইসঙ্গে ঢাকাকে তার অনমনীয় অবস্থান থেকে সরিয়ে আনতে ধারাবাহিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে দুই দেশের সম্পর্কে দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থা তৈরি না হয়।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।
[TheChamp-FB-Comments]