নিউজ ডেক্স
আরও খবর
বিশ্ববাজারে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন, দেশে ভরি কত?
বৃষ্টির প্রভাব বাজারে: সপ্তাহ ব্যবধানে প্রায় সব সবজির দাম বেড়েছে
জেট ফুয়েলের দাম কমেছে প্রতি লিটারে ১৯ টাকা ২২ পয়সা
দুই দফা কমার পর আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম
লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ দাঁড়াল ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকায়
শেখ হাসিনা সরকারের স্থাপিত ঘোড়াশাল-পলাশ সার কারখানায় প্রথম বছরেই মুনাফা ২৩৩ কোটি টাকা
সরকারের দাবি ‘ছাড় দেওয়া হয়েছে’, কিন্তু বাজারে কমেনি নিত্যপণ্যের দাম: ওষ্ঠাগত সাধারণ মানুষের প্রাণ
এলডিসি উত্তরণে নতুন শঙ্কা, সংকট আরও বাড়তে পারে
২০২৬ সালের নভেম্বরে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ নির্ধারিত থাকলেও বর্তমান অর্থনৈতিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে সেই উত্তরণ দেশের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেছে সরকার।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ধীর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, খেলাপি ঋণের রেকর্ড বৃদ্ধি, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অনিশ্চয়তার মধ্যে এলডিসির বিশেষ বাণিজ্য ও নীতিগত সুবিধা হারালে অর্থনীতির ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে।
আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) বৈঠককে সামনে রেখে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে সরকার। এতে এলডিসি উত্তরণের সময়সীমা আরও তিন বছর পিছিয়ে ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত করার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। এতে বাংলাদেশের আমদানি ব্যয় এবং মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়বে।
একই সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিযোগী দেশগুলো মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করলে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রতিযোগিতা দুর্বল হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
সরকার আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর (ইউএসটিআর) বাংলাদেশের অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা (ওভারক্যাপাসিটি) নিয়ে তদন্ত করছে। পাশাপাশি শিশুশ্রম ও জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় একক রপ্তানি বাজার।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এলডিসি হিসেবে বাংলাদেশ বর্তমানে যে আন্তর্জাতিক সহায়তামূলক সুবিধা (ইন্টারন্যাশনাল সাপোর্ট মেজারস-আইএসএম) পেয়ে আসছে, উত্তরণের পর সেগুলোর বড় অংশ হারাতে হবে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক ও ওষুধশিল্পে এসব সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা (আঙ্কটাড)ও উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের অন্যতম বড় দুর্বলতা হিসেবে এসব সুবিধার ওপর নির্ভরশীলতাকে চিহ্নিত করেছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতে, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমেছে। একই সঙ্গে অগ্রাধিকারমূলক বাজারসুবিধার বিকল্প হিসেবে সম্ভাব্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিগুলো এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ফলে উত্তরণের আগে প্রস্তুতির জন্য আরও সময় প্রয়োজন।
প্রতিবেদনে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির দুর্বলতার কয়েকটি চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। ২০২১ সালের আগের পাঁচ বছর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের বেশি থাকলেও পরবর্তী সময়ে তা কমে এসেছে। ২০২২ সাল থেকে মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশের ওপরে রয়েছে এবং ২০২৫ সালে দারিদ্র্য আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে আমদানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে মোট আমদানি ব্যয়ের এক-চতুর্থাংশের বেশি ব্যয় হচ্ছে এসব পণ্যের পেছনে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে সময়ে তেল আমদানিতে ব্যয় বেড়েছে ৭২ শতাংশ এবং সারের ক্ষেত্রে ৪৪ শতাংশ। এতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপরও চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
ব্যাংক খাত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়েছে, খেলাপি ঋণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোয় ঋণ বিতরণ ও বিনিয়োগের জন্য ব্যাংকিং ব্যবস্থায় কাঠামোগত তারল্যসংকট তৈরি হয়েছে।
একই সঙ্গে বৈদেশিক ঋণের সুদ ও কিস্তি পরিশোধের ব্যয় বাড়তে থাকায় সরকারের আর্থিক সক্ষমতা সংকুচিত হচ্ছে। এর প্রভাব অবকাঠামো, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে সরকারি ব্যয়ের ওপরও পড়তে পারে।
রোহিঙ্গা সংকট এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য অনিশ্চয়তার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা থাকা সত্ত্বেও উচ্চ সুদের হার, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং উৎপাদন ব্যয় বাড়ায় রপ্তানি প্রত্যাশিত হারে বাড়ছে না।
অন্যদিকে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন বিলম্বিত হওয়ায় সরকারের আর্থিক চাপও বাড়ছে।
এসব বাস্তবতা বিবেচনায় সরকারের মূল্যায়ন, অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করা এবং টেকসইভাবে এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে অন্তত আরও দুই বছর সময় প্রয়োজন। সে কারণেই ২০২৬ সালের পরিবর্তে ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত উত্তরণ পিছিয়ে দেওয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন চাওয়া হচ্ছে।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।