নিউজ ডেক্স
আরও খবর
একটির খরচে ৫টি নির্মাণের স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেল: ৩য় এলএনজি টার্মিনালে ব্যয় বৃদ্ধি ৩৫-৩৭ শতাংশ
নেত্রকোনায় দোকানে বসে থাকা সাংবাদিককে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা
কাজ নাই, তাই বেতনও নাই: ৫ পোশাক কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা
দেশের সব হাসপাতাল-মেডিকেল কলেজে তিনটি নির্দিষ্ট বই রাখা বাধ্যতামূলক করে নির্দেশনা জারি
সীমান্তে আটক দুই পুলিশ সদস্যকে ১৫ ঘণ্টা পর হস্তান্তর করল বিএসএফ
বাংলাদেশের মতো ভারতেও তারা সরকার বদল করতে চায়: রাজনাথ
ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে শুরু দুর্গোৎসব
ডব্লিউএফপির প্রতিবেদন: দেশে খাদ্য সংকটে প্রায় ২ কোটি মানুষ, খাবার থাকলেও ক্রয়ের সামর্থ্য নেই
দেশে অনেক মানুষই এখন খাবার কেনার সামর্থ্য হারাচ্ছেন। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, আয় ও কর্মসংস্থানের সংকট এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ—সব মিলিয়ে খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শেষ চার মাসে দেশের ১ কোটি ৮১ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকিতে থাকতে পারেন। বছরের শুরুতে এই সংখ্যা ছিল ২৮ লাখ কম।
আজ শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, বিশ্ব খাদ্য দিবস। এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘আজকের উদ্ভাবন, আগামী দিনের পুষ্টি’। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) ২০তম সম্মেলনে ১৯৭৯ সালে দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত হয়; প্রথমবার উদযাপন করা হয় ১৯৮১ সালে।
খাদ্যপ্রাপ্তি ও পুষ্টির গুরুত্ব তুলে ধরার এই দিনে দেশের খাদ্যনিরাপত্তা পরিস্থিতি আবারও আলোচনায় এসেছে।
২২শে সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ডব্লিউএফপির প্রতিবেদনে খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকি বাড়ার পেছনে কয়েকটি কারণ তুলে ধরা হয়েছে। পণ্যের চড়া দাম ও মানুষের কমে যাওয়া ক্রয়ক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বন্যায় কৃষিজমির ক্ষতি, শিশুদের অপুষ্টি এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের খাদ্যসহায়তা চালিয়ে যাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা।
বাজারে খাবার পাওয়া গেলেও অনেক পরিবারের তা কেনার সামর্থ্য নেই। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে, মোটা চালের কেজি এখন অন্তত ৫০ টাকা। খোলা আটাও কেজিপ্রতি প্রায় ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে সীমিত আয়ের মানুষের মাসিক খরচের বড় অংশ খাবার কিনতেই ব্যয় হচ্ছে।
খাদ্যপণ্যের দাম বাড়তে শুরু করে ২০২২ সালের গোড়ায়, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১৪ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়—প্রায় এক যুগের মধ্যে যা ছিল সর্বোচ্চ। এরপর কয়েক মাস ধরে হারটি ১০ শতাংশের ওপরেই ছিল। এখন মূল্যস্ফীতির হার কমেছে, তবে পণ্যের দাম আগের পর্যায়ে ফিরে যায়নি।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সেপ্টেম্বরের হিসাবে, খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ২২ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৩০ শতাংশ। অর্থাৎ খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার গতি কিছুটা কমলেও সাধারণ মানুষের ব্যয়ের চাপ পুরোপুরি কাটেনি।
অর্থনীতির সামনের দিনগুলো নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ১৩ অক্টোবরের পূর্বাভাস বলছে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে ৩ দশমিক ২ শতাংশ হতে পারে।
একই সময়ে গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়াতে পারে ১০ দশমিক ৯ শতাংশে। প্রবৃদ্ধির গতি কম থাকা এবং মূল্যস্ফীতির চাপ চলতে থাকলে মানুষের আয় ও ক্রয়ক্ষমতার পাশাপাশি বিনিয়োগের পরিবেশও আরও কঠিন হতে পারে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি পড়েছে কৃষি উৎপাদনেও। ডব্লিউএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে বন্যা ও জলাবদ্ধতায় প্রায় ৮০ হাজার হেক্টর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার কৃষক পরিবার ও ১৩ লাখ মানুষ।
জমি নষ্ট হওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে; একই সঙ্গে কৃষিনির্ভর অনেক মানুষের আয়ের সুযোগও সংকুচিত হয়েছে।
খাদ্যনিরাপত্তার ক্ষেত্রে প্রবাসী আয়ের ভূমিকাও রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের মোট প্রবাসী আয়ের প্রায় অর্ধেক আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। ওই অঞ্চলে অস্থিরতা দেখা দিলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হতে পারে, যার প্রভাব পড়বে দেশের অর্থনীতি ও পরিবারগুলোর ক্রয়ক্ষমতায়।
খাবারের অভাবের পাশাপাশি পুষ্টিহীনতাও বড় উদ্বেগ। ডব্লিউএফপির তথ্য বলছে, দেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের প্রতি চারজনের একজন খর্বকায়—অর্থাৎ বয়স অনুযায়ী তাদের উচ্চতা কম।
এ ছাড়া ১১ শতাংশ শিশু ক্ষীণকায়, অর্থাৎ উচ্চতার তুলনায় তাদের ওজন কম। দেশের প্রতি পাঁচটি পরিবারের মধ্যে দুটিতে অণুপুষ্টির উল্লেখযোগ্য ঘাটতি রয়েছে। পর্যাপ্ত খাবার ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান না পাওয়ায় শিশুদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে।
সরকারি খাদ্য বিতরণের হিসাবেও ঘাটতির কিছু ইঙ্গিত রয়েছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মসূচিতে ৮ লাখ ৩৪ হাজার টন চাল ও গম বিতরণ করা হয়েছে।
গত বছরের একই সময়ের তুলনায় পরিমাণটি ৪৮ হাজার টন কম। তবে দেশে বর্তমানে প্রায় সাড়ে ২৩ লাখ টন খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে।
খাদ্যনিরাপত্তাহীনতা মোকাবিলায় সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদেরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হানের মতে, সরকারের প্রথম কাজ হওয়া উচিত ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে শনাক্ত করে তাদের কাছে দ্রুত ও কার্যকর সহায়তা পৌঁছে দেওয়া।
তিনি বলেন, নিম্ন আয়ের পরিবার, দিনমজুর, কৃষিশ্রমিক, নারীপ্রধান পরিবার ও দুর্যোগকবলিত এলাকার মানুষের জন্য খাদ্যসহায়তা বাড়ানো দরকার। পাশাপাশি ন্যায্যমূল্যে চাল, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি এবং প্রকৃত অভাবগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য লক্ষ্যভিত্তিক নগদ সহায়তার পরিধিও বাড়াতে হবে।
বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি এবং পণ্যের দাম নিয়ে কারসাজি ঠেকানোর ওপরও জোর দিয়েছেন সেলিম রায়হান।
তার মতে, মজুতদারি রোধে নিয়মিত নজরদারি চালানো এবং খাদ্যপণ্যের সরবরাহব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। খাদ্যসহায়তা যেন প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছায়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।
[TheChamp-FB-Comments]