আরও ৪.৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ চায় বৈদেশিক ঋণের ভারে জর্জরিত বাংলাদেশ – বর্ণমালা টেলিভিশন

আরও ৪.৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ চায় বৈদেশিক ঋণের ভারে জর্জরিত বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৬ October, ২০২৬ | ৮:৫৩ 50 ভিউ
রাজস্ব আদায় বাড়ানো, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার ও খেলাপি ঋণ কমানোকে গুরুত্ব দিচ্ছে আইএমএফ। আগের ঋণচুক্তিতে খেলাপি ঋণ ১০ শতাংশে নামানোর লক্ষ্য থাকলেও তা বেড়ে প্রায় ৩৩ শতাংশ হয়েছে। নতুন ঋণ কর্মসূচির শর্ত ও সংস্কারের লক্ষ্যমাত্রা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ত্রৈমাসিক কিস্তিতে ৪৫০ কোটি ডলার ঋণ নিতে চায় বাংলাদেশ। প্রস্তাবিত ঋণের পরিমাণ, কিস্তি ও শর্ত চূড়ান্ত করতে চলতি মাসের শেষ দিকে আইএমএফের একটি প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ সফরের পর কর্মকর্তা পর্যায়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। সবকিছু নির্ধারিত সময় অনুযায়ী এগোলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ ঋণচুক্তি সই হতে পারে। তবে নতুন ঋণ কর্মসূচির বিপরীতে কী ধরনের সংস্কার করতে হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত বাড়ানো, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা দূর করা, খেলাপি ঋণ কমানো এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনাকে গুরুত্ব দিচ্ছে আইএমএফ। আগের ঋণ কর্মসূচিতে খেলাপি ঋণ কমানোর যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল, তা অর্জিত না হওয়ায় নতুন কর্মসূচিতে সংস্কারের অগ্রগতি ও বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে ২০২৬ সালের আইএমএফ-বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভার ফাঁকে আইএমএফের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নাইজেল ক্লার্কের সঙ্গে বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৈঠক শেষে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের কর্মকর্তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঋণ পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদ জানান। নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিনিধিদলের একজন কর্মকর্তা বলেন, চলতি মাসের শেষ দিকে আইএমএফের স্টাফ মিশন বাংলাদেশ সফর করবে। এরপর কর্মকর্তা পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে ঋণের পরিমাণ ও শর্ত চূড়ান্ত হবে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ ঋণচুক্তি সই হতে পারে বলেও জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর প্রস্তাবিত ঋণের পরিমাণ বা কিস্তির সংখ্যা নিশ্চিত করেননি। তিনি বলেন, কর্মকর্তা পর্যায়ের আলোচনা এবং আইএমএফের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এসব বিষয় নির্ধারিত হবে। তিতুমীর আরও বলেন, ২০৩০ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগেই, অর্থাৎ ২০২৯ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে সংস্কার উদ্যোগগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। কারণ, এরপর সরকারকে জনগণের ম্যান্ডেটের মুখোমুখি হতে হবে। অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীও বলেছেন, নতুন ঋণ কর্মসূচির জন্য কিছু শর্ত থাকবে এবং সেগুলো পূরণ করতে হবে। তবে কিছু বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছানো হবে। গতকাল ক্লার্কের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, প্রস্তাবিত কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে। এ কর্মসূচির আওতায় কী ধরনের শর্ত থাকবে এবং সেগুলো কীভাবে পূরণ করা হবে, তা নিয়ে আরও আলোচনা হবে। রাজস্ব আদায় ও ব্যাংকিং খাতে সংস্কারে জোর প্রস্তাবিত ঋণের পরিমাণ ৪৫০ কোটি থেকে ৫০০ কোটি ডলার হতে পারে বলে জানিয়েছেন আইএমএফের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের উপপরিচালক সোনালি জৈন-চন্দ্র। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এ ঋণ নিয়ে আলোচনায় রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি ও আর্থিক খাতের সংস্কারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে সংস্থাটি। গতকাল এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলবিষয়ক সংবাদ সম্মেলনে জৈন-চন্দ্র বলেন, বাংলাদেশের রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত কমে ৭ শতাংশে নেমেছে, যা বিশ্বের সর্বনিম্ন পর্যায়ের মধ্যে রয়েছে। তিনি বলেন, আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য রাজস্ব আদায় বাড়ানো জরুরি। পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতের বড় সমস্যাগুলো সমাধানে কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অব্যাহত রাখা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছে আইএমএফ। অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ব্যাংকিং খাত, কর-জিডিপি অনুপাত, ব্যাংকের পুনঃমূলধনীকরণ ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আইএমএফ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এসব বিষয়ে সংস্থাটির পর্যবেক্ষণের সঙ্গে বাংলাদেশও একমত। ইতিমধ্যে অনেক সমস্যার সমাধান হয়েছে এবং বাকি বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা চলবে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধসহ বৈশ্বিক নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও বাজেট-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি নিয়ে আইএমএফ সন্তোষ প্রকাশ করেছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী। তবে রাজস্ব আদায়ের দুর্বলতা ও ব্যাংকিং খাতের সংকট দীর্ঘদিনের। রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত ৭ শতাংশে নেমে আসা করের আওতা সম্প্রসারণ ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতাকে সামনে এনেছে। অন্যদিকে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের উচ্চ হার এবং দুর্বল ব্যাংকগুলোর আমানত ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ আর্থিক খাতে আস্থা পুনরুদ্ধারের চ্যালেঞ্জ তুলে ধরছে। নতুন ঋণ কর্মসূচিতে এসব সমস্যার সমাধানে কী পরিমাণ সংস্কার ও কত সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। খেলাপি ঋণ বেড়ে প্রায় ৩৩ শতাংশ বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিদলের একজন কর্মকর্তা জানান, বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ব্যাংকিং খাতের সংস্কার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং খেলাপি ঋণ কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ওই কর্মকর্তা বলেন, সংকটে থাকা সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের আমানত ফেরত দেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার থেকে ন্যাশনাল ব্যাংকের গ্রাহকদের আমানত ফেরত দেওয়াও শুরু হয়েছে। দুর্বল ব্যাংকগুলোর আমানতকারীদের নিয়মিত অর্থ ফেরত দেওয়ার মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর ওপর গ্রাহকের আস্থা ফিরিয়ে আনতে চায় সরকার। এ ছাড়া ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনার পরিকল্পনাও প্রস্তুত করছে প্রতিনিধিদলটি। তবে খেলাপি ঋণ কমানোর ক্ষেত্রে আগের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি বাংলাদেশ। ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আইএমএফের সঙ্গে সই করা ঋণচুক্তিতে ২০২৬ সালের মধ্যে খেলাপি ঋণের হার ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে এ হার বেড়ে প্রায় ৩৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। আগের কর্মসূচির লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ার পর নতুন ঋণ কর্মসূচিতে খেলাপি ঋণ কত শতাংশে নামিয়ে আনা হবে, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই কর্মকর্তা। ফলে নতুন ঋণ কর্মসূচিতে শুধু সংস্কারের প্রতিশ্রুতি নয়, সেগুলোর বাস্তবায়ন কতটা কার্যকরভাবে হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। বিশেষ করে খেলাপি ঋণ আদায়, দুর্বল ব্যাংকের আর্থিক অবস্থার উন্নতি এবং আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জন করা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। গত ১২ই অক্টোবর ব্যাংককে ২০২৬ সালের আইএমএফ-বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভা শুরু হয়েছে। আগামী ১৮ই অক্টোবর পর্যন্ত এ সভা চলবে। এতে বিভিন্ন দেশের অর্থমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর, নীতিনির্ধারক এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। তারেক সরকারের ৩ মাসে বৈদেশিক ঋণ বেড়েছে ৪২০ কোটি ডলার! বাংলাদেশের বিদেশি ঋণ অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে প্রায় ১১৫ বিলিয়ন বা ১১ হাজার ৫০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। মাত্র তিন মাসে ঋণের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার—শতকরা হিসাবে ৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ। বর্তমান বিনিময় হার—প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ২০ পয়সা—ধরলে এই ঋণের টাকার অঙ্ক দাঁড়ায় ১৪ লাখ ১৬ হাজার ৫৯০ কোটি টাকা। রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত হালনাগাদ পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষে বাংলাদেশের মোট বিদেশি ঋণ ছিল ১১৪ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ ১১ হাজার ৪৯৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার। এর আগের মার্চের শেষে ঋণের পরিমাণ ছিল ১১০ দশমিক ৯৩ বিলিয়ন বা ১১ হাজার ৯৩ কোটি ডলার। ছয় মাস আগে, গত বছরের ডিসেম্বর শেষে তা ছিল ১১৩ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার। আর এক বছর আগে জুনের শেষে মোট বিদেশি ঋণ ছিল ১১৩ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ছয় মাসে বিদেশি ঋণ বেড়েছে ১ দশমিক ২৯ শতাংশ। এক বছরের হিসাবে বৃদ্ধির হার ১ দশমিক ২৩ শতাংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব বলছে, গত জুনের শেষে সরকারি খাতের বিদেশি ঋণ দাঁড়ায় ৯৫ দশমিক ১০ বিলিয়ন বা ৯ হাজার ৫১০ কোটি ডলারে। মার্চ শেষে এই ঋণের পরিমাণ ছিল ৯০ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলার। ফলে তিন মাসে সরকারি খাতের ঋণ বেড়েছে প্রায় ৪২০ কোটি ডলার। একই সময়ে বেসরকারি খাতের বিদেশি ঋণ অবশ্য ১৪ কোটি ডলার কমেছে। জুনের শেষে এ খাতের ঋণ নেমে আসে ১৯ দশমিক ৮৮ বিলিয়ন বা ১ হাজার ৯৮৮ কোটি ডলারে। ঋণের মেয়াদ বিশ্লেষণে দেখা যায়, জুনের শেষে মোট বিদেশি ঋণের ৮৭ দশমিক ৫২ শতাংশ ছিল দীর্ঘমেয়াদি। এই ঋণের পরিমাণ ১০০ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে স্বল্পমেয়াদি ঋণ ছিল ১৪ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলার। ঋণদাতার ধরন অনুসারে, জুনের শেষে বিশ্বব্যাংক, এডিবি এবং অন্যান্য বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সংস্থার কাছ থেকে নেওয়া ঋণ ছিল ৪৮ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলার। দ্বিপক্ষীয় ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩২ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলারে। এ ছাড়া বাণিজ্যিক ঋণ ছিল ১০ দশমিক ৬০ বিলিয়ন এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ ছিল ৫ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন ডলার। মার্চের শেষে বেসরকারি খাতের বিদেশি ঋণ ছিল ২০ দশমিক শূন্য দুই বিলিয়ন ডলার। জুনের শেষে তা কমে ১৯ দশমিক ৮৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়। এ খাতের স্বল্পমেয়াদি ঋণ, ক্রেতাঋণ বা বায়ার্স ক্রেডিট এবং বাণিজ্যঋণ কমে যাওয়াই মোট বিদেশি ঋণ হ্রাসের কারণ।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

[TheChamp-FB-Comments]
ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
শ্রমিক অসন্তোষে স্থবির দেশের প্রধান রপ্তানি খাত: বড় সংকটের মুখে তৈরি পোশাকশিল্প বীর মুক্তিযোদ্ধার জানাজা ও দাফনে জামায়াত-শিবিরের বাধার ঘটনার প্রতিবাদে শৈলকুপায় মানববন্ধন ইউনূস আমলে হামের টিকার অনিয়ম তদন্তে কমিশন গঠন মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের জের ধরে সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আজ ৫ই নভেম্বর, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এই অঞ্চলের একাধিক পোশাক কারখানায় শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করছেন। একপর্যায়ে পুলিশের রক্তচক্ষু ও বাধা উপেক্ষা করে হাজারো শ্রমিক রাজপথে নেমে এলে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়। সকালে সাভার ও আশুলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোতে শ্রমিকেরা যথারীতি উপস্থিত হলেও তারা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অংশ না নিয়ে কর্মবিরতির ডাক দেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সার্বিক নিরাপত্তাশঙ্কা দেখা দিলে বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের জামগড়া, নিশ্চিন্তপুর ও নরসিংহপুর এলাকার একাধিক পোশাক কারখানা কর্তৃপক্ষ কারখানাগুলোতে ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। কাঠগড়া এলাকার একটি বিশিষ্ট শিল্পগ্রুপের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় এই অঞ্চলের অধিকাংশ কারখানাতেই ইতিমধ্যে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিছু কারখানায় শ্রমিকেরা ভেতরে থাকলেও তারা উৎপাদন কাজ বন্ধ রেখেছেন। সকাল ১০টার পর আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় পরিস্থিতি মোড় নেয় নতুন দিকে। সেখানকার কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা এক জোট হয়ে সড়কে অবস্থান নেন এবং মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে বাধা দিলে তৈরি হয় মুখোমুখি অবস্থান, যা এলাকায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করে। পরে শ্রমিকেরা পুলিশের সে বাধা তোয়াক্কা না করেই একযোগে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন এবং জামগড়ার দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাভারের হেমায়েতপুর, উলাইল, পদ্মার মোড় এবং আশুলিয়ার বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের বিভিন্ন কৌশলগত ও সংবেদনশীল পয়েন্টে পুলিশ ছাড়াও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিক্ষোভরত শ্রমিকদের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের কাছাকাছি অবস্থানে থেকে সতর্ক টহল দিচ্ছেন। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, সে জন্য পুরো শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ট্রাম্প শ্রমিকদের কারখানায় ফিরে আসার আহ্বান শ্রমমন্ত্রীর খুলনা অঞ্চলে চুইঝালের শতকোটি টাকার বাণিজ্য সচিবালয় স্থানান্তরের প্রতিবাদে ফের সড়ক অবরোধ শেকৃবি শিক্ষার্থীদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা পর্যালোচনা করবে সংসদীয় ককাস যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের কারণ ইরান যুদ্ধ: জেডি ভ্যান্স ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ থেকে ডিজিই-পে বিচ্ছিন্ন করল বাংলাদেশ ব্যাংক তরঙ্গ নবায়ন ব্যয় যৌক্তিক করার আহ্বান মোবাইল অপারেটরদের এশিয়া ফাউন্ডেশনের প্রকল্পে ৯০ হাজার উদ্যোক্তাকে সাইবার নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ বাংলাদেশ নিয়ে বাইডেন প্রশাসনের ভূমিকা তদন্তের দাবি, ওয়াশিংটনে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনের পর Newsmax-এ বিশেষ কলাম বৈশ্বিক উৎপাদনকেন্দ্র হতে চায় বাংলাদেশ: তিতুমীর শ্রমিক আন্দোলন দমনে কঠোর অবস্থানে সরকারঃ পুলিশ ও দলীয়কর্মী ছাড়াও ২৫ প্লাটুন যৌথ বাহিনী মোতায়েন জাতীয়ভাবে উপেক্ষিত জেলহত্যা দিবস, সিলেটে নিষেধাজ্ঞা, মব-গ্রেফতার হুমকির মাথায় নিয়েই আওয়ামী লীগের জাতীয় নেতাদের স্মরণ জুলাইর ওয়াসিম হত্যা-মামলার আসামিকে এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্ব দেওয়া কি পুরস্কার? প্রশ্ন- কারা মেরেছে তবে ওয়াসিমকে? বাপে মারছে সৈনিক, মায়ে মারছে কৃষক, পোলায় মারছে শ্রমিক’—এমন স্লোগানে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের শিল্পাঞ্চল। ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে গত কয়েক দিন ধরে রাজধানীর মিরপুর, গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ, ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। গতকাল মঙ্গলবারও এসব এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। আজ বুধবার সকালেও গাজীপুর, সাভার ও নারায়ণগঞ্জে নতুন করে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিল্পাঞ্চলগুলোয় অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে সহিংসতায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ঢাকার উত্তরার শিন শিন জাপান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান গাজীপুরে হামলায় গুরুতর আহত পোশাকশ্রমিক তৌফিক হোসেন। সোমবার গাজীপুরের জয়দেবপুরের বাহাদুরপুর এলাকায় নোমান টেরি টাওয়েল মিলসের সামনে সংঘর্ষের দৃশ্য মুঠোফোনে ধারণ করার সময় হামলার শিকার হন তিনি। পরে স্বজনরা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি গাজীপুরের লায়লা স্টাইল লিমিটেডের শ্রমিক ছিলেন। এ ঘটনায় তাঁর মৃত্যুর পর গাজীপুরের বাংলাবাজার এলাকার কয়েকটি কারখানায় গতকাল ছুটি ঘোষণা করা হয়। শ্রমিকদের দাবি, বর্তমান বাজারদরে প্রচলিত ন্যূনতম মজুরিতে সংসার চালানো সম্ভব হচ্ছে না। বাড়িভাড়া, খাবার, চিকিৎসা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয় মেটাতে গিয়ে প্রতিনিয়ত সংকটে পড়তে হচ্ছে তাঁদের। এ অবস্থায় মাসিক ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে হয়রানি, শ্রমিকদের ওপর হামলা এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় চাকরিচ্যুতির অভিযোগেরও প্রতিকার চাইছেন শ্রমিকরা। আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানার সাইনবোর্ড, বাংলাবাজার ও মির্জাপুর এলাকায় দুই থেকে চার হাজার শ্রমিক ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নেন। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শ্রমিকদের সরিয়ে দিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে তাঁদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন আন্দোলনকারীরা। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের সরিয়ে দেয়। পরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। জয়দেবপুর, সালনা, রাজেন্দ্রপুর ও শফিপুর এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বাংলাবাজার ও কাশিমপুর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সতর্ক অবস্থানে ছিল। গাজীপুরের বোর্ডবাজারের বড়বাড়ী এলাকাতেও সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। তাঁদের সরিয়ে দিতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এদিকে তৌফিক হোসেনের মৃত্যুর পর বাংলাবাজার এলাকার কয়েকটি কারখানায় বুধবারও ছুটি ঘোষণা করা হয়। তবে কতটি কারখানা বন্ধ ছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সাভারের হেমায়েতপুরেও আজ সকালে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। শ্রমিকদের অবরোধের কারণে আশপাশের সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার হেমায়েতপুর এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। দুপুর থেকে বিকাল ৫টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত চলা অবরোধে মহাসড়কের দুই পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। পরে শ্রমিকরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করলে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায়ও আজ বুধবার নতুন করে বিক্ষোভ করেছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। সকাল ১০টার দিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কের পাশে কুতুবাইল কাঠেরপুল এলাকায় জড়ো হন কয়েকটি কারখানার শ্রমিক। তাঁরা মূল সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এ সময় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। শ্রমিকদের অভিযোগ, তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছিলেন। এ সময় স্থানীয় কিছু ব্যক্তি তাঁদের ওপর হামলা চালান। অন্যদিকে পুলিশের দাবি, সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের ছোড়া টিয়ার গ্যাসে স্থানীয় একটি হোসিয়ারি কারখানার শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাজধানীর মিরপুরেও গতকাল মঙ্গলবার শ্রমিকদের বিক্ষোভ ঘিরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর-১১ মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। সংঘর্ষে চার পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে কালশী সড়কে এক পুলিশ সদস্যকে মারধরের ঘটনাও ঘটে। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সংঘর্ষের কারণে মেট্রোরেল চলাচলেও সাময়িক বিঘ্ন ঘটে। নিরাপত্তার কারণে মিরপুর-১০ স্টেশনে প্রায় দুই ঘণ্টা ট্রেন থামানো বন্ধ রাখা হয়। আজ বুধবার মিরপুরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় ১০ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। পুলিশের দাবি, বুধবার শ্রমিকদের সড়কে নামার সুযোগ হয়নি এবং অনেক কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম চলছে। এদিকে শ্রমিক অসন্তোষের কারণে শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। দৈনিক বাংলার প্রকাশিত বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার ৩০৬টি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। এতে ৬ লাখ ৯৪ হাজার ৭৯৩ শ্রমিকের কাজ ব্যাহত হয়। এর আগে ১ নভেম্বর ৫২৯টি কারখানা বন্ধ হয়েছিল এবং কর্মস্থল ছেড়েছিলেন ৯ লাখ ৮৭ হাজার ১৯০ জন শ্রমিক। অর্থাৎ আন্দোলনের প্রভাবে একাধিক শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আজ বুধবার সাভার-আশুলিয়া, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে মোট ২৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, সাভারের হেমায়েতপুর, আশুলিয়া ও বাইপাইল এলাকায় পাঁচ প্লাটুন, গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় ১৩ প্লাটুন এবং নারায়ণগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ছয় প্লাটুন বিজিবি দায়িত্ব পালন করছে। এর পাশাপাশি পুলিশ ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও শিল্পাঞ্চলে টহল দিচ্ছেন। এদিকে শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণে সরকার নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। ছয় সদস্যের এ বোর্ডের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ বুধবার। বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সৈয়দ আজাদ সোবহানি। মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন এ বি এম সামসুদ্দিন ও আসিব আইয়ুব। শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন বাবুল আক্তার ও আনোয়ার হোসেন। শ্রমিকদের প্রত্যাশা, নতুন মজুরি বোর্ড দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত নেবে। তবে বোর্ড গঠনের পরও আন্দোলন থামেনি; বরং রাজধানী ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষ অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস তৈরি পোশাক খাত। এ খাতে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক কাজ করেন। ফলে শ্রমিক অসন্তোষ দীর্ঘায়িত হলে উৎপাদন, সরবরাহ ও রপ্তানি কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। একদিকে জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মজুরির দাবিতে শ্রমিকদের ক্ষোভ, অন্যদিকে কারখানার উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখার চাপ—সব মিলিয়ে তৈরি পোশাক খাতের পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। ডিবি হেফাজতে ইকবাল সোবহান চৌধুরীঃ ২৭ মাস সমঝোতা করেও শেষ রক্ষা হলোনা শেখ হাসিনার সাবেক তথ্য উপদেষ্টার