নিউজ ডেক্স
আরও খবর
একটির খরচে ৫টি নির্মাণের স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেল: ৩য় এলএনজি টার্মিনালে ব্যয় বৃদ্ধি ৩৫-৩৭ শতাংশ
নেত্রকোনায় দোকানে বসে থাকা সাংবাদিককে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা
দেশের সব হাসপাতাল-মেডিকেল কলেজে তিনটি নির্দিষ্ট বই রাখা বাধ্যতামূলক করে নির্দেশনা জারি
ডব্লিউএফপির প্রতিবেদন: দেশে খাদ্য সংকটে প্রায় ২ কোটি মানুষ, খাবার থাকলেও ক্রয়ের সামর্থ্য নেই
সীমান্তে আটক দুই পুলিশ সদস্যকে ১৫ ঘণ্টা পর হস্তান্তর করল বিএসএফ
বাংলাদেশের মতো ভারতেও তারা সরকার বদল করতে চায়: রাজনাথ
ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে শুরু দুর্গোৎসব
কাজ নাই, তাই বেতনও নাই: ৫ পোশাক কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা
বেতন বাড়ানো ও বকেয়া মজুরি পরিশোধের দাবিতে শ্রমিকদের টানা আন্দোলনের মধ্যে রাজধানীর উত্তরার দক্ষিণখান এলাকার পাঁচটি পোশাক কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬-এর ১৩(১) ধারা অনুসারে ‘কাজ নেই, বেতন নেই’ নীতি প্রয়োগ করে কারখানাগুলো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
১৫ই অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর পৃথক নোটিশে বন্ধের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। কারখানা পাঁচটি হলো ভার্সাটাইল অ্যাপারেল প্রাইভেট লিমিটেড, এমব্রেলা লিমিটেড, নাইস অ্যাপারেলস ইন্ডাস লিমিটেড, ড্যাজলিং ড্রেসেস লিমিটেড এবং ওলিও অ্যাপারেলস লিমিটেড।
কর্তৃপক্ষের নোটিশে বলা হয়েছে, ১২ থেকে ১৪ই অক্টোবর পর্যন্ত একদল শ্রমিক অনৈতিক ও বেআইনি ধর্মঘট করেছেন, কাজে যোগ দেননি এবং কর্মস্থলে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এতে স্বাভাবিক উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে বলে কর্তৃপক্ষের দাবি।
দক্ষিণখানের চালাবন এলাকায় থাকা নাইস অ্যাপারেলসের নোটিশে অভিযোগ করা হয়, কয়েকজন শ্রমিক কারখানার প্রধান ফটকে বাধা দিয়েছেন এবং অন্য শ্রমিকদের কাজে ঢুকতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছেন।
অন্যদিকে, ওলিও অ্যাপারেলস কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, শ্রমিকদের কাজে ফেরানো ও সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করা হলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি।
এই অবস্থায় নিরাপত্তা বিভাগের কাজ বাদে কারখানাগুলোর বাকি সব কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরবর্তী নোটিশে উৎপাদন ও অন্যান্য কার্যক্রম শুরুর সময় জানানো হবে বলে তারা জানিয়েছে।
এর আগে, ১২ই অক্টোবর (সোমবার) থেকে উত্তরার আজমপুর ও রাজলক্ষ্মী এলাকায় বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা আন্দোলন শুরু করেন। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে ন্যূনতম মূল বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, বকেয়া মজুরি পরিশোধ এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো।
আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ব্যয় ও সন্তানদের পড়াশোনার খরচ বেড়েছে। বর্তমান বেতনে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বারবার দাবি জানালেও সমাধান না মেলায় তারা সড়কে নামতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
এদিকে, বৃহস্পতিবারও আজমপুর এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকেরা এবং সড়ক অবরোধ করেন। এর ফলে কয়েক ঘণ্টা যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়।
বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬-এর ১৩(১) ধারায় বলা হয়েছে, বেআইনি ধর্মঘটের কারণে কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হলে ধর্মঘটে অংশ নেওয়া শ্রমিকেরা বন্ধের সময়ের মজুরি পাবেন না।
তবে ধর্মঘটে অংশ নেননি—এমন শ্রমিকদের মজুরি একই ধারার আওতায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ করা যায় না। তাদের বিষয়ে আইনের অন্যান্য প্রযোজ্য বিধান অনুসরণ করতে হবে।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।
[TheChamp-FB-Comments]