রাজু নুরুল
আরও খবর
শেখ হাসিনার সরকারের পতন পরবর্তী দুই বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতির হালচাল
রাষ্ট্রীয় স্থায়িত্ব ও রাষ্ট্রের প্রতি সেনাবাহিনীর আনুগত্য: ভারতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা
প্রোফাইল লাল করা নিয়ে জুলাই-আগস্টের রাজনীতি এবং বর্তমান বাস্তবতা
হাসিনা সরকার পতনে “সক্রিয় ভূমিকা” রেখেছি: প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান (ভিডিও)
বাংলাদেশে কি একটা নিরব গণহত্যা চলছে?
ইউনূসের পথেই তারেক রহমানঃ নাম-না-জানা দেশের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাতারে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী
হাওয়া ভবন বাজেট ১০১: বাজেটের “আকার” বেড়েছে কিন্তু “উকার” কমেছে
দল ক্ষমতা হারালে সবার আগে পিছটান দেন তারকা রাজনীতিবিদ’রা, দু’দিনের রাজনীতিবিদ সাকিব কেন ব্যাতিক্রম?
সাকিব আল হাসান রয়টার্সের সাথে নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন। পরশু শেখ হাসিনার সাথে সংবাদ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার পর তার মাগুরার বাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে, মারা হয়েছে বোমা।
এত কিছুর পরও রয়টার্সে দেওয়া তার ইন্টারভিউ পড়ে আমি জাস্ট মুগ্ধ। গত দুই বছরের কর্মকান্ড দেখে সাকিব সম্পর্কে আমার ধারণা পুরোপুরি পাল্টে গেল। কেনো সেটা একটু বলি-
তার আগে মমতা ব্যানার্জি ও তার দল নিয়ে দুটো কথা বলা দরকার। এতে বুঝতে সুবিধা হবে।
মমতার দল এবারের বিধানসভা নির্বাচনে হারলেও আসন পেয়েছে ৮৫টি। খুব কম না কিন্তু!
তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, তার দল ভোট পেয়েছে ৪০ ভাগেরও বেশি। টানা ১৪ বছর ক্ষমতায় থাকার পরে জিততে না পারাটা অস্বাভাবিক কোনো ঘটনা না। কিন্তু ৪০% জনসমর্থন পাওয়া বিরাট ব্যাপার। এর সাথে সংসদের উচ্চকক্ষে তার দলের আসন ছিল ২৯টি।
কিন্তু নির্বাচনে হারার পরের সপ্তাহে দলটা যেনো তাসের ঘরের মত ভেঙ্গে গেল। ৮৫ জনের মধ্যে ৬৫ জন বিধায়ক বিজেপির সাথে আঁতাত করে দল ছেড়েছে। ২৯ এমপির ২০ জন পালিয়েছে। পরিস্থিতি এমন যে, এখন দলের নাম ধরে রাখাই মমতার জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে গেছে। এমন হতে পারে, সামনে তার দলের নাম হবে ”কালীঘাট তৃণমূল”।
এর মধ্যে সবার আগে কারা পালিয়েছে জানেন? মিডিয়ার লোকজন। মমতার দলে মিডিয়ায় কাজ করা থেকে শুরু করে খেলোযাড়, কে ছিলনা? দেব, সোহম, নুসরাত, ইউসুফ পাঠান, রচনা ব্যানার্জি, শত্রুঘ্ন সিনহা থেকে কোয়েল মল্লিক। কে ছিল না?
ক্ষমতা হারানোর সাথে সাথে এরা সবাই পিছটান দিয়েছে। কোয়েল মল্লিকের ঘটনাটাতো খুবই বেদনানায়ক। ইলেকশনের মাস দুয়েক আগে রাজ্যসভার এমপি হয়েছিলেন তিনি। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মমতা ও দলের সে কি প্রশংসা! পুরোদমে ইলেকশনের ক্যাম্পেইন করেছেন তিনি। সেই কোয়েলও দল ছেড়েছেন। ভাবা যায়?
মিডিয়ার লোকজন রাজনীতি করার জন্য কোনো দলে আসে না। এরা রাজনীতি বুঝেও না। আসে, দলের ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে সুবিধা নেওয়ার জন্য। ফলে কোন দল ক্ষমতায় তাতে তাদের কিছু যায় আসে না, যে ক্ষমতায় থাকবে- তারা তাদের।
সাকিব রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পর তার তীব্র সমালোচনা করেছি আমরা। তাকে নিয়ে কত হাসাহাসিই না করেছি। আমরা বলেছি, এটা হল ব্যবসায়ী সাকিবের টাকা কামানোর আরেকটা ধান্ধা।
ফলে আওয়ামী লীগের পতনের পর, সাকিবের দল ছাড়ার কথা ছিল! বৃষ্টির দিকে ছাতাটা ঘুরিয়ে ধরলেই ব্লক ব্লাস্টার ক্যারিয়ারটা বেঁচে যেত। সাথে আসতো অঢেল টাকা। আরও অনেকদিন খেলতেন। এরজন্য অনেকে নেগোশিয়েট করারও চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সাকিব রাজি হন নাই।
শুরু থেকেই বলে এসেছেন, তিনি যা করেছেন, ভেবেচিন্তে করেছেন। এটা স্রেফ বিস্ময়কর!!
রয়টার্স তাকে নানাভাবে প্রশ্ন করেছে। মুখ থেকে অন্তত এটা বের করার চেষ্টা করেছে যে, তিনি দল ছাড়বেন কিনা। এট লিস্ট খেলার জন্য হলেও!!
সাকিবের সাফ উত্তর: দল ছাড়ার প্রশ্নই আসে না। শেখ হাসিনাকে ক্যাপেটন মেনে এটাও বলেছেন, তার অধিনায়ক যা বলবেন, সেটাই করবেন তিনি। সরকার নিরাপত্তা দিলে দেশে ফিরে ট্রায়ালের মুখোমুখি হতে রাজি। আর যদি তা নয়, তাহলে শেখ হাসিনার সাথে ফিরবেন।
যখনই ফিরেন, এবার সাকিব যে জেলে যাবেন, সেটা নিশ্চিত। এটা সাকিবও জানেন। আজ তড়িঘড়ি করে সরকার তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাও দায়ের করেছে। সাকিবকে ঠেকানোর জন্য। জেলে ভরার জন্য।
যদিও সাকিব জুলাই আগস্টে দেশেই ছিলেন না। ছিলেন কানাডায়। ফলে তার বিরুদ্ধে মামলা করাটা যে কতটা হাস্যকর, সেটা না লিখলেও চলবে।
আওয়ামী লীগ দলগতভাবে অপরাধ করেছে কিনা, সেসব আদালতের ব্যাপার হওয়ার কথা ছিল। সেসব কিছু হলনা, তার জায়গায় প্রতিহিংসার রাজনীতি জায়গা করে নিল। এসবের মধ্য দিয়েই মূলত জুলাইয়েরও পতন হয়েছে।
কিন্তু রাজনীতিবিদ সাকিব যে দৃঢ়তা ও সততার পরিচয় দিয়েছেন, হতে পারে আওয়ামী লীগ আপনার অপছন্দের; কিন্তু যে দলে তিনি যোগ দিয়েছেন এবং অস্তিত্ব বিপন্নের সময়ে সেই দলের প্রতি যে আনুগত্য সাকিব দেখিয়েছেন, শুধু ওটার কারণে মানুষ হিসেবে সাকিব নানা সীমাবদ্ধতা থেকে উৎরে গেছেন।
এটাও মনে রাখা দরকার, এখানেই লীগের কর্মীদের সাথে বাকিদের তফাৎ। লাখো শিশু-কিশোরের কাছে সাকিব আল হাসান একটা ফ্যাক্টর, যেমন ফ্যাক্টর মাশরাফি আমাদের কাছে। এই দুই তুরুফের তাস থেকে আওয়ামী লীগ যে কতটা বেনিফিট পাবে, সেটা সাধারণের চিন্তার বাইরে।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।