সালমান এফ রহমানের দোসর রেশমী এখনো বেপরোয়া – বর্ণমালা টেলিভিশন

নিউজ ডেক্স
প্রকাশিতঃ ৬ এপ্রিল, ২০২৫
৮:৪৭ পূর্বাহ্ণ
136 ভিউ

আরও খবর

মেট্রোরেলে নাশকতার ২ বছর: সমন্বয়ক হাসিবের স্বীকারোক্তির পরও কেন দুই সরকারের আমলে হয়নি বিচার?

গ্যাস সরবরাহে বড় ঘাটতি: ভোগান্তিতে আবাসিক গ্রাহক, শিল্প ও পরিবহন খাত

জাতিসংঘের ‘নিহত’দের তালিকায় নাম, ভিডিও বার্তায় জীবিত হাজির পাবনার রাফি

বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাত সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে বিএনপি সরকার: ভারতের পদাঙ্ক অনুসরণে উত্তরণের চিন্তা

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জন: সফর সংক্ষিপ্ত করে তড়িঘড়ি দেশে ফিরছেন স্পিকার

আওয়ামী লীগের ‘১.৫ ট্রিলিয়ন অর্থনীতি’র লক্ষ্যমাত্রা বিএনপি আমলে নামল ১ ট্রিলিয়নে, সময়ও বাড়ল ১০ বছর

তরুণদের মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির পক্ষে টানতে এনসিপি নেতাদের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক!

সালমান এফ রহমানের দোসর রেশমী এখনো বেপরোয়া

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৬ এপ্রিল, ২০২৫ | ৮:৪৭ 136 ভিউ
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান গ্রেফতার হলেও তার নির্বাচনি এলাকার দোসররা আছেন বহাল তবিয়তে। নির্বাচনি এলাকা নবাবগঞ্জ-দোহারের অন্যতম দোসরদের মধ্যে রেশমী আক্তারের দাপটে এলাকার সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। চিহ্নিত এই মাদক ব্যবসায়ী আওয়ামী লীগ আমলে সালমান রহমানের ক্ষমতার প্রভাবে নবাবগঞ্জে ত্রাসের রাজস্ব কায়েম করেন। তার নেতৃত্বে একটি সন্ত্রাসী বাহিনীও ছিল। অথচ রহস্যজনক কারণে গণ-অভ্যুত্থানের পর গত সাত মাসেও পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেনি। উলটো এখন আবার প্রশাসনের প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে বিশেষ সম্পর্ক স্থাপনের মধ্য দিয়ে ফের নবাবগঞ্জে চুটিয়ে মাদক ব্যবসাসহ সন্ত্রাসী তৎপরতা শুরু করেছেন। এমনকি যারা তার এসব অপকর্মে বাধা দিচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দিয়ে দিচ্ছেন। এদিকে এসব ঘটনায় এলাকায় জনমনে ক্ষোভ-অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। নবাবগঞ্জের ভুক্তভোগী শত শত মানুষ তাকে অবিলম্বে গ্রেফতার করার জোর দাবি জানিয়েছেন। রেশমীকে অবিলম্বে গ্রেফতার করা না হলে শিগগির এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে বিক্ষোভ কর্মসূচি দেওয়া হবে। প্রসঙ্গত, ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বক্সনগর এলাকার বাসিন্দা রেশমী আক্তার। উপজেলাজুড়ে মাদক ব্যবসা, প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাৎ, বিভিন্ন দলের নাম ভাঙিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ড-কোনো কিছুই বাদ দেননি এই নারী নেত্রী। স্বামী আবুল হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন বক্সনগর থেকে পুরো উপজেলা। এখন আবার ভোল পালটে আওয়ামী লীগের এই নেত্রী নিজেকে জাতীয় পার্টির নেত্রী পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন। জাতীয় পার্টির সাবেক একজন এমপির নাম ব্যবহার করে নিজেকে রক্ষার অপচেষ্টা করে যাচ্ছেন। বাস্তবে যার কোনো সত্যতা নেই। এমনকি এ পরিচয়কে সামনে এনে সম্প্রতি থানায় ঢুকে পুলিশের সঙ্গে অসদাচরণ করেন চিহ্নিত এই মাদক কারবারি। জানা যায়, এক সময় জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন রেশমী। তবে তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দলের নাম ব্যবহার করা, প্রভাবশালী মহলের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবজি ও অর্থ আত্মসাৎসহ বিভিন্ন প্রতারণার অভিযোগ উঠায় জাতীয় পার্টি থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। তবে এতেও থেমে যায়নি তার অপকর্ম। জাতীয় পার্টি থেকে বহিষ্কার হওয়ার পর চাঁদাবাজি আর মাদক কারবার টিকিয়ে রাখতে সালমান এফ রহমানের ছায়াতলে আশ্রয় নেন। এজন্য ২০২৩ সালের ২৭ ডিসেম্বর সালমান এফ রহমানের হাতে হাত রেখে যোগদান করেন আওয়ামী লীগে। এরপর তাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। শুরু হয়ে যায় তার রাম রাজত্ব। আগের অপরাধের সঙ্গে যোগ হয় নতুন প্রতারণা। ভুয়া এনজিও খুলে সাধারণ জনগণের লাখ লাখ টাকাও আত্মসাৎ করেন। পাশাপাশি মাদক ব্যবসার পরিধি বাড়াতে থাকেন। এভাবে কম সময়ের ব্যবধানে সালমান এফ রহমানের আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন এই মাদকসম্রাজ্ঞী। রেশমীর পাশাপাশি তার অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন তার স্বামী আবুল হোসেনও। অভিযোগ আছে, রেশমীর মাদক ব্যবসা দেখভাল করতেন স্বামী। মাদকসহ একাধিকবার গ্রেফতারও হন এই আবুল। তবে বের হয়ে স্ত্রীর সহায়তায় ফের মাদক ব্যবসায় যুক্ত হন। তবে এতসব অপকর্মের কথা প্রশাসন জানলেও সালমান এফ রহমানের বদৌলতে তাদের কিছুই হয়নি। স্থানীয় কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রেশমী ও তার স্বামী নবাবগঞ্জে অপরাধের রাজা-রানী। এমন কোনো অপরাধ নেই যা তারা করেননি। এখনো অব্যাহত রেখেছেন। রেশমীর অপকর্মের কারণে জাতীয় পার্টি থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। আওয়ামী লীগের পতনের পর সবাই ভেবেছিল প্রথমেই গ্রেফতার হবে রেশমী। কিন্তু কিছুই হয়নি তার। তবে অদৃশ্য শক্তির কারণে রেশমীর নামে কোনো মামলাও হয়নি। মামলা না হওয়ায় ভোল পালটে নিজেকে ফের জাতীয় পার্টির নেত্রী পরিচয় দিয়ে অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। অথচ স্বৈরাচারের নেত্রী হিসাবে তার এখন জেলে থাকার কথা। মোসলেমহাটি এলাকার বাসিন্দা রোকন হোসেন বলেন, রেশমী আক্তার আলু-বেগুনের মতো পুরো নবাবগঞ্জ এলাকায় মাদক ব্যবসা করে বেড়ান। কিন্তু পুলিশ প্রশাসন তাকে কিছুই বলে না। এই মাদকের কারণে আজ যুব সমাজ ধ্বংসের পথে। ভেবেছিলাম ৫ আগস্টের পর রেশমী আটক হবে। এলাকার মানুষ তার অত্যাচার থেকে মুক্তি পাবে। কিন্তু উলটো তার দাপট আরও বেড়ে গেছে। তিনি বলেন, আমরা এই মাদক ব্যবসায়ী ও সমাজের শত্রু থেকে মুক্তি চাই। আতরব আলী নামে আরেকজন অভিযোগ করে বলেন, এলাকায় এমন কোনো অপকর্ম নেই যে রেশমী করে না। আওয়ামী লীগের পতনের পর তার থাকার কথা ছিল জেলহাজতে। অথচ সে এখনো প্রকাশ্যে সব ধরনের অপকর্ম করেই যাচ্ছে। দেশে কি প্রশাসন বলে কিছু নেই? জানা যায়, সম্প্রতি রেশমী নবাবগঞ্জ থানায় গিয়ে নিজেকে জাতীয় পার্টির বড় নেত্রী পরিচয় দিয়ে থানা গরম করেন। এরপর তার অন্যায় কাজের প্রতিবাদকারী এলাকার মো. কাউছার, সারজন, মিসকাত এবং মো. শিমুল নামে চরজনের বিরুদ্ধে দশ লাখ টাকার চাঁদাবাজির মামলা করেন, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। এ ঘটনায় এলাকায় তুমুল আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী বলছেন, এ যেন চোরের মায়ের বড় গলা! এ বিষয়ে জানতে চাইলে নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিনুল ইসলাম শনিবার বলেন, ‘রেশমী আক্তার ২ এপ্রিল থানায় এসে নিজেকে ঢাকা জেলা জাতীয় পার্টির নেত্রী ও নবাবগঞ্জ উপজেলা মহিলা পার্টির আহ্বায়ক দাবি করে থানা পুলিশের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। পরে জানতে পারি তিনি আওয়ামী লীগের নেত্রী।’ এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেশমী আক্তার সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।’

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
চট্টগ্রামে নালা থেকে উদ্ধার ১৪শ গুলির বড় অংশই একে-৪৭ ও মেশিনগানের বালু ব্যবসার দ্বন্দ্বে দলীয় কর্মীকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যাচেষ্টা বিএনপির অপর গ্রুপের মেট্রোরেলে নাশকতার ২ বছর: সমন্বয়ক হাসিবের স্বীকারোক্তির পরও কেন দুই সরকারের আমলে হয়নি বিচার? ‘ডিসেম্বরের মধ্যেই নেত্রীকে ফেরাবো’: কক্সবাজারে প্রকাশ্য সভায় ছাত্রলীগের দৃঢ় শপথ এমআরপির চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হয় সিগারেট: বছরে ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্বের বাইরে, যাচ্ছে কার পকেটে? গ্যাস সরবরাহে বড় ঘাটতি: ভোগান্তিতে আবাসিক গ্রাহক, শিল্প ও পরিবহন খাত যবিপ্রবি ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা, তানভীর আহ্বায়ক ধ্বংস করে দেওয়া শেখ হাসিনার বাড়ি ‘সুধা সদন’ থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার জাতিসংঘের ‘নিহত’দের তালিকায় নাম, ভিডিও বার্তায় জীবিত হাজির পাবনার রাফি ‘নর্দমায় মিলল একে-৪৭-এর বুলেটের স্তূপ! চট্টগ্রামে জঙ্গি ও বিচ্ছিন্নতাবাদী আস্তানার গন্ধ সিভিল সার্জনদের নিয়োগে শর্ত স্বাস্থ্যমন্ত্রীরঃ দিতে হবে ই-জিপি ও ডিডিও পাসওয়ার্ড! মেট্রো স্টেশন থেকে উদ্ধার অত্যাধুনিক প্রযুক্তির পাইপবোমার ছাতা খুললেই ঘটাত বিস্ফোরণ হিন্দু সেজে মন্দিরে ঢুকে চুরি, দুই মুসলিম নারীকে হাতেনাতে আটক করে উত্তম-মধ্যম ‘পুর্ব শত্রুতার জেরে’ পুলিশের এসবি কর্মকর্তার ওপর হামলা, পিঠে ৪৩টি সেলাই ইমামকে সরিয়ে রাজাকার নিজামির পুত্রের জুমা পড়ানো নিয়ে মসজিদে জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাস, মুসল্লিরা আহত জামায়াত এমপির পর এবার বিএনপি নেতারও ‘বিশেষ ভিডিও’ ভাইরাল রশিতে বেঁধে প্রতিবেশীর দুটি পোষা কুকুরকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা, বিচার দাবি স্থানীয়দের শিক্ষামন্ত্রীর ভাবমূর্তি রক্ষায় ‘বলির পাঁঠা’ ৭ শিক্ষক? কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজে নজিরবিহীন বদলি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সংযোগ সড়ক ধসে পড়ল মাত্র ৩ মাসেই যশোরে নিখোঁজের দুই দিন পরে ভ্যানচালকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার: বিএনপি কর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ