নিউজ ডেক্স
আরও খবর
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জন: সফর সংক্ষিপ্ত করে তড়িঘড়ি দেশে ফিরছেন স্পিকার
আওয়ামী লীগের ‘১.৫ ট্রিলিয়ন অর্থনীতি’র লক্ষ্যমাত্রা বিএনপি আমলে নামল ১ ট্রিলিয়নে, সময়ও বাড়ল ১০ বছর
তরুণদের মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির পক্ষে টানতে এনসিপি নেতাদের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক!
জামায়াতের সদস্যদের লিঙ্গভিত্তিক শিক্ষকতার নির্দেশ: মহিলা মাদ্রাসায় ধর্ষণ ঠেকানোই কি উদ্দেশ্য, নাকি নতুন কোনো কূটকৌশল?
মুফতি তাহেরী: কট খাওয়ার আগে রোমান্টিক, কট খেলে কয় বউ, আবার বট বাহিনীও আছে
জাতিসংঘের প্রতিবেদন: বাংলাদেশে স্বাস্থ্যকর খাবার কেনার সামর্থ্য নেই ৬ কোটি ৭৮ লাখ মানুষের
১৫ বছরে পাকিস্তানে এইচআইভি সংক্রমণ বেড়েছে ৫০০ শতাংশ, ২০২৪ সালেই মৃত্যু ১৪ হাজার
বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাত সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে বিএনপি সরকার: ভারতের পদাঙ্ক অনুসরণে উত্তরণের চিন্তা
বিদ্যুৎ খাতের চলমান সংকট ও লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে বিএনপি-নেতৃত্বাধীন সরকার। অন্তর্বর্তী সরকারের অপরিকল্পিত খরচ আর অনিয়মে বিপুল বকেয়া, ভর্তুকির চাপ ও জ্বালানি সংকটের কারণে পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ভারতের মডেল অনুসরণ করে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু স্পষ্ট জানিয়েছেন, সরকার বিদ্যুৎ বিতরণের দায়িত্ব ধীরে ধীরে বেসরকারি খাতে হস্তান্তর করতে চায়। এতে রাষ্ট্রের আর্থিক দায় কমবে এবং সরকার উৎপাদন ও পাইকারি সরবরাহে বেশি মনোযোগ দিতে পারবে।
তিনি ভারতের উদাহরণ দিয়ে বলেন, মুম্বাইয়ে রিলায়েন্স এবং দিল্লিতে আদানি বিদ্যুৎ বিতরণ করে সফলভাবে ব্যবস্থাপনা করছে। প্রধানমন্ত্রীও সরকারি খরচে আর না করে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
সূত্রগুলো বলছে, খাতটিতে বর্তমানে প্রায় ৬৭ হাজার কোটি টাকার বকেয়া রয়েছে। ইউনূস আমলেত গত অর্থবছরে ভর্তুকি দিতে হয়েছে ৬২ হাজার কোটি টাকারও বেশি। পূর্ববর্তী সরকারের আমলে কুইক রেন্টাল, ক্ষমতা চার্জ দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ নিশ্চিত করলেও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে দুর্নীতি আর অতিরিক্ত খরচের অযুহাতে সকল কুইক রেন্টাল চুক্তি বাতিল করে দেয়া হয়, ফলে সৃষ্টি হয় বিদ্যুতের স্বল্পতা আর লোডশেডিং।
এছাড়াও জ্বালানির অভাবে ও কারিগরি ত্রুটির কারনে অনেক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ ছিল।
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে উচ্চমূলে এলএনজি আর কয়লা কিনে খাতটি আর্থিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই চাপ সামলাতে নতুন সরকার এখন বেসরকারি অংশগ্রহণ বাড়ানোর পথে হাঁটছে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে জোর
সরকার একই সঙ্গে সৌরবিদ্যুৎ থেকে ১০,০০০ মেগাওয়াট উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এর মাধ্যমে আমদানি-নির্ভর জ্বালানির ওপর চাপ কমানো ও বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
২০২৫ সালে অনুমোদিত নীতির আওতায় বেসরকারি খাতকে মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যেখানে তারা সরাসরি বড় গ্রাহকদের কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারবে। সরকার শুধু সীমিত পরিমাণ (১০-২০%) কিনবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতীয় মডেল অনুসরণ করে বিতরণ বেসরকারিকরণ করলে প্রতিযোগিতা বাড়বে, দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে এবং লোডশেডিং কমানো সম্ভব হবে। তবে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, নিয়ন্ত্রক সংস্থার (বিইআরসি) শক্তিশালী ভূমিকা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন অত্যন্ত জরুরি।
সরকারের এই পদক্ষেপকে অনেকে বিদ্যুৎ খাতের দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার হিসেবে দেখছেন, যদিও স্বল্পমেয়াদে লোডশেডিং ও সরবরাহ স্থিতিশীলতা নিয়ে জনগণের উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আরও বিস্তারিত রোডম্যাপ শিগগিরই ঘোষণা করা হতে পারে বলে জানা গেছে।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।