রায়পুরের রহস্যঘেরা ‘জিনের মসজিদ’ – বর্ণমালা টেলিভিশন

রায়পুরের রহস্যঘেরা ‘জিনের মসজিদ’

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৫ মে, ২০২৫ | ১০:৪৯ 126 ভিউ
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌর শহরের পির ফজলুল হক সড়কের দেনায়েতপুর এলাকায় অবস্থিত মসজিদ-ই-জামে আবদুল্লাহ ‘জিনের মসজিদ’ হিসাবে স্থানীয়ভাবে পরিচিত। জনশ্রুতি রয়েছে, ১৩৫ বছর আগে কোনো এক রাতে শত শত জিন তিন গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদটি নির্মাণ করেছে। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। মসজিদটির দৈর্ঘ্য ১১০ ফুট, প্রস্থ ৭০ ফুট। ৪টি মিনার রয়েছে। ‘জিনের মসজিদ’ খ্যাত ঐতিহাসিক এ মসজিদটিতে একসঙ্গে এক হাজার মুসল্লি নামাজ পড়তে পারেন। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মসজিদটি নির্মাণে কোনো রড ব্যবহার করা হয়নি। শুধু ইট দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। এ কারণেই মসজিদটি জিন নির্মাণ করেছিল বলে জনশ্রুতি রয়েছে। মসজিদের পশ্চিমে হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা রয়েছে। মসজিদটির সামনে রয়েছে বিশাল দিঘি। আজান দেওয়ার জন্য রয়েছে পুরোনো একটি মিনার। তবে এটি বর্তমানে পরিত্যক্ত। ধর্মীয় বিশেষ দিনগুলোতে মুসল্লি ও দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় থাকে এখানে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৮৮৮ সালে এলাকার সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের সন্তান মাওলানা আবদুল্লাহ ভারতে উচ্চশিক্ষা শেষে দেশে ফেরেন। বাড়ি আসার পর থেকেই তিনি একটি মসজিদ নির্মাণের স্বপ্ন দেখেন। এ স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে গ্রামবাসীর সহযোগিতায় ভারত থেকে কারিগর এনে মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু করেন। তখন থেকে আজ পর্যন্ত মাওলানা আবদুল্লাহর বংশধররাই মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণ করে আসছেন। সরেজমিন দেখা যায়, মাটি থেকে ১৩টি সিঁড়ি পার হয়ে মসজিদে প্রবেশ করতে হয়। মসজিদের ভেতরে হালকা কারুকাজ রয়েছে। ভেতর ও বারান্দায় একসঙ্গে হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। একপাশের সিঁড়ি মসজিদের নিচে নেমে গেছে। সেখানে সব সময় পানি থাকে। অনেকে এ পানিতে বিভিন্ন নিয়তে ওজু করেন। অনেকে বোতলে করে নিয়ে পান করেন। মসজিদের নিচের এ জায়গাটি প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা আবদুল্লাহর ইবাদতখানা ছিল বলে জানা গেছে। মসজিদের পাশেই কওমি মাদ্রাসা ও মুসাফিরখানা এবং একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। কথা হয় দেনায়েতপুর গ্রামের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী আবু তাহেরের সঙ্গে। তিনি বলেন, অবসর পেলেই আমরা এখানে ছুটে আসি। তবে বয়স্কদের কাছ থেকে মসজিদটির নির্মাণের বিষয়ে সঠিক কোনো তথ্য পাইনি। জিনের তৈরি মসজিদ-এ বিশ্বাস থেকেই বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ দেখতে আসেন। মসজিদটির প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সদস্য ও উপজেলা কাজি সমিতির সভাপতি মোতাচ্ছেম বিল্লাহ বলেন, মসজিদের নকশায় ১৬টি গম্বুজ ও সামনে একটি বারান্দার আকৃতি রয়েছে। ব্যয়বহুল হওয়ায় সেগুলো নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। এখন বারান্দাটি নির্মাণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মসজিদের বর্তমান ইমাম মাওলানা লুৎফুর রহমান বলেন, আমার বাবা ও দাদা এ মসজিদে ইমামতি করেছেন। আমিও ১৪ বছর ধরে ইমামতি করছি। তবে এটি জিনের মসজিদ নয়, জিন কিছুই করতে পারে না। মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম মাওলানা আবদুল্লাহর নামেই এর নামকরণ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মাওলানা আবদুল্লাহর কাছে অনেকেই জানতে চেয়েছেন মসজিদটি জিনের টাকা কিংবা জিন দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে কি না। তার উত্তর ছিল, মসজিদটি জনগণের টাকায় নির্মিত। ভারত থেকে কারিগর এনে এটি নির্মাণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে রায়পুর পৌর বিএনপির আহ্বায়ক সাবেক মেয়র এবিএম জিলানী ও সদস্য সচিব সফিকুল আলম আলমাস বলেন, মসজিদটি আসলে কে নির্মাণ করেছেন, তা এখনো রহস্যঘেরা। তবে এটি জিনের মসজিদ, জিনরাই এক রাতে তৈরি করেছে বলে জনশ্রুতি রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
মায়ের মুখের হাসিটাই আমার সবচেয়ে বড় অর্জন’ বাংলাদেশের প্রাণ জিয়াউর রহমান ১৭ বছরের রুদ্ধশ্বাস বন্দিদশা পেরিয়ে ফিরল শহীদ জিয়ার মুক্ত স্মরণ জিয়াউর রহমানের সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করলো ভারত বিএনপিতে ত্যাগীদের দীর্ঘশ্বাস বাড়ছে, মূল্যায়নের অভাবে সুবিধাজনক অবস্থায় হাইব্রিডরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী আজ শহীদ জিয়া এমন এক বিশ্ববিদ্যালয় যার পাঠ কখনও শেষ হয় না স্বাবলম্বী সমাজ গড়তে সবার অংশগ্রহণ চাইলেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী দৈনিক ১৮-১৯ ঘণ্টা কাজ করে যাচ্ছেন: গৃহায়নমন্ত্রী ফুটপাত থেকে আইসিইউ, পরিচয়হীন এক নারীর বেঁচে থাকার লড়াই চালু হলো হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের পেইড ভার্সন, খরচ কত? পাটখেত থেকে তৃণমূল নেতার ২ কোটি ২৪ লাখ টাকা উদ্ধার কারাগারে ঈদ: নতুন পাঞ্জাবিতে সাবেক মন্ত্রী-এমপিরা, থাকছে গরু-খাসি-রোস্ট জয় দিয়ে সাফের সূচনা করল বাংলাদেশ কর্ণফুলীতে বাস-লেগুনা মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ৩ সংকটে ধুঁকছে চামড়াশিল্প, মানদণ্ডে পিছিয়ে হারাচ্ছে বিলিয়ন ডলার ঈদের ছুটিতে হারিয়ে যান সুন্দরবনের সৌন্দর্যে ঈদে নাটক ‘কাজের মেয়ে অরিন’ কমলাপুরে বাড়তি যাত্রীর চাপ, ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদে যাত্রা