নিউজ ডেক্স
আরও খবর
কোচ টুখেলের বাজে কৌশলে ইংল্যান্ডের হার, তবু ‘অনুশোচনা’ নেই তার
শেষের ঝলকে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে আর্জেন্টিনা
টি-টোয়েন্টিতেও জিম্বাবুয়ের কাছে ধরাশায়ী বাংলাদেশ
ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফরম্যাটে বড় পরিবর্তন আনল আইসিসি
আইসিসির নতুন কমিটিতে প্রধান তামিম ইকবাল, পেলেন আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতিও
ফ্রান্স-স্পেন মহাদ্বৈরথ: রেকর্ড আর রোমাঞ্চের সেমিফাইনাল
রয়টার্সের প্রতিবেদন: মহাবিতর্ক নিয়ে যেভাবে সেমি’তে ‘ভার্জেন্টিনা’, ফুটবল সমর্থকদের আস্থাহীনতা
ফাইনালে মেসিকে ‘ম্যান-মার্কিং’ করবে না স্পেন!
বিশ্বকাপ ফাইনালের মহারণে লিওনেল মেসিকে বোতলবন্দি করতে কি বিশেষ কোনো পরিকল্পনা করছে স্পেন? আর্জেন্টিনা অধিনায়কের জন্য কি মাঠে আলাদা কোনো পাহারাদার বসাবেন স্প্যানিশ কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে? সোজা কথায় দে লা ফুয়েন্তে জানিয়ে দিলেন—একেবারেই না। সোমবারের ফাইনালে মেসিকে চোখে চোখে রাখা হবে ঠিকই, তবে ‘ম্যান-মার্কিং’ করার কোনো ভাবনা নেই তাঁদের। কারণ, মেসিকে এভাবে আটকে রাখার চেষ্টা যে উল্টো কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, সেই শিক্ষা অনেক আগেই পেয়েছিলেন তিনি।
শনিবার সংবাদ সম্মেলনে ৩৯ বছর বয়সী মেসিকে আটকানোর কৌশল নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হন দে লা ফুয়েন্তে। তখনই স্মৃতির পাতা হাতড়ে সেভিয়া যুব দলের কোচ থাকার সময়ের এক রোমাঞ্চকর গল্প শোনান তিনি। বার্সেলোনার বিপক্ষে স্প্যানিশ কাপের সেই ম্যাচে এক তরুণ মেসিকে থামানোর চেষ্টা কীভাবে ভেস্তে গিয়েছিল, তা মনে করিয়ে দিয়ে স্পেন কোচ বলেন, ‘আমরা স্প্যানিশ কাপে বার্সেলোনার বিপক্ষে খেলতে গিয়েছিলাম। মেসি নামের এক ছেলের সম্পর্কে অনেক বড় বড় কথা শুনেছিলাম তখন। স্বভাবতই ম্যাচের শুরু থেকেই আমরা ওর পেছনে একজন খেলোয়াড় লেলিয়ে দিয়েছিলাম (ম্যান-টু-ম্যান মার্কিং)। ৭০ মিনিট পর্যন্ত স্কোরলাইন ছিল ০-০।’
এরপরই ঘটে সেই নাটকীয় ঘটনা। দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘যখন মেসিকে মার্ক করে রাখা আমাদের সেই খেলোয়াড়টি কার্ড দেখল, আমি ওকে মাঠ থেকে তুলে নিই। আর এর পরের ১৫ মিনিটের মধ্যে মেসি একাই ৪টি গোল করে বসল!’
সেই অভিজ্ঞতা স্পেন কোচের মনে গভীর দাগ কেটে গেছে। ফাইনালের আগে তাই নিজের রণকৌশল পরিষ্কার করে তিনি বলেন, ‘এর মানে কী দাঁড়াল? আমরা কি ওকে ম্যান-টু-ম্যান মার্কিং করব? না। তবে আমরা কি ওর ওপর খুব কড়া নজর রাখব? অবশ্যই হ্যাঁ।’
ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ খেলতে নামা মেসি এখনো আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় ভরসা। ২০১০ সালের পর প্রথম বৈশ্বিক ট্রফির খোঁজে থাকা স্পেনের সামনে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে মূল বাধা তিনিই। ফাইনালে মেসির উপস্থিতির কারণেই স্বাভাবিকভাবে আলোচনায় চলে আসছে স্পেনের ১৮ বছর বয়সী তরুণ সেনসেশন লামিন ইয়ামালের নাম। তবে দে লা ফুয়েন্তে এই কিশোরের কাঁধে এখনই বাড়তি কোনো চাপ চাপাতে রাজি নন।
মেসির প্রশংসা করে স্পেন কোচ বলেন, ‘মেসি অনন্য; ও এক অনন্য প্রতিভা এবং সবচেয়ে বড় কথা, তরুণ ক্রীড়াবিদদের জন্য ও একটা উদাহরণ। তবে লামিনকে লামিনের মতোই হতে হবে। আমার মনে হয়, ওকে সাহায্য করার সেরা উপায় হলো ওর পাশে থাকা, যাতে আমরা যে লামিনকে চিনি, ও যেন তেমনই থাকতে পারে।’
সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে ম্যাচে চোট পাওয়ায় গত বুধবার অনুশীলনে ছিলেন না ইয়ামাল। তবে ফাইনালের আগে তাঁর ফিটনেস নিয়ে ভক্তদের আশ্বস্ত করেছেন কোচ, ‘ওর উরুতে প্রচণ্ড আঘাত লেগেছিল, বক্সের মধ্যে ফাউল করা হয়েছিল ওকে। জায়গাটা বেশ ব্যথার ছিল। তবে আজ ও দলের অন্য সতীর্থদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই অনুশীলনে অংশ নিয়েছে।’
এবারের বিশ্বকাপের হাইড্রেশন ব্রেক কিংবা লম্বা বিরতির (হাফ-টাইম শো) মতো ব্যতিক্রমী সব নিয়মের সঙ্গেও মানিয়ে নিয়েছে স্পেন। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই শিষ্যদের এই বার্তা দিয়েছিলেন দে লা ফুয়েন্তে। দলের মানসিকতার প্রশংসা করে কোচ বলেন, ‘কারো কাছ থেকে একটাও অভিযোগ বা অসন্তোষ আসেনি। মানিয়ে নেওয়ার অর্থ হলো যা আপনি পরিবর্তন করতে পারবেন না, তা মেনে নেওয়া। আর যেহেতু আপনি এটা বদলাতে পারবেন না, তাই এটি উপভোগ করাই শ্রেয়।’

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।