নিউজ ডেক্স
আরও খবর
প্রিজন ব্রেক-কাশিমপুর: উচ্চ নিরাপত্তা ব্যূহ ভেদ করে রিম্পার পালিয়ে যেতে লেগেছে মাত্র কয়েক মিনিট
আমলাদের চাপে পিছু হটল সরকার, গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ ভাতা মিলবে ৫০ হাজার
বন্যার ৯ম দিনেও জলবন্দি বাঁশখালী: অপরিকল্পিত চিংড়ি ঘের ও অবৈধ বাঁধের বলি হাজারো পরিবার
বাংলাদেশকে ৫ বছরে শোধ করতে হবে ২৬ বিলিয়ন ডলার, বৈদেশিক ঋণ নিয়ে আইএমএফের বাড়তি নজর
ঢাকায় তিন মার্কিন এপিডেমিওলজিস্টের নীরব সফর: যার একজন ইউএস আর্মির সদস্য, উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন
প্রেমের টানে হুটহাট বাংলাদেশে উড়ে যাওয়া নাগরিকদের কঠোর বার্তা চীন সরকারের
দেড় মাসেই উন্নয়নের জোয়ারে পদ্মায় ভেসে গেল ৫২৭ কোটি টাকার প্রকল্প!
চুক্তির চেয়েও ৫০% বেশি দামে কেনা হচ্ছে ২০ হাজার কোটি টাকার এলএনজি
মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার কারণে স্পট মার্কেট থেকে একসঙ্গে ২০ হাজার কোটি টাকার এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) আমদানি করতে যাচ্ছে সরকার। আগামী আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫ মাসে ১০টি কোম্পানির কাছ থেকে এই এলএনজি কেনা হবে। সরকার টু সরকার—জি টু জি চুক্তির আওতায় জ্বালানি বিভাগ এ এলএনজি কিনছে। প্রতি ইউনিট এলএনজির দর দেওয়া হয়েছে ১৭ থেকে ১৯ ডলার।
দীর্ঘ মেয়াদে চুক্তির চেয়ে ৫০ শতাংশ বেশি দামে এলএনজি কিনতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। জাতীয় দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত খবরের বরাতে জানা গেছে।
রাষ্ট্রীয় সংস্থা রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি (আরপিজিসিএল) এবং পেট্রোবাংলা ১০টি কোম্পানির কাছ থেকে প্রস্তাব নিয়েছে। এখন সব প্রক্রিয়া শেষ হলে ওই প্রস্তাব ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির কাছে যাবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন, “১০টি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এলএনজির দর দিয়েছে। এ দর চূড়ান্ত নয়। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির সঙ্গে সমঝোতা করা হবে। তারপর তাদের প্রস্তাব চূড়ান্ত করে ক্রয় জ্বালানি বিভাগে পাঠানো হবে।”
কাতারের সাথে শেখ হাসিনা সরকারের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি সত্ত্বেও পিটার হাস থেকে উচ্চমূল্যে এলএনজি ক্রয়: রাষ্ট্রের ক্ষতি ৮৫৫ মিলিয়ন ডলার
এদিকে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনা নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন।
কেউ কেউ বলছেন, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে এখন এলএনজির দাম চড়া। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সমঝোতা হয়ে যুদ্ধ বন্ধ হলে এলএনজির বাজার অনেক কমতে পারে। যেমনটা গত মাসে ঘটেছিল। ওই সময়ে ১৮-১৯ ডলারের এলএনজি ১৫-১৬ ডলারে নেমে আসে।
দেশে দৈনিক ২৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হয়। এর মধ্যে আমদানি করা এলএনজি হচ্ছে ১০৫ কোটি ঘনফুটের বেশি। জাতীয় গ্রিডে এই গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রতি মাসে ১০টির বেশি এলএনজি কার্গো আমদানি করে পেট্রোবাংলা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, আগামী ৫ মাসে ৫০টির বেশি এলএনজি কার্গো প্রয়োজন। এর মধ্যে দীর্ঘ মেয়াদে চুক্তির আওতায় প্রতি মাসে ৪টি থেকে ৫টি কার্গো পেতে পারে পেট্রোবাংলা।
পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানান, স্পট মার্কেট থেকে একসঙ্গে বেশি করে কিনলে সস্তায় এলএনজি পাওয়া যেতে পারে—এমন চিন্তা থেকে জি-টু-জি নীতিমালার আওতায় বিভিন্ন সরবরাহকারীকে প্রস্তাব দিতে বলা হয়।
বেশি দামে এলএনজি কেনা ও মার্কিন চুক্তি: সরকারের ভুল নাকি ইচ্ছাকৃত সিদ্ধান্ত!
এর মধ্যে ৫ মাসের বিভিন্ন সময়ে এলএনজি সরবরাহের আগ্রহ দেখিয়ে ভিটল, ইউএসএ, টোটাল এনার্জি, ইউকে, হানবোর ইউএসএ, গানবোর সিঙ্গাপুর, এমিরাতস ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি, সিঙ্গাপুর প্রাইভেট কোম্পানি, অরচার এনার্জি ও সিকার ইন্টারন্যাশনাল যৌথ কোম্পানি, এডনক ট্রেডিং, আইআরএইচ গ্লোবাল ট্রেডিং ও সরকার ট্রেডিং গত মঙ্গলবার অনলাইনে দরপত্র জমা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার তাদের প্রস্তাবের মূল কপি কুরিয়ারে পেট্রোবাংলার কাছে পাঠানো হয়েছে। ১০ কোম্পানি দর দিয়েছে ১৭ থেকে ১৯ ডলার পর্যন্ত। যদিও স্পট মার্কেটে এখন চলছে প্রতি ইউনিট ২০ ডলারের বেশি। প্রতি কার্গো এলএনজি আমদানি করতে সরকারকে ৬৫০ থেকে ৭০০ কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়।
এ হিসাবে ৩০ কার্গোর জন্য এলএনজি আমদানি করতে ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি খরচ হতে পারে বলে জানা গেছে।
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, জি-টু-জির আওতায় ৫ মাসের স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি সরবরাহ দিতে ১৮টি কোম্পানির কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। এর মধ্যে ১০টি কোম্পানি সাড়া দিয়েছে। এখন এই ১০ কোম্পানির সঙ্গে তাদের দাম নিয়ে দরকষাকষি করা হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সরকারের একটি পক্ষ এভাবে একসঙ্গে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনার পক্ষে নয়। কারণ যুদ্ধ থেমে গেলে এই এলএনজির দাম কমতে পারে। এখন ১০ কোম্পানির সঙ্গে ৫ মাসের জন্য এখনই চুক্তি হয়ে গেছে, পরে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও বেশি দামে কিনতে হবে। তাই শেষ পর্যন্ত এ ব্যাপারে সরকার কী সিদ্ধান্ত নেয় সেটি দেখার বিষয়।
অতিরিক্ত মূল্যে পিটার হাসের কোম্পানি থেকে ১ লাখ কোটি টাকার এলএনজি কিনছে ইউনূস সরকার
দীর্ঘ মেয়াদে চুক্তির আওতায় সরকার প্রতি মাসে ৪-৫টি কার্গো এলএনজি কিনছে। সে এলএনজির দাম অনেক কম। সর্বশেষ দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় কাতার এনার্জি থেকে এলএনজি কেনা হয়েছে মাত্র ১৩ দশমিক ৭২ ডলার প্রতি ইউনিটে। তবে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে বিপদে পড়ে বাংলাদেশ।
যুদ্ধের আগে বেশির ভাগ কাতার, ওমান এবং মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির কাছ থেকে এলএনজি কেনা হতো। যুদ্ধের ফলে কাতার, ওমান এবং এক্সিলারেট এনার্জি ফোর্স শাটডাউন দিয়ে দেয়। এর মধ্যে কাতার এনার্জি কিছুটা সরবরাহ দিলেও বাকিরা এখনো দিতে পারছে না।
সম্প্রতি কাতার এনার্জি জানিয়েছে, যুদ্ধে তাদের গ্যাসক্ষেত্র দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই যুদ্ধ বন্ধ হলে আগামী ৫ বছর তারা আগের চেয়ে ৫০ শতাংশ এলএনজি সরবরাহ কম দিতে পারবে। চুক্তির আওতায় বাকিরা কবে নাগাদ সরবরাহ শুরু করবে তা এখনো জানায়নি।
এ কারণে বাংলাদেশকে এখন স্পট মার্কেটের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে করে দীর্ঘ মেয়াদে চুক্তির চেয়ে ৫০ শতাংশ বেশি দামে এলএনজি কিনতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। গত বছর সরকার ৪৫ হাজার কোটি টাকার এলএনজি আমদানি করে। এ বছর এই খরচ ৬৫ হাজার কোটি টাকায় গিয়ে দাঁড়াতে পারে।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।