নিউজ ডেক্স
আরও খবর
উড়োজাহাজ থেকে ২০ কোটি টাকার স্বর্ণ উদ্ধার
রাজধানীতে প্রকাশ্যে গোলাগুলি, নারীসহ আহত ৩; নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত সাধারণ মানুষ
সূত্রাপুরে শ্রমিক মিতুল হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার ১০
নিউমার্কেটে ফুটপাতে দোকান বসানো নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১৪
উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়ল পৌনে ৩ কোটি টাকার সড়ক, বাঁশ-বালুর বস্তায় ঠেকা!
একই দিনে রাজধানীজুড়ে জোড়া বোমাতঙ্ক: মিরপুর ও ফার্মগেট মেট্রোস্টেশন তোলপাড়
মতিঝিলের ‘ছাতা বোমা’র পর এবার আশুলিয়ায় দোকানে রেখে গেল ‘প্রেশার কুকার বোমা’
নাম-পরিচয়হীন অজ্ঞাত লাশের শহর ঢাকা, শেষ ঠিকানা জুরাইন কবরস্থান
রাজধানী ঢাকায় প্রতিদিনই হাজারো মানুষের আনাগোনা। সেই জনারণ্যের শহরেই এমন অনেক মানুষ মারা যাচ্ছেন, যাদের মৃত্যুর পরও জানা যাচ্ছে না নাম কিংবা পরিচয়। কখনো সড়কের পাশে, কখনো ফুটপাতে, আবার কখনো হাসপাতালের গেট, খাল বা নির্জন কোনো স্থান থেকে উদ্ধার হচ্ছে অজ্ঞাত মরদেহ। পুলিশ সেগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
পরিচয় শনাক্তের জন্য মরদেহের ছবি তোলা এবং বিভিন্নভাবে স্বজনদের খোঁজ করার পরও যদি কারও সন্ধান না মেলে, শেষ পর্যন্ত সেই মরদেহের ঠাঁই হয় বেওয়ারিশ হিসেবে।
ডিএমপির প্রকাশ্য নথি এবং বিভিন্ন থানার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের বিভিন্ন সময়ে রাজধানীর একাধিক এলাকা থেকে এ ধরনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে আট মাসের পূর্ণাঙ্গ ও সমন্বিত কোনো সংখ্যা প্রকাশ না হওয়ায় প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
শুধু মে ও আগস্ট মাসেই শাহবাগ থানার আওতাধীন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এলাকা থেকে দুটি অজ্ঞাত নারী মরদেহের পরিচয় শনাক্তে পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
মে মাসে উদ্ধার হওয়া ওই নারীর বয়স আনুমানিক ৫৫ বছর। আর ১২ই আগস্ট উদ্ধার করা কিশোরীর বয়স আনুমানিক ১৫ বছর।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও এর আশপাশের এলাকা শাহবাগ থানার আওতাধীন হওয়ায় সেখানে অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাগুলো তুলনামূলকভাবে বেশি দৃশ্যমান। অসুস্থ কিংবা ভবঘুরে মানুষের হাসপাতালে মৃত্যু, স্বজনদের রেখে যাওয়া মরদেহ অথবা দুর্ঘটনায় পরিচয়হীন কোনো ব্যক্তির মৃত্যু—বিভিন্ন পরিস্থিতিতে এসব মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করতে পুলিশকে কাজ করতে হয়।
১২ই আগস্টের ঘটনাটি এমন পরিস্থিতিরই একটি নির্মম উদাহরণ। ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে পরিবারের সদস্যরা মৃত অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে নিয়ে আসেন। চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার সময় পরিবারের লোকজন সেখান থেকে সরে যান। এরপর তাদের আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে কিশোরীর পরিচয় শনাক্তে সহায়তা চেয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পুলিশ।
অজ্ঞাত কোনো মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশের প্রথম কাজ হলো সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা এবং ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো। পরিচয় শনাক্তের উদ্দেশ্যে মরদেহের ছবি, পরনের পোশাক, শারীরিক বৈশিষ্ট্যসহ বিভিন্ন তথ্য সংরক্ষণ করা হয়। প্রয়োজন দেখা দিলে ডিএনএ নমুনাও সংগ্রহ করা হয়ে থাকে।
কিন্তু দিনের পর দিন অপেক্ষার পরও যদি কোনো স্বজনের সন্ধান না পাওয়া যায়, তাহলে মর্গেই পড়ে থাকে মরদেহ। পরবর্তী সময়ে আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বেওয়ারিশ মরদেহ দাফনের দায়িত্ব নেয় আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম।
সংস্থাটির পক্ষ থেকে কাফন, জানাজা ও দাফনের ব্যবস্থা করা হয়। রাজধানীতে বেওয়ারিশ মরদেহ দাফনের ক্ষেত্রে জুরাইন কবরস্থান হয়ে ওঠে গুরুত্বপূর্ণ শেষ ঠিকানা।
অর্থাৎ, একজন অজ্ঞাত মানুষের শেষ যাত্রার সূচনা হয় পুলিশের হাতে মরদেহ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে। সেই যাত্রার সমাপ্তি ঘটে এমন একটি কবরে, যেখানে হয়তো কোনোদিনই লেখা হয় না তার নাম-পরিচয়।
তবে সবচেয়ে বড় জটিলতা তৈরি হয় দাফনের পর। কোনো পরিবার যদি পরে নিখোঁজ স্বজনের সন্ধান পায়, তখন সেই মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা আরও কঠিন হয়ে পড়ে। অতীতে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা মরদেহের পরিচয় পরবর্তী সময়ে শনাক্ত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
এমনকি রায়েরবাজারে দাফন করা মরদেহের ক্ষেত্রে পরে কবর শনাক্ত করা নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য, অজ্ঞাত মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করতে থানাগুলো নিয়মিত ছবি ও মরদেহের বর্ণনা প্রকাশ করে থাকে। পাশাপাশি স্থানীয় লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ফরেনসিক ও ডিএনএ পরীক্ষার সহায়তাও নেওয়া হয়।
অনেক সময় মৃত ব্যক্তি ভবঘুরে, অসুস্থ কিংবা পরিবারের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকায় তার পরিচয় শনাক্ত করতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। তবে এখানেই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসে—কোনো ব্যক্তি নিখোঁজ হওয়ার পর তার পরিবার তাকে খুঁজছে কি না, সেই তথ্যের সঙ্গে অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধারের তথ্য কতটা সমন্বিত হচ্ছে?
নিখোঁজ ব্যক্তিদের তালিকা, হাসপাতালের মর্গ, থানাগুলোর তথ্য এবং ডিএনএ-সংক্রান্ত তথ্য যদি একটি কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার আওতায় আনা যায়, তাহলে অজ্ঞাত মরদেহের পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়া আরও দ্রুত হতে পারে।
কারণ একটি অজ্ঞাত লাশ কখনোই শুধু একটি লাশ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকতে পারে অপেক্ষায় থাকা বাবা-মা, স্ত্রী-সন্তান কিংবা ভাই-বোনের জীবন। মর্গ থেকে জুরাইনের কবর পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়ার পরও হয়তো কোথাও একজন স্বজন অপেক্ষা করে থাকেন—‘আমার মানুষটি কি ফিরবে?’

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।
[TheChamp-FB-Comments]