নিউজ ডেক্স
আরও খবর
মেট্রোরেলে নাশকতার ২ বছর: সমন্বয়ক হাসিবের স্বীকারোক্তির পরও কেন দুই সরকারের আমলে হয়নি বিচার?
গ্যাস সরবরাহে বড় ঘাটতি: ভোগান্তিতে আবাসিক গ্রাহক, শিল্প ও পরিবহন খাত
জাতিসংঘের ‘নিহত’দের তালিকায় নাম, ভিডিও বার্তায় জীবিত হাজির পাবনার রাফি
বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাত সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে বিএনপি সরকার: ভারতের পদাঙ্ক অনুসরণে উত্তরণের চিন্তা
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জন: সফর সংক্ষিপ্ত করে তড়িঘড়ি দেশে ফিরছেন স্পিকার
আওয়ামী লীগের ‘১.৫ ট্রিলিয়ন অর্থনীতি’র লক্ষ্যমাত্রা বিএনপি আমলে নামল ১ ট্রিলিয়নে, সময়ও বাড়ল ১০ বছর
তরুণদের মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির পক্ষে টানতে এনসিপি নেতাদের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক!
ঝরে পড়ছে আমের গুটি ফলন নিয়ে শঙ্কা
‘অনইয়ার’ বিবেচনায় চলতি মৌসুমে রাজশাহী অঞ্চলের জেলাগুলোতে আমের বাম্পার ফলন হওয়ায় কথা। গত বছর ছিল ‘অফইয়ার’। ফলন ভালো হয়নি।
এবার অনইয়ারেও এ অঞ্চলের আমবাগানগুলো ব্যাপকভাবে মুকুলিত হওয়া ও আমের গুটি দৃশ্যমান হয়ে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়নি। বাগানগুলোর গাছে গাছে পাতার ফাঁকে ফাঁকে দুলছে আমের গুটি।
তবে গত দুই সপ্তাহ রাজশাহী অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে চলা মৃদু তাপপ্রবাহের ফলে বাগানগুলোতে ব্যাপকভাবে আমের গুটি ঝরে পড়ছে। ফলে আমের কাঙ্ক্ষিত ফলন নিয়ে শঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে। এই আশা ও শঙ্কার মধ্যেই চাষিরা আমের গুটি রক্ষায় বাগানে বাড়তি যত্ন নিতে শুরু করেছেন।
এদিকে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ মৃদু তাপপ্রবাহের কবল থেকে আমের গুটি রক্ষায় আমগাছের গোড়ায় প্রয়োজনীয় সেচ দেওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন। আম চাষিরাও গাছের গোড়ায় সেচ, সার ও কীটনাশক দিচ্ছেন। চাষিরা বলছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে গত মৌসুমে রাজশাহী অঞ্চলে আম বাগানে মুকুল কম হয়েছিল। আবার ফলনও আশাব্যঞ্জক হয়নি। তবে চলতি মৌসুমে আমের ভালো ফলনের আশা করছেন তারা। এক্ষেত্রে ভালো ফলনের জন্য আরও ৪৫-৫০ দিন প্রাকৃতিক আনুকূল্য জরুরি। এই সময় পর্যন্ত কোনো তাপপ্রবাহ, ঝড় ও শিলাবৃষ্টি না হলে আমের ফলন যেমন ভালো হবে, গুণগত মানও নিশ্চিত হবে। চাষি ও বাগান মালিকরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রহিদুল ইসলাম জানান, ২২ মার্চ থেকে রাজশাহী অঞ্চলে বয়ে চলেছে মৃদু তাপপ্রবাহ। রাজশাহী অঞ্চলে গড় তাপমাত্রা ২৮-৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে সেটাকে স্বাভাবিক ধরা হয়। ৩৬-৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে মৃদু তাপপ্রবাহ বলে। একইভাবে ৩৮-৪০ ডিগ্রিকে মাঝারি ও ৪০-৪২ ডিগ্রিকে তীব্র তাপদাহ এবং ৪২ এর উপরে গেলে সেটাকে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ বলে।
২৮ মার্চ রাজশাহীতে ৩৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস গড় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। ১ এপ্রিল রাজশাহী অঞ্চলের ৩৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ছিল। কয়েকদিনের মধ্যে বৃষ্টি না হলে তাপপ্রবাহ আরও তীব্র হবে। সেক্ষেত্রে গড় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি অতিক্রম করতে পারে। এতে প্রকৃতি ও জনজীবনের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা আছে।
জানা গেছে, রাজশাহী কৃষি অঞ্চলের তিন জেলা রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলায় চলতি মৌসুমে ৯৮ হাজার ২৫৭ হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে। এছাড়া নাটোর পাবনা, জয়পুরহাট, সিরাজগঞ্জ ও বগুড়া জেলায় আরও ৫ হাজার ৪৭৮ হেক্টর জমি আম চাষের আওতায় আছে। সবচেয়ে বেশি ৩৮ হাজার ৬০৮ হেক্টর আমবাগান রয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায়। রাজশাহী অঞ্চলের এই পরিমাণ বাগান থেকে চলতি মৌসুমে সাড়ে ১১ লাখ টন আম উৎপন্ন হবে বলে কৃষি বিভাগের আশা। এই পরিমাণ আমের বাজারমূল্য প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা।
আম রাজশাহী অঞ্চলের মানুষের অন্যতম অর্থনৈতিক কৃষি পণ্য। আম মৌসুমে বাগান ও আম বেচা-কেনা থেকে ঝুড়ি তৈরি, চালানি প্যাকিং, পরিবহণ, শ্রমিক প্রভৃতি খাতে কয়েক লাখ মানুষের সাময়িক কর্মসংস্থান হয়। আম মৌসুমকে কেন্দ্র করে রাজশাহী অঞ্চলের জেলাগুলোর গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হয়ে উঠে। এদিকে চাষি ও বাগান মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাজশাহী জেলার আমবাগানে আগে আগে মুকুল এসেছে। আমের রাজধানী খ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জের জাত আমের বড় বড় বাগানে মুকুল আসে কিছুটা দেরিতে।
অন্যদিকে আম উৎপাদনে বর্ধনশীল জেলা নওগাঁর আমবাগানে মুকুল আসে আরও দেরিতে। নওগাঁর বাগানগুলোর অধিকাংশই হাইব্রিড জাতের। এসব আম বাগানে গাছে গাছে ছোট বড় গুটি আম শোভা পাচ্ছে। রাজশাহীর পুঠিয়ার মাহেন্দ্রা এলাকার অভিজ্ঞ আমচাষি সোলাইমান প্রামাণিক বলেন, ঝড়-শিলাবৃষ্টির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে বড় আমগাছ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
অন্যদিকে ছোট গাছ ও নতুন বাগানে ঝড়-বৃষ্টির প্রভাব কম পড়ে। চলতি তাপপ্রবাহের কারণে ব্যাপকহারে গুটি আম ঝরে পড়ছে। এভাবে গুটি ঝরে পড়তে থাকলে ফলনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।