নিউজ ডেক্স
আরও খবর
হাসিনা সরকার পতনে “সক্রিয় ভূমিকা” রেখেছি: প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান (ভিডিও)
বাংলাদেশে কি একটা নিরব গণহত্যা চলছে?
ইউনূসের পথেই তারেক রহমানঃ নাম-না-জানা দেশের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাতারে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী
হাওয়া ভবন বাজেট ১০১: বাজেটের “আকার” বেড়েছে কিন্তু “উকার” কমেছে
ড. আসিফ নজরুল- আপনার এক অঙ্গে কতো রূপ?
বাংলাদেশের প্রাণ জিয়াউর রহমান
শহীদ জিয়া এমন এক বিশ্ববিদ্যালয় যার পাঠ কখনও শেষ হয় না
একজন তোফায়েল আহমেদ, অনেকজন আমরা
আমরা বেড়ে ওঠার সময় যখন দেখতাম কোন ব্যক্তিকে মৃত্যুর পর শহিদ মিনারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে সম্মান প্রদর্শনের জন্য, আমরা জানতাম এই ব্যক্তি দেশের জন্য অনেক বড় কিছু করেছেন। মুক্তিযোদ্ধা, শিল্পী, সাহিত্যিক, বরেণ্য রাজনীতিবিদ, অভিনেতা, ভাষাবিদ, শিক্ষক, গবেষক এমন কোন বরেণ্য ব্যক্তিত্ব। আমরা ভাবতাম কত সাধনা করলেই না একজন মানুষ মৃত্যুর পর শহিদ মিনারে সম্মান পাবার যোগ্য
হন।
আমরা বড় হবার পরও তাই দেখেছি। দেখেছি এরশাদের সময়, খালেদা জিয়ার সময়, শেখ হাসিনার সময়। রাজনৈতিক মতভেদ থাকা সত্বেও জাতীয় বিষয়ে ন্যুনতম কিছু নিয়মনীতি দেখেই আমরা বড় হয়েছি।
অথচ গত ২২ মাসে বাংলাদেশ চোখের সামনে পাল্টে গেল। ইউনুস ও তারেক রহমানের শাসনামলে মুক্তিযোদ্ধারা শহিদ মিনারে সম্মাননা পান না। মতিয়া চৌধুরী, তোফায়েল আহমেদদের শহিদ মিনারে সম্মান জানানো হয় না; প্রেসিডেন্ট আর প্রধানমন্ত্রী শোক প্রকাশ করেন না, তাদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফনও করা হয় না।
আমরা অবাক বিস্ময়ে দেখি স্বাধীনতাবিরোধী কন্টেন্ট ক্রিয়েটর, ভিডিও ব্লগার, ধর্মীয় সন্ত্রাসীদের নিয়ে যাওয়া হয় শহিদ মিনারে; যাদের না আছে শিক্ষা, না আছে ভাষা জ্ঞান, বাংলা সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা।
যারা দাবী করে তারা স্বাধীনতার পক্ষে কিন্তু শেখ হাসিনার বিপক্ষে – এইসব বিষয়ে তাদের বক্তব্য কী? তাদের বক্তব্য দিতে হবে যদি তারা নিজেদের স্বাধীনতার পক্ষে ও ফ্যাসিস্টের বিপক্ষে দাবী করে। তারা যদি সে দাবী না করে এবং নিজেদের জুলাই-অগাস্ট ২০২৪ এর ষড়যন্ত্রের সংশ্লিষ্টতা স্বীকার করে নেয়, তবে বক্তব্য দেয়ার দরকার নেই।
এই সময়ে কারা এই অভাবনীয় অন্যায়ের প্রতিবাদ করছে কিংবা করছে না, সেটি ভবিষ্যতে তাদের লিটমাস টেস্ট হবে। কথায় কথায় শাহবাগ আর কাঁটাবনে ডলার ভাঙিয়ে ব্যানার নিয়ে দাঁড়িয়ে যাওয়া সুশীলদের জবাব দিতে হবে।
যারা মারা যান, তারা তো মারাই যান। তাদের সম্মান আমাদের অন্তরে আছে, থাকবে। কিন্তু যারা বেঁচে আছে তাদের মধ্যে কাদের মেরুদন্ড আছে আর কাদের নেই, সেটির হিসাবনিকাশ পরিষ্কার হচ্ছে ইতিহাসের এই সময়টায়। সবকিছু লিপিবদ্ধ হচ্ছে। হবে।
যারা মতিয়া চৌধুরী, তোফায়েল আহমেদকে শহিদ মিনারে নিতে দেন না, তাদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন না, তারা পরিষ্কারভাবেই পাকিবীর্য। তারা বাংলাদেশের অস্তিত্বে শ্রদ্ধাশীল নয়। তারা কেবল বঙ্গবন্ধুর উপহার দেয়া স্বাধীন দেশের ফলটুকু শুষে নিয়েছে, নিচ্ছে।
জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে তাদের আইনের কাঠগড়ায় আনা হবে। হবেই।
তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করি। কষ্ট লাগে আপনারা একটা দেশকে স্বাধীন করে আবার মৃত্যুর সময় তাকে পরাধীন হতে দেখলেন। এই দায় আমাদের। তবে আমরাই একে আবার স্বাধীন করব। আপনাদের উত্তরসূরিরা তা দেখবে নিশ্চয়।
জয় বাংলা।
লেখক পরিচিতি
অধ্যাপক শামীম আহমেদ
কানাডা

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।