সিরিয়ায় ইসরায়েল-তুরস্ক উত্তেজনা: পশ্চিম এশিয়ায় কি নতুন এক ফ্রন্ট খুলছে? – বর্ণমালা টেলিভিশন

নিউজ ডেক্স
প্রকাশিতঃ ২২ আগস্ট, ২০২৬
৫:৪৭ পূর্বাহ্ণ
32 ভিউ

আরও খবর

হুথিদের কাছে ‘সেইফ প্যাসেজ’ নিশ্চিত করে সৌদিকে বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি: যুক্তরাষ্ট্রের “জিরো-সাম গেইম”

পাকিস্তানে পুলিশ সদরদপ্তরের মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলায় ১৫ পুলিশসহ নিহত অন্তত ২৭

হুথিদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের গোপন সমঝোতা: মার্কিন জাহাজকে বাধা না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি

সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হুতিদের, জবাবে ব্যাপক বিমান হামলা

মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র, সতর্ক করল চীন-রাশিয়া

ফলাফলে ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন কর্মকর্তারা

নিরাপত্তাজনিত কারণে আমিরাতে ৪৮০০ বাংলাদেশির ভিসা বাতিল, জীবিকা হারিয়ে শঙ্কায় প্রবাসীরা

সিরিয়ায় ইসরায়েল-তুরস্ক উত্তেজনা: পশ্চিম এশিয়ায় কি নতুন এক ফ্রন্ট খুলছে?

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২২ আগস্ট, ২০২৬ | ৫:৪৭ 32 ভিউ
পশ্চিম এশিয়া ইতিমধ্যে অস্থির। যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত চলছে, যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও তেলআবিব গাজায় হামলা চালাচ্ছে, আর পূর্ব দিকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ অব্যাহত। এই তিনটি ফ্রন্টের মধ্যেই এখন সিরিয়াকে ঘিরে ইসরায়েল ও তুরস্কের পুরনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রকাশ্যে চলে এসেছে। গত মঙ্গলবার ইসরায়েল সিরিয়ায় একাধিক বিমান হামলা চালায়। তুরস্ক সীমান্ত থেকে প্রায় ৫৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত আবু আল-দুহুর নামের একটি বিমানঘাঁটির রানওয়ে ও গুদামঘরে এই হামলা হয়। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দাবি, তুরস্ক ওই বিমানঘাঁটিতে সেনা মোতায়েন ও সামরিক উপস্থিতি প্রতিষ্ঠার প্রস্তুতি নিচ্ছিল বলে তেলআবিব মনে করেছে, যা ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রীও তুরস্কের প্রেসিডেন্টকে সিরিয়ায় “বিপজ্জনক দুঃসাহসিকতা”-য় জড়ানো থেকে বিরত থাকার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সিরিয়ার সরকার ইসরায়েলের এই দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছে। তাদের ভাষ্য, তুর্কি কর্মকর্তারা শুধু প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতার উদ্দেশ্যে ওই স্থান পরিদর্শন করেছিলেন, স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের কোনো পরিকল্পনা নেই। তুরস্ক, যারা সিরিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র, ইসরায়েলের অভিযোগকে “মনগড়া হুমকি” বলে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং একইসঙ্গে সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় তাদের সমর্থন অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছে। আসাদ সরকারের পতনের আগে সিরিয়ায় ইসরায়েলের বছরের পর বছর ধরে হাজার হাজার বিমান হামলার মূল লক্ষ্য ছিল ইরান, কারণ সিরিয়া ছিল ইরানের অস্ত্র ও সহায়তা হিজবুল্লাহর কাছে পাঠানোর করিডোর। তবে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদের পতনের পর ইরানের প্রভাব সংকুচিত হয়ে যায়, আর সেই শূন্যস্থানে উঠে আসে তুরস্ক। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় তুরস্ক আসাদবিরোধী বাহিনীকে সমর্থন করেছিল, আর আসাদের পতনের পর আহমেদ আল-শারার নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলে। ন্যাটোর সদস্য তুরস্কের বিশাল সামরিক শক্তি, সিরিয়ার সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত এবং দেশটিতে ইতিমধ্যে সামরিক উপস্থিতি—সব মিলিয়ে ইসরায়েলের উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে। ইসরায়েলের উদ্বেগ শুধু তুরস্ককে নিয়ে নয়, দামেস্কের নতুন সরকার নিয়েও। সিরিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট আল-শারা একসময় আল-কায়েদার একজন কমান্ডার ছিলেন, আর তুরস্ক এখন তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সমর্থক। ইসরায়েলের একাংশের মতে, তুরস্ক ও সিরিয়ার এই ঘনিষ্ঠতা একটি নতুন “সুন্নি অক্ষ” তৈরি করতে পারে—অর্থাৎ এক হুমকি দমন করতে গিয়ে আরেকটি নতুন হুমকির জন্ম দেওয়া হয়েছে কিনা, সে আশঙ্কা জেরুজালেমে রয়েছে। দামেস্ক নিয়ে নেতানিয়াহুর অবস্থানও সময়ের সঙ্গে বদলেছে—প্রথমে ইরান ঠেকানো, এরপর দক্ষিণ সিরিয়ার দ্রুজ সম্প্রদায়কে রক্ষা করা, আর এখন তুরস্কের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ঠেকানো। বিশ্লেষকরা একে “মিশন ক্রিপ” বলছেন—একটি নিরাপত্তা হুমকি থেকে দুটি, দুটি থেকে তিনটি, এভাবে বাড়তে বাড়তে একসময় সব সম্ভাব্য প্রতিপক্ষের সঙ্গেই সংঘাত তৈরি হয়ে যায়। তুরস্কের মিত্র যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলাকে “অপ্রয়োজনীয়” বলে অভিহিত করেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের প্রশংসা করে থাকেন এবং তার প্রশাসন উত্তেজনা কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ওয়াশিংটনের সামনে এমনিতেই অনেক সংকট মোকাবিলার চাপ রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সিরিয়া বহুদিন ধরেই অন্যদের ছায়াযুদ্ধের ময়দান হয়ে আছে—নিরাপত্তার নামে সেনা মোতায়েন আর বিমান হামলার মধ্য দিয়ে নতুন করে আরেকটি সংঘাতের রাস্তা তৈরি হচ্ছে কিনা, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

[TheChamp-FB-Comments]
ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
মরিয়মের মৃত্যুতে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে ক্ষমতার দাপট ও পারিবারিক নির্যাতনের অভিযোগ কক্সবাজার সরকারি কলেজ হোস্টেল থেকে ২০ হাজার ইয়াবাসহ গণিতের ছাত্রী আটক, পাচার করতেন পায়ুপথে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব শুরু: দক্ষিনাঞ্চলে যাত্রীপ্রতি ৫০ টাকা বাস ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জামায়াতের লং মার্চ দেখানোর নাম করে ভাবীকে নিয়ে পালালেন এনসিপির আহ্বায়ক! দ্রব্যমূল্যে নাভিশ্বাস চরমে নিম্ন আয়ের মানুষেঃ তবুও কোথাও দেখা মিলছে না ‘টিসিবির ট্রাকসেল’ জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে, এখানে অন্যায়টা কোথায়?- অদ্ভুত যুক্তি বিএনপির এমপি বাবুলের! কর্মীরা দেশে লংমার্চে, জামায়াতের ৩৪ এমপির পরিবারসহ ৭১ জনের ৫ দেশে বিলাসী সফর! অসহায়-হতদরিদ্রের সেলাই মেশিন পেলেন ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী-বিএনপির নেত্রী‍! বিএনপি সরকারের উন্নয়ন: ১০ কোটি টাকার সেতুতে গভীর রাতে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ঢালাই! মসজিদে সোফা-টেবিল বসিয়ে সভা: সিরাজগঞ্জে বিএনপি নেতার অনুষ্ঠান নিয়ে তুঙ্গে বিতর্ক ধামরাইয়ে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ মহিলা দল নেত্রীর পাহাড়ে নির্মম খুন: কক্সবাজারে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যুবককে কুপিয়ে হত্যা যুবলীগকর্মীকে ধরতে গিয়ে না পেয়ে বাবাকে গ্রেপ্তার সাতক্ষীরা জামায়াতের সাংসদের সাথে গোপনক্যামেরায় ধরা পরা মরিয়মের আত্মহত্যা ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি সফল দাবি, দেশবাসীর প্রতি যুবলীগের কৃতজ্ঞতা আবারও জ্বালানী তেলের মূল্যবৃদ্ধিঃ ডিজেল-পেট্রোল-অকটেনের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ল নাম বদলে ‘উজ্জ্বল’ থেকে ‘আয়াস’: জুলাই চেতনার বড়ি বেচে চাঁদাবাজি-মবের হোতা পরীক্ষার সময় পায়খানায় ফোন ব্যবহারে নকল, ঢাবির হল সংসদের শিবির নেতার সাজা তেজগাঁও কলেজের মসজিদের ভেতরে জঙ্গিদের গোপন বৈঠক থেকে আটক ২৩ মানবতার লজ্জাজনক পরাজয়: ঢাবিতে তোফাজ্জল হত্যার দুই বছর হলেও শুরু হয়নি বিচার