নিউজ ডেক্স
আরও খবর
হরমুজ এড়িয়ে তেল রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইন বন্ধ করল সৌদি
ক্ষেপণাস্ত্র ও সাইবার হামলায় এআই ব্যবহারের বিস্ফোরক দাবি অ্যানথ্রোপিকের
আরব আমিরাত-সমর্থিত গোষ্ঠীর ওপর সৌদি আরবের হামলা
দক্ষিণ আফ্রিকায় দুদিনে ৪ বাংলাদেশির প্রাণহানি
মোদিবিরোধিতায় একজোট, রাহুলকে প্রধানমন্ত্রী মানতে আপত্তি শরিকদের
যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে দরপতন, তেলের দাম নিয়ে উদ্বেগ
‘আমেরিকার মৃত্যু হোক’ স্লোগানে গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ দখলে নিল হুথিরা
সিরিয়ায় ইসরায়েল-তুরস্ক উত্তেজনা: পশ্চিম এশিয়ায় কি নতুন এক ফ্রন্ট খুলছে?
পশ্চিম এশিয়া ইতিমধ্যে অস্থির। যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত চলছে, যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও তেলআবিব গাজায় হামলা চালাচ্ছে, আর পূর্ব দিকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ অব্যাহত। এই তিনটি ফ্রন্টের মধ্যেই এখন সিরিয়াকে ঘিরে ইসরায়েল ও তুরস্কের পুরনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রকাশ্যে চলে এসেছে।
গত মঙ্গলবার ইসরায়েল সিরিয়ায় একাধিক বিমান হামলা চালায়। তুরস্ক সীমান্ত থেকে প্রায় ৫৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত আবু আল-দুহুর নামের একটি বিমানঘাঁটির রানওয়ে ও গুদামঘরে এই হামলা হয়। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দাবি, তুরস্ক ওই বিমানঘাঁটিতে সেনা মোতায়েন ও সামরিক উপস্থিতি প্রতিষ্ঠার প্রস্তুতি নিচ্ছিল বলে তেলআবিব মনে করেছে, যা ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রীও তুরস্কের প্রেসিডেন্টকে সিরিয়ায় “বিপজ্জনক দুঃসাহসিকতা”-য় জড়ানো থেকে বিরত থাকার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
সিরিয়ার সরকার ইসরায়েলের এই দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছে। তাদের ভাষ্য, তুর্কি কর্মকর্তারা শুধু প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতার উদ্দেশ্যে ওই স্থান পরিদর্শন করেছিলেন, স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের কোনো পরিকল্পনা নেই। তুরস্ক, যারা সিরিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র, ইসরায়েলের অভিযোগকে “মনগড়া হুমকি” বলে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং একইসঙ্গে সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় তাদের সমর্থন অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছে।
আসাদ সরকারের পতনের আগে সিরিয়ায় ইসরায়েলের বছরের পর বছর ধরে হাজার হাজার বিমান হামলার মূল লক্ষ্য ছিল ইরান, কারণ সিরিয়া ছিল ইরানের অস্ত্র ও সহায়তা হিজবুল্লাহর কাছে পাঠানোর করিডোর। তবে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদের পতনের পর ইরানের প্রভাব সংকুচিত হয়ে যায়, আর সেই শূন্যস্থানে উঠে আসে তুরস্ক। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় তুরস্ক আসাদবিরোধী বাহিনীকে সমর্থন করেছিল, আর আসাদের পতনের পর আহমেদ আল-শারার নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলে। ন্যাটোর সদস্য তুরস্কের বিশাল সামরিক শক্তি, সিরিয়ার সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত এবং দেশটিতে ইতিমধ্যে সামরিক উপস্থিতি—সব মিলিয়ে ইসরায়েলের উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে।
ইসরায়েলের উদ্বেগ শুধু তুরস্ককে নিয়ে নয়, দামেস্কের নতুন সরকার নিয়েও। সিরিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট আল-শারা একসময় আল-কায়েদার একজন কমান্ডার ছিলেন, আর তুরস্ক এখন তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সমর্থক। ইসরায়েলের একাংশের মতে, তুরস্ক ও সিরিয়ার এই ঘনিষ্ঠতা একটি নতুন “সুন্নি অক্ষ” তৈরি করতে পারে—অর্থাৎ এক হুমকি দমন করতে গিয়ে আরেকটি নতুন হুমকির জন্ম দেওয়া হয়েছে কিনা, সে আশঙ্কা জেরুজালেমে রয়েছে। দামেস্ক নিয়ে নেতানিয়াহুর অবস্থানও সময়ের সঙ্গে বদলেছে—প্রথমে ইরান ঠেকানো, এরপর দক্ষিণ সিরিয়ার দ্রুজ সম্প্রদায়কে রক্ষা করা, আর এখন তুরস্কের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ঠেকানো। বিশ্লেষকরা একে “মিশন ক্রিপ” বলছেন—একটি নিরাপত্তা হুমকি থেকে দুটি, দুটি থেকে তিনটি, এভাবে বাড়তে বাড়তে একসময় সব সম্ভাব্য প্রতিপক্ষের সঙ্গেই সংঘাত তৈরি হয়ে যায়।
তুরস্কের মিত্র যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলাকে “অপ্রয়োজনীয়” বলে অভিহিত করেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের প্রশংসা করে থাকেন এবং তার প্রশাসন উত্তেজনা কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ওয়াশিংটনের সামনে এমনিতেই অনেক সংকট মোকাবিলার চাপ রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সিরিয়া বহুদিন ধরেই অন্যদের ছায়াযুদ্ধের ময়দান হয়ে আছে—নিরাপত্তার নামে সেনা মোতায়েন আর বিমান হামলার মধ্য দিয়ে নতুন করে আরেকটি সংঘাতের রাস্তা তৈরি হচ্ছে কিনা, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।
[TheChamp-FB-Comments]