রাজনীতি থেকে ধর্ম- অনলাইনে মত প্রকাশে ভয়: ঝুঁকিতে সাংবাদিকতা-বাকস্বাধীনতা – বর্ণমালা টেলিভিশন

নিউজ ডেক্স
প্রকাশিতঃ ৩০ আগস্ট, ২০২৬
৫:৩৩ পূর্বাহ্ণ
4 ভিউ

রাজনীতি থেকে ধর্ম- অনলাইনে মত প্রকাশে ভয়: ঝুঁকিতে সাংবাদিকতা-বাকস্বাধীনতা

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৩০ আগস্ট, ২০২৬ | ৫:৩৩ 4 ভিউ
বাংলাদেশের সংবাদকর্মীদের একটি অংশের সামাজিক মাধ্যমে স্বাধীন মতামত ব্যক্ত করতে গিয়ে সম্ভাব্য ঝুঁকি ও নানা ধরণের পরিণতির চরম আশঙ্কা তৈরি হওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে ছোট আকারের এক জরিপে। গবেষণামূলক ও তথ্যভিত্তিক কাজ করা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ডেটাফুলের ‘এক্সপ্রেশন পালস’ শীর্ষক এই জরিপের প্রথম কিস্তির ফলাফলে উঠে এসেছে, ক্রমাগত এই শঙ্কার কারণে সাংবাদিকদের একাংশ অনলাইন দুনিয়ায় নিজেদের বাকস্বাধীনতা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। ডেটাফুলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিগত ১০ থেকে ২৫শে আগস্ট মেয়াদে সম্পন্ন এই জরিপের মূল উদ্দেশ্য ছিল বিগত ছয় মাসে ডিজিটাল পরিসরে সাংবাদিকদের মতপ্রকাশের চিত্র পর্যালোচনা করা। সুনির্দিষ্ট প্রশ্নমালার ভিত্তিতে পরিচালনা করা এই গবেষণায় মোট ২২ জন সংবাদকর্মী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। জরিপলব্ধ ফলাফলে দেখা গেছে, গত ছয় মাসে অংশ নেওয়া ২২ জনের মধ্যে ১৮ জন সাংবাদিকই চরম পরিণতির ভয়ে জনস্বার্থ সম্পর্কিত বিষয়াবলীতে অনলাইনে কোনো মত দেওয়া থেকে নিজেদের বিরত রেখেছেন। অধিকন্তু, এদের মধ্যে ১৩ জন স্বীকার করেছেন যে তারা ধারাবাহিকভাবেই এমনটা করে আসছেন। সহকর্মীর ওপর আঘাত তৈরি করছে মানসিক আতঙ্ক গবেষণার অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ প্রাপ্তি হলো সহকর্মীদের ওপর হওয়া আক্রমণের মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব বা ‘চিলিং ইফেক্ট’। অন্য কোনো সাংবাদিক অনলাইনে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করার কারণে হেনস্তা বা আক্রমণের মুখে পড়লে তা সহকর্মীদের প্রভাবিত করে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে অংশ নেওয়া ২১ জন সাংবাদিকই ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। প্রাপ্ত উত্তরের বিশ্লেষণে জানা যায়, এদের মধ্যে ১২ জন জানিয়েছেন এটি তাদের সিদ্ধান্তকে ‘ব্যাপকভাবে’ প্রভাবিত করে, আর বাকি ৯ জন স্বীকার করেছেন এর প্রভাব ‘আংশিক’। অতএব, এটি পরিষ্কার যে একজনের ওপর হওয়া নিপীড়ন কেবল একজন ব্যক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; বরং অন্য সংবাদকর্মীরাও সেই ঘটনাকে উদাহরণ হিসেবে নিয়ে নিজেদের সুরক্ষার স্বার্থে খোলামেলা কথা বলা বন্ধ করছেন। যেসব সংবেদনশীল ইস্যু এড়িয়ে যাচ্ছেন সাংবাদিকেরা নানা ধরনের ঝুঁকির সম্ভাবনা মাথায় রেখে রাজনীতি, রাজনৈতিক মতাদর্শ ও ব্যক্তিত্ব, সরকারের কাজ বা নীতির সমালোচনা, ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক বিষয়াবলি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক অবস্থা, পররাষ্ট্রনীতি এবং এমনকি ধর্ষণের মতো সংবেদনশীল সামাজিক ইস্যুগুলোতেও নিজেদের মন্তব্য প্রকাশ করা বন্ধ রাখছেন সাংবাদিকেরা। জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারী ১৯ জন সংবাদকর্মী একমত প্রকাশ করেছেন যে বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগের প্ল্যাটফর্মগুলোতে উপরোক্ত বিষয়াবলি নিয়ে চর্চা তারা এড়িয়ে চলছেন। এ ছাড়া ২২ জন অংশগ্রহণকারীর মধ্যে ১৫ জনই জানিয়েছেন, বিগত ছয় মাসের পরিস্থিতির তুলনায় বর্তমানে সামাজিক মাধ্যমে বাকস্বাধীনতার চর্চা করতে তারা যথেষ্ট অস্বস্তিবোধ করেন। এদের মধ্যে ৯ জন ‘ব্যাপক অস্বস্তি’ এবং ৬ জন ‘কিছুটা অস্বস্তি’র কথা উল্লেখ করেছেন। অনলাইনের মানসিক চাপ যখন অফলাইনের বাস্তব হুমকি সাংবাদিকদের মনে জমা হওয়া এই ভীতি কেবল ট্রলিং, অ্যাকাউন্ট হ্যাকিং কিংবা সাইবার নিরাপত্তার মতো ডিজিটাল বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। জরিপে অংশ নেওয়া সাংবাদিকদের একটি অংশ উদ্বেগের সঙ্গে জানিয়েছেন, অনলাইনে সংঘবদ্ধ সাইবার আক্রমণ, হুমকি, ব্যক্তিগত গোপনীয় তথ্য প্রকাশ, সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন, চাকরি হারানো বা পেশাগত ক্ষতি, রাজনৈতিক চাপ, মামলার ফাঁদ এবং নিজেদের পাশাপাশি স্বজনদের শারীরিক নিরাপত্তার বিষয়গুলো তাদের প্রবল দুশ্চিন্তায় ফেলছে। সামাজিক মাধ্যমে কোনো বক্তব্য দিলে তার খেসারত বাস্তব জীবনেও দিতে হতে পারে—এমন আশঙ্কাই কার্যত সংবাদকর্মীদের বাকস্বাধীনতাকে সংকুচিত করে আনছে। এই আতঙ্কের বিরূপ ছায়া পড়ছে তাদের কর্মজীবনেও। প্রায় ১৩ জন সাংবাদিক স্পষ্ট করেছেন যে, সম্ভাব্য খারাপ পরিস্থিতির ভয় তাদের ব্যক্তিগত মতপ্রকাশের পাশাপাশি পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রকেও চরমভাবে প্রভাবিত করেছে। গবেষণার সীমাবদ্ধতা বাংলাদেশের সাইবার স্পেসে সাংবাদিকদের মতপ্রকাশের সুযোগ-সুবিধা দীর্ঘসময় ধরেই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। বিশেষ করে, বহুল বিতর্কিত সাইবার নিরাপত্তা আইনকে (যার পূর্বরূপ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন) হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের ফলে সাংবাদিকদের মধ্যে যে ‘সেলফ-সেন্সরশিপ’ বা স্ব-নিয়ন্ত্রণের মানসিকতা দানা বেঁধেছে, তা পূর্বেও বিভিন্ন দেশি ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছিল। ডেটাফুলের এই উদ্যোগ মূলত সাংবাদিকদের সেই অভিজ্ঞতায় কীভাবে ও কতটুকু রূপান্তর ঘটছে, তা পরিমাপের একটি ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা। প্রতিবেদনে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, এই জরিপটিকে গোটা দেশের ‘জাতীয় প্রতিনিধিত্বশীল’ চিত্র হিসেবে দেখার সুযোগ নেই, কারণ অংশ গ্রহণকারীদের কোনো দৈবচয়ন পদ্ধতি অনুসরণ করে বেছে নেওয়া হয়নি। ফলে ‘এক্সপ্রেশন পালস’-এর এই ফলাফল সমগ্র বাংলাদেশের সাংবাদিকদের সার্বিক পরিস্থিতির প্রতিনিধিত্ব করে না।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

[TheChamp-FB-Comments]
ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
উড়োজাহাজ থেকে ২০ কোটি টাকার স্বর্ণ উদ্ধার স্থায়ী কমিটির প্রতিবেদন নিয়েও সংসদে বিতর্ক ইউনিয়নেও প্রশাসক বিএনপি নেতারা, ভোট বন্ধের শঙ্কা জামায়াতের সিরিয়ার কাছে তিন গোলের হার বাংলাদেশের দ্বাদশ শ্রেণি পার না হওয়ার আক্ষেপ, ভবিষ্যৎ নিয়ে সতর্ক কারিনা দুধ ছাড়াও ক্যালসিয়াম পাবেন যেসব খাবার থেকে শুভ জন্মাষ্টমী আজ রাউজানে বিএনপির সমর্থককে গুলি করে হত্যা নবম পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন রোববার মেসিকে বিদায়ী সম্মাননা জানাতে বিশেষ উদ্যোগ নিল আর্জেন্টিনা যেসব বিষয় নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা নিষিদ্ধ তনু হত্যায় দুই সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ ‘৬ মাসে ২ লাখ বাংলাদেশি নেবে মালয়েশিয়া’: শাহে আলমের বক্তব্যকে ভিত্তিহীন বলল মালয়েশিয়ান সরকার এশিয়ান গেমসের টি-টোয়েন্টি দলে ফিরলেন শান্ত দ্বীনি শিক্ষার নামে মাদ্রাসায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী সমন্বয়ে ধর্ষকচক্র: ৭ বছরের ছাত্রের জবানবন্দিতে উঠে এলো ভয়ঙ্কর চিত্র অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ইউনূসের থ্রি জিরোর পর এবার এলো তারেক রহমানের ‘থ্রি আর’ স্ট্র্যাটেজি দাগনভূঞায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে সাংবাদিক-পুলিশসহ আহত ২০ ব্যক্তিগত চ্যাট গোপন রাখতে হোয়াটসঅ্যাপের নতুন ফিচার বেতন দ্বিগুণ সেবা অনিশ্চিত প্রকাশ্যে মার্কিন প্রশাসনের অন্তর্দ্বন্দ্ব