ইরানে যে কারণে ব্যর্থ ইসরায়েল – বর্ণমালা টেলিভিশন

নিউজ ডেক্স
প্রকাশিতঃ ২৬ জুন, ২০২৫
৮:০২ পূর্বাহ্ণ
314 ভিউ

আরও খবর

হুথিদের কাছে ‘সেইফ প্যাসেজ’ নিশ্চিত করে সৌদিকে বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি: যুক্তরাষ্ট্রের “জিরো-সাম গেইম”

পাকিস্তানে পুলিশ সদরদপ্তরের মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলায় ১৫ পুলিশসহ নিহত অন্তত ২৭

হুথিদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের গোপন সমঝোতা: মার্কিন জাহাজকে বাধা না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি

সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হুতিদের, জবাবে ব্যাপক বিমান হামলা

মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র, সতর্ক করল চীন-রাশিয়া

ফলাফলে ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন কর্মকর্তারা

নিরাপত্তাজনিত কারণে আমিরাতে ৪৮০০ বাংলাদেশির ভিসা বাতিল, জীবিকা হারিয়ে শঙ্কায় প্রবাসীরা

ইরানে যে কারণে ব্যর্থ ইসরায়েল

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২৬ জুন, ২০২৫ | ৮:০২ 314 ভিউ
ইরানের সঙ্গে সংঘাতে ব্যর্থ হয়েছে ইসরায়েল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন থাকার পরও তাদের এই ব্যর্থতা একটি বড় ঘটনা। যুদ্ধের শুরু থেকেই ইসরায়েল ব্যাপক আগ্রাসী ভূমিকায় ছিল। পরবর্তী সময়ে স্পষ্ট হয়, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু পরিস্থিতি বুঝতে পেরেই ট্রাম্পের ঘোষিত যুদ্ধবিরতি মেনে নিতে বাধ্য হন। ইসরায়েলের কৌশল কেন ব্যর্থ হলো, তা নিয়ে বিশ্লেষণ করেছে আলজাজিরা। ইসরায়েল ১১ দিন ধরে ইরানে অবিরাম বোমাবর্ষণ করে। এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে লক্ষ্য অর্জনে তারা সফল হয়েছেন। এই দাবি যে ঠিক ছিল না, পরবর্তী সময়ে তা প্রমাণিত হয়েছে। ইসরায়েল দুটি লক্ষ্যের কথা ঘোষণা করে। এক. ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করা, দুই. সরকার পরিবর্তন ঘটানো। যদি প্রশ্ন করা হয়, ইসরায়েল কি তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করতে পেরেছে। জবাব সম্ভবত নেতিবাচক। কারণ ইরানের দাবি অনুযায়ী, তারা যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আগেই পারমাণবিক স্থাপনা থেকে ইউরেনিয়ামসহ মূল উপাদানগুলো সরিয়ে নিতে সক্ষম হয়। পারমাণবিক কর্মসূচির কী ক্ষতি হয়েছে, তা মূলত এখনও স্পষ্ট নয়। বাঙ্কার বাস্টার বোমা ফেলতে ইসরায়েলের অনুরোধ যুক্তরাষ্ট্র রক্ষা করলেও আর কোনো সহযোগিতা ইসরায়েল পায়নি। ইসরায়েল ইরানের সরকার পরিবর্তন দূরের কথা, টলাতেও পারেনি। তবে এই লক্ষ্যে নেতানিয়াহুর কিছু পরিকল্পনা সফল হয়েছে। তা হলো, ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ও পরমাণু বিজ্ঞানীদের হত্যা। এটা ইরানের জন্য গুরুতর ক্ষতি। ইসরায়েল শত্রু দেশকে অস্থিতিশীল করতে চেয়েছিল, সেটাও ঘটেনি। ইরানে রাজনৈতিক ব্যবস্থায় বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি। ইসরায়েল বিপ্লবী গার্ড কর্পসের জ্যেষ্ঠ কমান্ডারদের হত্যা করেছে। এর ফল হয়েছে উল্টো। ইরানি জনগণ আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির সরকারের প্রতি আরও বেশি করে সংহতি প্রকাশ করেছে। ইসরায়েল মনে করেছিল, হামলা অব্যাহত রাখলে ইরানি জনগণ সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাবে। কিন্তু ইরানিরা শুধু সরকার নয়, পুরো দেশের পক্ষে দাঁড়িয়েছে। ইসরায়েল এভিন কারাগারে হামলা করে। এই কারগারটিতে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক নেতারা বন্দি। হামলার মুখে ইরান বন্দিদের আরও গোপন জায়গায় সরিয়ে নেয়। সরকারি দমনপীড়নের বিরুদ্ধে নেতানিয়াহু জনতাকে ক্ষেপিয়ে তুলতে চেয়েছিলেন। এই কৌশলও ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা আইআরআইবিতে হামলা করাও ইসরায়েলের জন্য বুমেরাং হয়। ইসরায়েল গাজায় হামলা চলমান রেখে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের জন্য নিন্দা কুড়িয়েছে আগেই। আর ইরানে হামলা দখলদার দেশটিকে আরও সমর্থনহীন করে তুলেছে। এটা ইসরায়েলের ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলবে। মার্কিন বি-২ স্টিলথ বিমান ইরানে হামলা চালিয়ে নিজ দেশে ফিরে যায়। মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করে তারা ইসরায়েলের পাশে সরাসরি দাঁড়ায়নি। ইউরোপের নেতারা ইসরায়েলকে সমর্থন দিলেও নেতানিয়াহুর লক্ষ্যকে তারা স্বাগত জানাননি। বিশ্বনেতারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইরানকে অবশ্যই শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি চালাতে হবে। ইরান তা মেনে নিয়েছে। এই অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের জনপ্রিয়তা আরও বেড়ে গেছে, যা মূলত ইসরায়েলের পরাজয় ও ইরানের জন্য বিজয়। ইরানে ব্যাপক ও ইচ্ছামতো বাধাহীন হামলা চালাতে পেরেছে ইসরায়েল। তবে ইরানি হামলায় ইসরায়েলের প্রাণকেন্দ্র তেল আবিব ও হাইফা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে বারবার ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের শহরগুলোতে হামলে পড়ে। নিহতের সংখ্যা কম হলেও বিরাট সংখ্যক মানুষ আহত ও বাস্তুচ্যুত হয়। ইরানের হামলায় ইসরায়েল প্রতিরক্ষা সমরাস্ত্রের ঘাটতির মুখে পড়ে। অর্থনীতি দ্রুত নেমে যায়। বিপরীত দিকে হামলায় ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়লেও ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান দমে যায়নি, ভেঙে পড়েনি। কাতারে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার পর ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা তেহরানের জন্য আরেকটি বিজয় ছিল। তাছাড়া ইরান শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত হুঙ্কার দিয়েছে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে, যা বিশ্ব দরবারে দেশটির মাথা সমুন্নত করেছে।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

[TheChamp-FB-Comments]
ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
মরিয়মের মৃত্যুতে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে ক্ষমতার দাপট ও পারিবারিক নির্যাতনের অভিযোগ কক্সবাজার সরকারি কলেজ হোস্টেল থেকে ২০ হাজার ইয়াবাসহ গণিতের ছাত্রী আটক, পাচার করতেন পায়ুপথে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব শুরু: দক্ষিনাঞ্চলে যাত্রীপ্রতি ৫০ টাকা বাস ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জামায়াতের লং মার্চ দেখানোর নাম করে ভাবীকে নিয়ে পালালেন এনসিপির আহ্বায়ক! দ্রব্যমূল্যে নাভিশ্বাস চরমে নিম্ন আয়ের মানুষেঃ তবুও কোথাও দেখা মিলছে না ‘টিসিবির ট্রাকসেল’ জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে, এখানে অন্যায়টা কোথায়?- অদ্ভুত যুক্তি বিএনপির এমপি বাবুলের! কর্মীরা দেশে লংমার্চে, জামায়াতের ৩৪ এমপির পরিবারসহ ৭১ জনের ৫ দেশে বিলাসী সফর! অসহায়-হতদরিদ্রের সেলাই মেশিন পেলেন ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী-বিএনপির নেত্রী‍! বিএনপি সরকারের উন্নয়ন: ১০ কোটি টাকার সেতুতে গভীর রাতে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ঢালাই! মসজিদে সোফা-টেবিল বসিয়ে সভা: সিরাজগঞ্জে বিএনপি নেতার অনুষ্ঠান নিয়ে তুঙ্গে বিতর্ক ধামরাইয়ে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ মহিলা দল নেত্রীর পাহাড়ে নির্মম খুন: কক্সবাজারে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যুবককে কুপিয়ে হত্যা যুবলীগকর্মীকে ধরতে গিয়ে না পেয়ে বাবাকে গ্রেপ্তার সাতক্ষীরা জামায়াতের সাংসদের সাথে গোপনক্যামেরায় ধরা পরা মরিয়মের আত্মহত্যা ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি সফল দাবি, দেশবাসীর প্রতি যুবলীগের কৃতজ্ঞতা আবারও জ্বালানী তেলের মূল্যবৃদ্ধিঃ ডিজেল-পেট্রোল-অকটেনের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ল নাম বদলে ‘উজ্জ্বল’ থেকে ‘আয়াস’: জুলাই চেতনার বড়ি বেচে চাঁদাবাজি-মবের হোতা পরীক্ষার সময় পায়খানায় ফোন ব্যবহারে নকল, ঢাবির হল সংসদের শিবির নেতার সাজা তেজগাঁও কলেজের মসজিদের ভেতরে জঙ্গিদের গোপন বৈঠক থেকে আটক ২৩ মানবতার লজ্জাজনক পরাজয়: ঢাবিতে তোফাজ্জল হত্যার দুই বছর হলেও শুরু হয়নি বিচার