আপিলের সুযোগ শেষ, ত্রুটিপূর্ণ বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রশ্ন রেখেই রায় কার্যকরের পথে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল! – বর্ণমালা টেলিভিশন

নিউজ ডেক্স
প্রকাশিতঃ ১০ জুন, ২০২৬
৫:৫৩ পূর্বাহ্ণ
23 ভিউ

আরও খবর

মেট্রোরেলে নাশকতার ২ বছর: সমন্বয়ক হাসিবের স্বীকারোক্তির পরও কেন দুই সরকারের আমলে হয়নি বিচার?

গ্যাস সরবরাহে বড় ঘাটতি: ভোগান্তিতে আবাসিক গ্রাহক, শিল্প ও পরিবহন খাত

জাতিসংঘের ‘নিহত’দের তালিকায় নাম, ভিডিও বার্তায় জীবিত হাজির পাবনার রাফি

বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাত সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে বিএনপি সরকার: ভারতের পদাঙ্ক অনুসরণে উত্তরণের চিন্তা

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জন: সফর সংক্ষিপ্ত করে তড়িঘড়ি দেশে ফিরছেন স্পিকার

আওয়ামী লীগের ‘১.৫ ট্রিলিয়ন অর্থনীতি’র লক্ষ্যমাত্রা বিএনপি আমলে নামল ১ ট্রিলিয়নে, সময়ও বাড়ল ১০ বছর

তরুণদের মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির পক্ষে টানতে এনসিপি নেতাদের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক!

আপিলের সুযোগ শেষ, ত্রুটিপূর্ণ বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রশ্ন রেখেই রায় কার্যকরের পথে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল!

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১০ জুন, ২০২৬ | ৫:৫৩ 23 ভিউ
শুরু থেকেই নানা বিতর্কে জড়িয়ে পড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এখন নতুন এক আইনি জটিলতার মুখোমুখি। ট্রাইব্যুনাল গঠনের আইন না মানা, প্রতিহিংসামূলক বিচারিক প্রক্রিয়া, অভিযুক্তদের পছন্দের আইনজীবি নিয়োগের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা এবং একতরফা অভিযোগ গঠনের কারণে প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই এই ট্রাইব্যুনাল তীব্র সমালোচনার মধ্যে ছিল। এর মধ্যেই ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে একাধিক রায় ঘোষিত হয়েছে। এখন প্রশ্ন উঠেছে — দণ্ডিত অনুপস্থিত আসামিরা ফিরে এলে বা গ্রেপ্তার হলে কী হবে তাদের বিচারিক পরিণতি? আপিলের সুযোগ হারিয়েছেন অধিকাংশ পলাতক আসামি ট্রাইব্যুনালে এখন পর্যন্ত ৪টি মামলার রায়ে ১৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১০ জনকে যাবজ্জীবন এবং ৩৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আবু সাঈদ হত্যা মামলা ছাড়া বাকি ৩ মামলার অনুপস্থিত আসামিরা ইতিমধ্যে আপিলের সুযোগ হারিয়েছেন। ট্রাইব্যুনাল আইনের ২১ নম্বর ধারার ৩ নম্বর উপধারায় বলা হয়েছে, দণ্ড ও সাজা অথবা খালাস দেওয়ার তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে। এ সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার পর কোনো আপিল গ্রহণযোগ্য হবে না। শেখ হাসিনা ও কামালের ক্ষেত্রে কী ঘটবে? গত ১৭ নভেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের পাশাপাশি ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে দেশে থাকা তাদের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আপিল দায়ের করে। আপিল শেষে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয় গত ১৩ জানুয়ারি। চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম পরিষ্কার জানিয়েছেন, অনুপস্থিত আসামিদের জন্য এখন আর আইনি অনুকম্পার সুযোগ নেই। তার ভাষায়, “রায় প্রকাশিত হওয়ার পর যখন সকলে বিষয়টি জানছে, এটা জানার পরও তারা যখন ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে আদালতে আসলেন না, আপিল ফাইল করলেন না — তাহলে পরবর্তীতে আইনের যখন আর সুযোগ নেই, তখন এসে আইনের অনুকম্পা পাওয়ারও সুযোগ নেই।” মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল না করে গ্রেফতার হলেই তাদের দণ্ড কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর। সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে মতবিরোধ তবে এ বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, সংবিধানের ১০৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ন্যায়বিচারের স্বার্থে সুপ্রিম কোর্ট আসামির আবেদনে আপিলের সুযোগ দিতে পারেন। মৃত্যুদণ্ডের মতো গুরুতর শাস্তির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদালত ‘কমপ্লিট জাস্টিস’-এর অধীনে আপিল গ্রহণ করতে পারে বলে তার মত। তবে চিফ প্রসিকিউটর এই যুক্তি খারিজ করে বলেছেন, “আপিলটাই যদি সুপ্রিম কোর্টে না যায়, তাহলে কীভাবে হবে?” প্রসিকিউশনের বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগ: নতুন বিতর্ক বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে সাম্প্রতিক একটি কেলেঙ্কারিতে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) একজন প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। সদ্য পদত্যাগ করা প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদারের বিরুদ্ধে জামিনের জন্য এক কোটি টাকা ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ ওঠার পর এই ঘটনায় অভ্যন্তরীণ তদন্ত করা হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। পর্যবেক্ষকদের মন্তব্য আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ট্রাইব্যুনালের গঠন ও কার্যপ্রণালী শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করেনি। সাক্ষী ব্যবস্থাপনা, তদন্ত কার্যক্রম এবং অভিযুক্তদের আইনি সহায়তা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে যে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, তা বিচার ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। পলাতক আসামিদের আপিলের সুযোগ নিয়ে চিফ প্রসিকিউটর ও সাবেক চিফ প্রসিকিউটরের মধ্যে প্রকাশ্য মতবিরোধ এই সংকটকে আরও গভীর করেছে। এই পরিস্থিতিতে রায় কার্যকরের প্রশ্নটি রাজনৈতিক ও আইনি উভয় অঙ্গনেই সমান আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
চট্টগ্রামে নালা থেকে উদ্ধার ১৪শ গুলির বড় অংশই একে-৪৭ ও মেশিনগানের বালু ব্যবসার দ্বন্দ্বে দলীয় কর্মীকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যাচেষ্টা বিএনপির অপর গ্রুপের মেট্রোরেলে নাশকতার ২ বছর: সমন্বয়ক হাসিবের স্বীকারোক্তির পরও কেন দুই সরকারের আমলে হয়নি বিচার? ‘ডিসেম্বরের মধ্যেই নেত্রীকে ফেরাবো’: কক্সবাজারে প্রকাশ্য সভায় ছাত্রলীগের দৃঢ় শপথ এমআরপির চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হয় সিগারেট: বছরে ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্বের বাইরে, যাচ্ছে কার পকেটে? গ্যাস সরবরাহে বড় ঘাটতি: ভোগান্তিতে আবাসিক গ্রাহক, শিল্প ও পরিবহন খাত যবিপ্রবি ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা, তানভীর আহ্বায়ক ধ্বংস করে দেওয়া শেখ হাসিনার বাড়ি ‘সুধা সদন’ থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার জাতিসংঘের ‘নিহত’দের তালিকায় নাম, ভিডিও বার্তায় জীবিত হাজির পাবনার রাফি ‘নর্দমায় মিলল একে-৪৭-এর বুলেটের স্তূপ! চট্টগ্রামে জঙ্গি ও বিচ্ছিন্নতাবাদী আস্তানার গন্ধ সিভিল সার্জনদের নিয়োগে শর্ত স্বাস্থ্যমন্ত্রীরঃ দিতে হবে ই-জিপি ও ডিডিও পাসওয়ার্ড! মেট্রো স্টেশন থেকে উদ্ধার অত্যাধুনিক প্রযুক্তির পাইপবোমার ছাতা খুললেই ঘটাত বিস্ফোরণ হিন্দু সেজে মন্দিরে ঢুকে চুরি, দুই মুসলিম নারীকে হাতেনাতে আটক করে উত্তম-মধ্যম ‘পুর্ব শত্রুতার জেরে’ পুলিশের এসবি কর্মকর্তার ওপর হামলা, পিঠে ৪৩টি সেলাই ইমামকে সরিয়ে রাজাকার নিজামির পুত্রের জুমা পড়ানো নিয়ে মসজিদে জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাস, মুসল্লিরা আহত জামায়াত এমপির পর এবার বিএনপি নেতারও ‘বিশেষ ভিডিও’ ভাইরাল রশিতে বেঁধে প্রতিবেশীর দুটি পোষা কুকুরকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা, বিচার দাবি স্থানীয়দের শিক্ষামন্ত্রীর ভাবমূর্তি রক্ষায় ‘বলির পাঁঠা’ ৭ শিক্ষক? কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজে নজিরবিহীন বদলি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সংযোগ সড়ক ধসে পড়ল মাত্র ৩ মাসেই যশোরে নিখোঁজের দুই দিন পরে ভ্যানচালকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার: বিএনপি কর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ