অস্তিত্ব বিলীনের পথে মুসলিম বাজার খাল – বর্ণমালা টেলিভিশন

অস্তিত্ব বিলীনের পথে মুসলিম বাজার খাল

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৪ June, ২০২৫ | ১০:৫৫ 210 ভিউ
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা নানাবিধ সমস্যায় বসবাস করছেন। সামান্য বৃষ্টিতে প্রধান সড়কসহ অলিগলির সড়কে পানি জমে থাকে। এতে জলাবদ্ধতার ভোগান্তিতে পড়তে হয়। ওয়ার্ডের যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনার স্তূপ পড়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। দখলদারদের কবলে পড়ে অস্তিত্ব বিলীনের পথে মুসলিম বাজার খাল। ফুটপাত চলে গেছে হকারদের দখলে। খেলার মাঠ ও সড়ক দখল করে গড়ে উঠেছে দোকানপাটসহ অবৈধ স্থাপনা। গ্যাস ও পানির তীব্র সংকট, অকেজো সড়কবাতি, মশা-মাছির উপদ্রব, বেওয়ারিশ কুকুরের উৎপাত, অটোরিকশার দৌরাত্ম্য, উন্নয়নের ধীরগতি, অবৈধ সিকিউরিটি গেট, নীরব চাঁদাবাজি ও ক্যাম্পকেন্দ্রিক মাদক বেচাকেনাসহ নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত ওয়ার্ডের বাসিন্দা। ওয়ার্ড পরিচিতি : প্রায় ৬ লাখ জনসংখ্যা অধ্যুষিত এ ওয়ার্ডের ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ২৪ হাজার। মিরপুর-১২-এর এ, বি, সি, ডি, ই, ত, ধ, প ব্লক, ডুইপ, ডিওএইচএস, সরকারবাড়ি, বেগুনটিলা, সাগুফতা, মোড়াপাড়া ক্যাম্প, মেডিকেল ক্যাম্প, বিন্দাবন ও উত্তর কালশী নিয়ে ২ নম্বর ওয়ার্ড গঠিত। এ ওয়ার্ডে পল্লবী থানা, মিরপুর সিরামিক, সিটি ক্লাব, মিরপুর ডিওএইচএস অবস্থিত। সরেজমিন দেখা যায়, মিরপুর ১২ নম্বর মুসলিম বাজার থেকে সাংবাদিক আবাসিক এলাকা পর্যন্ত খালের জায়গা বেদখল ও ময়লা-আবর্জনার স্তূপ জমেছে। একটানা বৃষ্টিতে খাল ভরে গিয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। খালের ময়লা আবর্জনা রাস্তার পানিতে ভাসছে। অনেক জায়গায় খালের ময়লা পানি গিয়ে বাসা বাড়িতে উঠেছে। পানির রং কালচে হয়ে গেছে। এ পানিতে মশা মাছি উড়ছে। মুসলিম বাজারের ১৫ ও ১৭ নম্বর রোডের শেষ মাথায় ধীরে ধীরে খাল দখল হওয়াড এর অস্তিত্ব বিলীনের পথে। দক্ষিণ ডুইপ ৮ নম্বর লাইন থেকে মিরপুর ডিওএইচএস পর্যন্ত বড় ড্রেনটি ময়লা-আবর্জনায় পরিপূর্ণ। ড্রেনের বেশিরভাগ স্লাব চুরি হয়ে গেছে। নিয়মিত ড্রেন ও খালের জায়গা পরিষ্কার না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতে স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা জানান, কালশী, ১২ নম্বর বি, সি, ই এবং ধ ব্লক এলাকাটি সামান্য বৃষ্টি হলেই তলিয়ে যায়। ওয়ার্ডের একমাত্র কমিউনিটি সেন্টার ও বিনোদন কেন্দ্রগুলোর দুরবস্থা বহুদিনের। দীর্ঘদিন গ্যাসের সংযোগ নেই ২ নম্বর ওয়ার্ড কমিউনিটি সেন্টারে। সেন্টারটির ভেতরের দেওয়ালের রং উঠে পলেস্তারা খসে পড়ছে। টয়লেটের পরিবেশ নোংরা ও চারপাশে ময়লা আবর্জনায় ভরা। বিনোদনের একমাত্র স্থান ১২ নম্বর ডি ব্লক ঈদগাহ মাঠ ও ১২ নম্বর লাল মাঠ সংস্কারের অভাবে খেলার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। মাঠের চারপাশে বড় বড় গর্ত রয়েছে। বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে পানি জমে থাকে। পুরো মাঠ কদর্মাক্ত থাকে। অনেক সময় মাঠ দখল করে রাজনৈতিক সমাবেশ ও মেলা বসে। বিকাল হলেই মাঠের চারপাশ দখল করে গড়ে ওঠে ভাসমান দোকানপাটসহ অবৈধ স্থাপনা। মাদকসেবী ও কিশোর গ্যাংয়ের আড্ডা থাকে গভীর রাত পর্যন্ত। এদিকে এই ওয়ার্ডে নিরাপত্তার অজুহাত দিয়ে সিকিউরিটি গেট বন্ধ রাখা হয়। অনেক সময় জরুরি প্রয়োজনে মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারে না। ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স ও বিদ্যুতের গাড়ি জরুরি প্রয়োজনে ঢুকতে পারে না। মিরপুর ১২ নম্বর এ এবং বি ব্লকের সিকিউরিটি গেট যেন গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছে। ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ সড়ক সংস্কার হলেও ১২ নম্বর ই ব্লক, ডি ব্লক, ত ব্লক, ধ ব্লক, সি ব্লক, বি ব্লক (একাংশ) ও কালাপানি এলাকায় সড়ক সংস্কারের কাজ ধীরগতির কারণে স্থানীয়রা দুর্ভোগ নিয়ে চলাচল করেন। কালাপানি ৬ নম্বর রোড, উত্তর ও দক্ষিণ ডুইপের বেশিরভাগ সড়ক চলাচলের অনুপযোগী। ১২ নম্বর ই-ব্লকের ১ থেকে ৩৩ নম্বর রোড, ডি এবং ধ ব্লকের সড়কগুলো অনেক দিন থেকে ভাঙাচোরা। এদিকে ১২ নম্বর ই ও সি ব্লকের পার্কের গেট সব সময় বন্ধ থাকায় ভেতরে বিনোদন উপকরণ মরিচা ধরে নষ্ট হয়ে গেছে। ই ব্লকের পার্কের ভেতরে শাকসবজি চাষ করা হচ্ছে। সি ব্লকের পার্কের একাংশ দখল করে দলীয় কার্যালয় বানানো হয়েছে। এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় বিনোদন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এলাকাবাসী। ওয়ার্ডের কালশী রোড, মুসলিম বাজার, এ-ব্লকের থানা রোড, ত ও ডি-ব্লকের সংযোগ সড়কের ফুটপাত দখল করে দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এতে পদে পদে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন পথচারী। বিশুদ্ধ পানি ও গ্যাসের সংকট বিরাজ করছে ওই এলাকার কালাপানি, ১২ নম্বর এ, সি, ডি ও ই ব্লকে। ১২ নম্বর মুসলিম বাজারে বধ্যভূমি থাকলেও সরেজমিন এর কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। ডিএনসিসি অঞ্চল-২-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিয়াউর রহমান বলেন, ২ নম্বর ওয়ার্ডের কী কী সমস্যা রয়েছে তা লিখিতভাবে জানালে তা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধান করব।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

[TheChamp-FB-Comments]
ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
গ্যাসের দাম বাড়ার পঞ্চহেতু কোস্ট গার্ডের পাঁচ জাহাজ থেকে মুছে ফেলা হলো জয় বাংলা ও জাতীয় চার নেতার নাম তিন মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ছাড়াল ৭৪৭ কোটি ডলার দেয়ালে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ লিখন: স্কুলছাত্রীদের শনাক্ত করল পুলিশ, শিক্ষার্থী-নিপীড়নের শংকা বাংলাদেশকে হরমুজ প্রণালী ব্যাবহারের প্রস্তাব ইরানের; বাধা হতে পারে ইউনূস সরকারের করা ‘মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি’ ব্যাংক হিসাব জব্দের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিরা ব্যাংক দেউলিয়া হওয়ার বিতর্কে পদত্যাগ করলেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট ম্যাককেনা অতিরিক্ত যৌন আবেদনময় দৃশ্যে অভিনয় করতে চান না পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে কারখানা বন্ধের ইঙ্গিত মালিকদের ইসলামী বক্তা ও জামায়াতের সাংসদ আমির হামজার নারীঘটিত অডিও-ভিডিও পাওয়ার দাবি রাশেদ খাঁনের পোশাক শ্রমিক নির্যাতন আড়াল করতে পারেনি সরকার, পুলিশি নির্যাতন ও রাজনীতিকরণে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগ হামলা বন্ধে সৌদি’র ১ বিলিয়ন ডলার প্রস্তাব; জবাবে হুথিদের ৫১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ ও ইয়েমেনের শাসনভার দাবি শ্রমিক অসন্তোষে স্থবির দেশের প্রধান রপ্তানি খাত: বড় সংকটের মুখে তৈরি পোশাকশিল্প বীর মুক্তিযোদ্ধার জানাজা ও দাফনে জামায়াত-শিবিরের বাধার ঘটনার প্রতিবাদে শৈলকুপায় মানববন্ধন ইউনূস আমলে হামের টিকার অনিয়ম তদন্তে কমিশন গঠন মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের জের ধরে সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আজ ৫ই নভেম্বর, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এই অঞ্চলের একাধিক পোশাক কারখানায় শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করছেন। একপর্যায়ে পুলিশের রক্তচক্ষু ও বাধা উপেক্ষা করে হাজারো শ্রমিক রাজপথে নেমে এলে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়। সকালে সাভার ও আশুলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোতে শ্রমিকেরা যথারীতি উপস্থিত হলেও তারা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অংশ না নিয়ে কর্মবিরতির ডাক দেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সার্বিক নিরাপত্তাশঙ্কা দেখা দিলে বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের জামগড়া, নিশ্চিন্তপুর ও নরসিংহপুর এলাকার একাধিক পোশাক কারখানা কর্তৃপক্ষ কারখানাগুলোতে ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। কাঠগড়া এলাকার একটি বিশিষ্ট শিল্পগ্রুপের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় এই অঞ্চলের অধিকাংশ কারখানাতেই ইতিমধ্যে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিছু কারখানায় শ্রমিকেরা ভেতরে থাকলেও তারা উৎপাদন কাজ বন্ধ রেখেছেন। সকাল ১০টার পর আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় পরিস্থিতি মোড় নেয় নতুন দিকে। সেখানকার কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা এক জোট হয়ে সড়কে অবস্থান নেন এবং মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে বাধা দিলে তৈরি হয় মুখোমুখি অবস্থান, যা এলাকায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করে। পরে শ্রমিকেরা পুলিশের সে বাধা তোয়াক্কা না করেই একযোগে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন এবং জামগড়ার দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাভারের হেমায়েতপুর, উলাইল, পদ্মার মোড় এবং আশুলিয়ার বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের বিভিন্ন কৌশলগত ও সংবেদনশীল পয়েন্টে পুলিশ ছাড়াও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিক্ষোভরত শ্রমিকদের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের কাছাকাছি অবস্থানে থেকে সতর্ক টহল দিচ্ছেন। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, সে জন্য পুরো শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ট্রাম্প শ্রমিকদের কারখানায় ফিরে আসার আহ্বান শ্রমমন্ত্রীর খুলনা অঞ্চলে চুইঝালের শতকোটি টাকার বাণিজ্য সচিবালয় স্থানান্তরের প্রতিবাদে ফের সড়ক অবরোধ শেকৃবি শিক্ষার্থীদের