ট্রাম্পের শুল্কে ওলটপালটের শঙ্কা বিশ্ব অর্থনীতির – বর্ণমালা টেলিভিশন

ট্রাম্পের শুল্কে ওলটপালটের শঙ্কা বিশ্ব অর্থনীতির

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৪ April, ২০২৫ | ৯:১০ 166 ভিউ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটিতে আমদানি করা সমস্ত পণ্যের ওপর নতুন করে ব্যাপক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। গত বুধবার হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, সব বাণিজ্যিক অংশীদার দেশের ওপর ন্যূনতম ১০ শতাংশ শুল্কারোপ করা হয়েছে, যা কিছু ক্ষেত্রে আরও বেশি হতে পারে। অর্থনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি করবে এবং বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলবে। এমনকি, বিশ্বব্যাপী কয়েক দশক ধরে চলে আসা মুক্ত বাণিজ্যের যুগের সমাপ্তিও দেখতে পাচ্ছেন অর্থনীতি বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, এখনও করোনা মহামারীপরবর্তী মূল্যস্ফীতির ধাক্কা সামলে পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি বিশ^ অর্থনীতি, সেখানে এই শুল্ক আরোপ বিশ^ব্যাপী মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দেবে এবং মন্দার আশঙ্কাও বাড়িয়ে তুলবে। ফিচ রেটিংসের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্রের কার্যকর আমদানি করের হার ২০২৪ সালের মাত্র ২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ২২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা শেষবার ১৯১০ সালের আশপাশে দেখা গিয়েছিল। বিনিয়োগকারীরা এই ঘোষণার পর শেয়ারবাজারে ব্যাপক ধস দেখেছেন; বিশেষ করে বেইজিং, টোকিও ও ইউরোপীয় বাজারে বড় পতন লক্ষ করা গেছে। জার্মানি, যা ইউরোপের অন্যতম প্রধান রপ্তানিকারক, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে এবং পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির ওপর ৫৪ শতাংশ শুল্কের মুখোমুখি হওয়া বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ অর্থনীতি চীনের। ইইউ প্রধান উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেছেন, এর পরিণতি বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষের জন্য ভয়াবহ হতে পারে। ২৭ সদস্যের এই জোট যদি ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় ব্যর্থ হয়, তবে তারা পাল্টা ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্ররাও এই নীতির বিরোধিতা করছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওপর ২০ শতাংশ, জাপানের ওপর ২৪ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর ২৫ শতাংশ এবং তাইওয়ানের ওপর ৩২ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়েছে। এমনকি কিছু ছোট অঞ্চল ও জনবসতিহীন দ্বীপও এই শুল্কের আওতায় পড়েছে। এর আগে ট্রাম্প ২৫ শতাংশ হারে গাড়ি ও গাড়ির যন্ত্রাংশের ওপর শুল্ক নিশ্চিত করেছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেছেন, ‘এটি বন্ধুত্বপূর্ণ কোনো পদক্ষেপ নয়। এই নীতির কোনো যুক্তিসঙ্গত ভিত্তি নেই এবং এটি আমাদের অংশীদারত্বের মূল নীতির পরিপন্থি।’ তবে ট্রাম্প দাবি করেছেন, নতুন শুল্ক দেশীয় উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিভিন্ন দেশ দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘লুট’ করেছে। অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন যে, এই শুল্কনীতি বৈশ্বিক অর্থনীতির গতি কমিয়ে দিতে পারে এবং গড় আমেরিকান পরিবারের জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েক হাজার ডলার পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের দুটি বৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার কানাডা ও মেক্সিকো ইতোমধ্যে অনেক পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্কের সম্মুখীন হয়েছে। যদিও গত বুধবারের ঘোষণার ফলে তাদের ওপর নতুন করে কোনো শুল্ক আরোপ করা হয়নি। দে’ভেরে গ্রুপের সিইও নাইজেল গ্রিন বলেছেন, ‘এভাবে আপনি বিশ্ব অর্থনীতির ইঞ্জিন ধ্বংস করছেন, অথচ দাবি করছেন যে এটিকে আরও গতিশীল করবেন। এই শুল্কনীতি অসংখ্য নিত্যপণ্যের মূল্য বাড়াবে এবং মূল্যস্ফীতিও আরও বাড়াবে।’ হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, কিছু নির্দিষ্ট পণ্য, যেমন- তামা, ওষুধ, সেমিকন্ডাক্টর, কাঠ, স্বর্ণ ও জ্বালানি এই শুল্কের আওতামুক্ত থাকবে। তবে চীন থেকে আসা কম মূল্যমানের পণ্যের ক্ষেত্রে ‘ডি মিনিমিস’ নীতির আওতায় থাকা শুল্কমুক্ত সুবিধা ২ মে থেকে বাতিল করা হবে। এই নীতির আওতায় চীন থেকে কম মূল্যমানের পণ্য (যেগুলোর দাম ৮০০ ডলার বা তার কম) শুল্কমুক্তভাবে পাঠানো যেত। বিশ্বব্যাপী এই শুল্কনীতি কার্যকর হওয়ার ফলে উৎপাদন কার্যক্রম মন্থর হয়ে যেতে পারে এবং সরবরাহ শৃঙ্খল ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ভোক্তারা মূল্য বৃদ্ধির আশঙ্কায় গাড়ি ও অন্যান্য আমদানি করা পণ্য কেনার জন্য তাড়াহুড়া করছেন। ফলে ব্যবসায়ীরা নতুন কৌশল নির্ধারণ করতে বাধ্য হবেন, যদিও ভোক্তাদের জন্য তা বিশেষ সুবিধাজনক হবে না। ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া বাইরু বলেন, ‘এটি ইউরোপের জন্য বিরাট সংকট এবং আমি মনে করি, এটি যুক্তরাষ্ট্র ও আমেরিকান নাগরিকদের জন্যও একটি বিপর্যয়।’ বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হতে পারে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র যে মুক্তবাণিজ্য ব্যবস্থার নেতৃত্ব দিয়েছে, ট্রাম্পের নীতি সেটির স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারে। নোমুরা রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রধান অর্থনীতিবিদ তাকাহিদে কিউচি বলেন, এই নীতির ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তা তৈরি হবে। মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাবে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মন্থর হয়ে পড়বে। আগামী কয়েক মাসে ট্রাম্পের ঘোষিত শুল্কনীতির বাস্তব প্রভাব সরাসরি মূল্য বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রকাশ পাবে, যা ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এখনই বৈশ্বিক মন্দার আশঙ্কা না করলেও তারা ২০২৫ সালের বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস সামান্য কমিয়ে (৩ দশমিক ৩ শতাংশ) সংশোধন করতে পারে বলে জানিয়েছে। নতুন শুল্কের প্রভাব বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে এক রকম হবে না। কারণ শুল্কহার দেশভেদে আলাদা। যেমন- যুক্তরাজ্যের জন্য এটি ১০ শতাংশ এবং কম্বোডিয়ার জন্য ৪৯ শতাংশ। যদি এর ফলে বড় পরিসরে বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু হয়, তবে এটি উৎপাদনশীল দেশগুলোর জন্য সমস্যার কারণ হতে পারে, বিশেষত চীনের জন্য। ক্রেতাদের চাহিদা কমে গেলে চীনকে নতুন বাজার খুঁজতে হতে পারে। আর যদি এই শুল্কনীতি যুক্তরাষ্ট্রকে মন্দার দিকে ঠেলে দেয়, তবে উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপরও এর মারাত্মক প্রভাব পড়বে। কারণ তাদের অর্থনীতি বিশ্বের বৃহৎ অর্থনীতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে সংযুক্ত। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকারগুলোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। দীর্ঘকাল ধরে যে সরবরাহ শৃঙ্খল বিশ্বব্যাপী ভোক্তাদের জন্য মূল্য নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল, তা ভেঙে পড়বে। এর ফলে মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি থাকতে পারে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকারদের জন্য কঠিন পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে। বিশেষ করে, জাপান এই অবস্থায় একটি জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারে। কারণ তাদের একদিকে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলা করতে সুদের হার বাড়ানোর প্রয়োজন হবে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের কারণে তাদের রপ্তানিভিত্তিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিশ্ব অর্থনীতির দুর্বল প্রবৃদ্ধির ফলে সরকারগুলোর জন্য রেকর্ড পরিমাণ বৈশ্বিক ঋণ পরিশোধ করাও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা ব্যয়, জলবায়ু কর্মসূচি এবং সামাজিক সুরক্ষা খাতে অর্থায়নও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

[TheChamp-FB-Comments]
ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
শ্রমিক অসন্তোষে স্থবির দেশের প্রধান রপ্তানি খাত: বড় সংকটের মুখে তৈরি পোশাকশিল্প বীর মুক্তিযোদ্ধার জানাজা ও দাফনে জামায়াত-শিবিরের বাধার ঘটনার প্রতিবাদে শৈলকুপায় মানববন্ধন ইউনূস আমলে হামের টিকার অনিয়ম তদন্তে কমিশন গঠন মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের জের ধরে সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আজ ৫ই নভেম্বর, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এই অঞ্চলের একাধিক পোশাক কারখানায় শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করছেন। একপর্যায়ে পুলিশের রক্তচক্ষু ও বাধা উপেক্ষা করে হাজারো শ্রমিক রাজপথে নেমে এলে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়। সকালে সাভার ও আশুলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোতে শ্রমিকেরা যথারীতি উপস্থিত হলেও তারা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অংশ না নিয়ে কর্মবিরতির ডাক দেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সার্বিক নিরাপত্তাশঙ্কা দেখা দিলে বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের জামগড়া, নিশ্চিন্তপুর ও নরসিংহপুর এলাকার একাধিক পোশাক কারখানা কর্তৃপক্ষ কারখানাগুলোতে ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। কাঠগড়া এলাকার একটি বিশিষ্ট শিল্পগ্রুপের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় এই অঞ্চলের অধিকাংশ কারখানাতেই ইতিমধ্যে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিছু কারখানায় শ্রমিকেরা ভেতরে থাকলেও তারা উৎপাদন কাজ বন্ধ রেখেছেন। সকাল ১০টার পর আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় পরিস্থিতি মোড় নেয় নতুন দিকে। সেখানকার কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা এক জোট হয়ে সড়কে অবস্থান নেন এবং মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে বাধা দিলে তৈরি হয় মুখোমুখি অবস্থান, যা এলাকায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করে। পরে শ্রমিকেরা পুলিশের সে বাধা তোয়াক্কা না করেই একযোগে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন এবং জামগড়ার দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাভারের হেমায়েতপুর, উলাইল, পদ্মার মোড় এবং আশুলিয়ার বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের বিভিন্ন কৌশলগত ও সংবেদনশীল পয়েন্টে পুলিশ ছাড়াও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিক্ষোভরত শ্রমিকদের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের কাছাকাছি অবস্থানে থেকে সতর্ক টহল দিচ্ছেন। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, সে জন্য পুরো শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ট্রাম্প শ্রমিকদের কারখানায় ফিরে আসার আহ্বান শ্রমমন্ত্রীর খুলনা অঞ্চলে চুইঝালের শতকোটি টাকার বাণিজ্য সচিবালয় স্থানান্তরের প্রতিবাদে ফের সড়ক অবরোধ শেকৃবি শিক্ষার্থীদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা পর্যালোচনা করবে সংসদীয় ককাস যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের কারণ ইরান যুদ্ধ: জেডি ভ্যান্স ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ থেকে ডিজিই-পে বিচ্ছিন্ন করল বাংলাদেশ ব্যাংক তরঙ্গ নবায়ন ব্যয় যৌক্তিক করার আহ্বান মোবাইল অপারেটরদের এশিয়া ফাউন্ডেশনের প্রকল্পে ৯০ হাজার উদ্যোক্তাকে সাইবার নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ বাংলাদেশ নিয়ে বাইডেন প্রশাসনের ভূমিকা তদন্তের দাবি, ওয়াশিংটনে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনের পর Newsmax-এ বিশেষ কলাম বৈশ্বিক উৎপাদনকেন্দ্র হতে চায় বাংলাদেশ: তিতুমীর শ্রমিক আন্দোলন দমনে কঠোর অবস্থানে সরকারঃ পুলিশ ও দলীয়কর্মী ছাড়াও ২৫ প্লাটুন যৌথ বাহিনী মোতায়েন জাতীয়ভাবে উপেক্ষিত জেলহত্যা দিবস, সিলেটে নিষেধাজ্ঞা, মব-গ্রেফতার হুমকির মাথায় নিয়েই আওয়ামী লীগের জাতীয় নেতাদের স্মরণ জুলাইর ওয়াসিম হত্যা-মামলার আসামিকে এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্ব দেওয়া কি পুরস্কার? প্রশ্ন- কারা মেরেছে তবে ওয়াসিমকে? বাপে মারছে সৈনিক, মায়ে মারছে কৃষক, পোলায় মারছে শ্রমিক’—এমন স্লোগানে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের শিল্পাঞ্চল। ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে গত কয়েক দিন ধরে রাজধানীর মিরপুর, গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ, ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। গতকাল মঙ্গলবারও এসব এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। আজ বুধবার সকালেও গাজীপুর, সাভার ও নারায়ণগঞ্জে নতুন করে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিল্পাঞ্চলগুলোয় অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে সহিংসতায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ঢাকার উত্তরার শিন শিন জাপান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান গাজীপুরে হামলায় গুরুতর আহত পোশাকশ্রমিক তৌফিক হোসেন। সোমবার গাজীপুরের জয়দেবপুরের বাহাদুরপুর এলাকায় নোমান টেরি টাওয়েল মিলসের সামনে সংঘর্ষের দৃশ্য মুঠোফোনে ধারণ করার সময় হামলার শিকার হন তিনি। পরে স্বজনরা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি গাজীপুরের লায়লা স্টাইল লিমিটেডের শ্রমিক ছিলেন। এ ঘটনায় তাঁর মৃত্যুর পর গাজীপুরের বাংলাবাজার এলাকার কয়েকটি কারখানায় গতকাল ছুটি ঘোষণা করা হয়। শ্রমিকদের দাবি, বর্তমান বাজারদরে প্রচলিত ন্যূনতম মজুরিতে সংসার চালানো সম্ভব হচ্ছে না। বাড়িভাড়া, খাবার, চিকিৎসা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয় মেটাতে গিয়ে প্রতিনিয়ত সংকটে পড়তে হচ্ছে তাঁদের। এ অবস্থায় মাসিক ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে হয়রানি, শ্রমিকদের ওপর হামলা এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় চাকরিচ্যুতির অভিযোগেরও প্রতিকার চাইছেন শ্রমিকরা। আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানার সাইনবোর্ড, বাংলাবাজার ও মির্জাপুর এলাকায় দুই থেকে চার হাজার শ্রমিক ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নেন। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শ্রমিকদের সরিয়ে দিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে তাঁদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন আন্দোলনকারীরা। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের সরিয়ে দেয়। পরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। জয়দেবপুর, সালনা, রাজেন্দ্রপুর ও শফিপুর এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বাংলাবাজার ও কাশিমপুর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সতর্ক অবস্থানে ছিল। গাজীপুরের বোর্ডবাজারের বড়বাড়ী এলাকাতেও সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। তাঁদের সরিয়ে দিতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এদিকে তৌফিক হোসেনের মৃত্যুর পর বাংলাবাজার এলাকার কয়েকটি কারখানায় বুধবারও ছুটি ঘোষণা করা হয়। তবে কতটি কারখানা বন্ধ ছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সাভারের হেমায়েতপুরেও আজ সকালে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। শ্রমিকদের অবরোধের কারণে আশপাশের সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার হেমায়েতপুর এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। দুপুর থেকে বিকাল ৫টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত চলা অবরোধে মহাসড়কের দুই পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। পরে শ্রমিকরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করলে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায়ও আজ বুধবার নতুন করে বিক্ষোভ করেছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। সকাল ১০টার দিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কের পাশে কুতুবাইল কাঠেরপুল এলাকায় জড়ো হন কয়েকটি কারখানার শ্রমিক। তাঁরা মূল সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এ সময় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। শ্রমিকদের অভিযোগ, তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছিলেন। এ সময় স্থানীয় কিছু ব্যক্তি তাঁদের ওপর হামলা চালান। অন্যদিকে পুলিশের দাবি, সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের ছোড়া টিয়ার গ্যাসে স্থানীয় একটি হোসিয়ারি কারখানার শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাজধানীর মিরপুরেও গতকাল মঙ্গলবার শ্রমিকদের বিক্ষোভ ঘিরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর-১১ মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। সংঘর্ষে চার পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে কালশী সড়কে এক পুলিশ সদস্যকে মারধরের ঘটনাও ঘটে। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সংঘর্ষের কারণে মেট্রোরেল চলাচলেও সাময়িক বিঘ্ন ঘটে। নিরাপত্তার কারণে মিরপুর-১০ স্টেশনে প্রায় দুই ঘণ্টা ট্রেন থামানো বন্ধ রাখা হয়। আজ বুধবার মিরপুরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় ১০ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। পুলিশের দাবি, বুধবার শ্রমিকদের সড়কে নামার সুযোগ হয়নি এবং অনেক কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম চলছে। এদিকে শ্রমিক অসন্তোষের কারণে শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। দৈনিক বাংলার প্রকাশিত বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার ৩০৬টি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। এতে ৬ লাখ ৯৪ হাজার ৭৯৩ শ্রমিকের কাজ ব্যাহত হয়। এর আগে ১ নভেম্বর ৫২৯টি কারখানা বন্ধ হয়েছিল এবং কর্মস্থল ছেড়েছিলেন ৯ লাখ ৮৭ হাজার ১৯০ জন শ্রমিক। অর্থাৎ আন্দোলনের প্রভাবে একাধিক শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আজ বুধবার সাভার-আশুলিয়া, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে মোট ২৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, সাভারের হেমায়েতপুর, আশুলিয়া ও বাইপাইল এলাকায় পাঁচ প্লাটুন, গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় ১৩ প্লাটুন এবং নারায়ণগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ছয় প্লাটুন বিজিবি দায়িত্ব পালন করছে। এর পাশাপাশি পুলিশ ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও শিল্পাঞ্চলে টহল দিচ্ছেন। এদিকে শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণে সরকার নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। ছয় সদস্যের এ বোর্ডের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ বুধবার। বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সৈয়দ আজাদ সোবহানি। মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন এ বি এম সামসুদ্দিন ও আসিব আইয়ুব। শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন বাবুল আক্তার ও আনোয়ার হোসেন। শ্রমিকদের প্রত্যাশা, নতুন মজুরি বোর্ড দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত নেবে। তবে বোর্ড গঠনের পরও আন্দোলন থামেনি; বরং রাজধানী ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষ অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস তৈরি পোশাক খাত। এ খাতে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক কাজ করেন। ফলে শ্রমিক অসন্তোষ দীর্ঘায়িত হলে উৎপাদন, সরবরাহ ও রপ্তানি কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। একদিকে জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মজুরির দাবিতে শ্রমিকদের ক্ষোভ, অন্যদিকে কারখানার উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখার চাপ—সব মিলিয়ে তৈরি পোশাক খাতের পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। ডিবি হেফাজতে ইকবাল সোবহান চৌধুরীঃ ২৭ মাস সমঝোতা করেও শেষ রক্ষা হলোনা শেখ হাসিনার সাবেক তথ্য উপদেষ্টার