নিউজ ডেক্স
আরও খবর
সচিবালয় স্থানান্তরের প্রতিবাদে ফের সড়ক অবরোধ শেকৃবি শিক্ষার্থীদের
মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা পর্যালোচনা করবে সংসদীয় ককাস
শ্রমিক আন্দোলন দমনে কঠোর অবস্থানে সরকারঃ পুলিশ ও দলীয়কর্মী ছাড়াও ২৫ প্লাটুন যৌথ বাহিনী মোতায়েন
জাতীয়ভাবে উপেক্ষিত জেলহত্যা দিবস, সিলেটে নিষেধাজ্ঞা, মব-গ্রেফতার হুমকির মাথায় নিয়েই আওয়ামী লীগের জাতীয় নেতাদের স্মরণ
জুলাইর ওয়াসিম হত্যা-মামলার আসামিকে এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্ব দেওয়া কি পুরস্কার? প্রশ্ন- কারা মেরেছে তবে ওয়াসিমকে?
বাপে মারছে সৈনিক, মায়ে মারছে কৃষক, পোলায় মারছে শ্রমিক’—এমন স্লোগানে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের শিল্পাঞ্চল। ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে গত কয়েক দিন ধরে রাজধানীর মিরপুর, গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ, ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। গতকাল মঙ্গলবারও এসব এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। আজ বুধবার সকালেও গাজীপুর, সাভার ও নারায়ণগঞ্জে নতুন করে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিল্পাঞ্চলগুলোয় অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে সহিংসতায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ঢাকার উত্তরার শিন শিন জাপান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান গাজীপুরে হামলায় গুরুতর আহত পোশাকশ্রমিক তৌফিক হোসেন। সোমবার গাজীপুরের জয়দেবপুরের বাহাদুরপুর এলাকায় নোমান টেরি টাওয়েল মিলসের সামনে সংঘর্ষের দৃশ্য মুঠোফোনে ধারণ করার সময় হামলার শিকার হন তিনি। পরে স্বজনরা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি গাজীপুরের লায়লা স্টাইল লিমিটেডের শ্রমিক ছিলেন। এ ঘটনায় তাঁর মৃত্যুর পর গাজীপুরের বাংলাবাজার এলাকার কয়েকটি কারখানায় গতকাল ছুটি ঘোষণা করা হয়। শ্রমিকদের দাবি, বর্তমান বাজারদরে প্রচলিত ন্যূনতম মজুরিতে সংসার চালানো সম্ভব হচ্ছে না। বাড়িভাড়া, খাবার, চিকিৎসা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয় মেটাতে গিয়ে প্রতিনিয়ত সংকটে পড়তে হচ্ছে তাঁদের। এ অবস্থায় মাসিক ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে হয়রানি, শ্রমিকদের ওপর হামলা এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় চাকরিচ্যুতির অভিযোগেরও প্রতিকার চাইছেন শ্রমিকরা। আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানার সাইনবোর্ড, বাংলাবাজার ও মির্জাপুর এলাকায় দুই থেকে চার হাজার শ্রমিক ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নেন। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শ্রমিকদের সরিয়ে দিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে তাঁদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন আন্দোলনকারীরা। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের সরিয়ে দেয়। পরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। জয়দেবপুর, সালনা, রাজেন্দ্রপুর ও শফিপুর এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বাংলাবাজার ও কাশিমপুর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সতর্ক অবস্থানে ছিল। গাজীপুরের বোর্ডবাজারের বড়বাড়ী এলাকাতেও সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। তাঁদের সরিয়ে দিতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এদিকে তৌফিক হোসেনের মৃত্যুর পর বাংলাবাজার এলাকার কয়েকটি কারখানায় বুধবারও ছুটি ঘোষণা করা হয়। তবে কতটি কারখানা বন্ধ ছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সাভারের হেমায়েতপুরেও আজ সকালে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। শ্রমিকদের অবরোধের কারণে আশপাশের সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার হেমায়েতপুর এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। দুপুর থেকে বিকাল ৫টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত চলা অবরোধে মহাসড়কের দুই পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। পরে শ্রমিকরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করলে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায়ও আজ বুধবার নতুন করে বিক্ষোভ করেছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। সকাল ১০টার দিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কের পাশে কুতুবাইল কাঠেরপুল এলাকায় জড়ো হন কয়েকটি কারখানার শ্রমিক। তাঁরা মূল সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এ সময় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। শ্রমিকদের অভিযোগ, তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছিলেন। এ সময় স্থানীয় কিছু ব্যক্তি তাঁদের ওপর হামলা চালান। অন্যদিকে পুলিশের দাবি, সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের ছোড়া টিয়ার গ্যাসে স্থানীয় একটি হোসিয়ারি কারখানার শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাজধানীর মিরপুরেও গতকাল মঙ্গলবার শ্রমিকদের বিক্ষোভ ঘিরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর-১১ মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। সংঘর্ষে চার পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে কালশী সড়কে এক পুলিশ সদস্যকে মারধরের ঘটনাও ঘটে। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সংঘর্ষের কারণে মেট্রোরেল চলাচলেও সাময়িক বিঘ্ন ঘটে। নিরাপত্তার কারণে মিরপুর-১০ স্টেশনে প্রায় দুই ঘণ্টা ট্রেন থামানো বন্ধ রাখা হয়। আজ বুধবার মিরপুরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় ১০ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। পুলিশের দাবি, বুধবার শ্রমিকদের সড়কে নামার সুযোগ হয়নি এবং অনেক কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম চলছে। এদিকে শ্রমিক অসন্তোষের কারণে শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। দৈনিক বাংলার প্রকাশিত বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার ৩০৬টি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। এতে ৬ লাখ ৯৪ হাজার ৭৯৩ শ্রমিকের কাজ ব্যাহত হয়। এর আগে ১ নভেম্বর ৫২৯টি কারখানা বন্ধ হয়েছিল এবং কর্মস্থল ছেড়েছিলেন ৯ লাখ ৮৭ হাজার ১৯০ জন শ্রমিক। অর্থাৎ আন্দোলনের প্রভাবে একাধিক শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আজ বুধবার সাভার-আশুলিয়া, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে মোট ২৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, সাভারের হেমায়েতপুর, আশুলিয়া ও বাইপাইল এলাকায় পাঁচ প্লাটুন, গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় ১৩ প্লাটুন এবং নারায়ণগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ছয় প্লাটুন বিজিবি দায়িত্ব পালন করছে। এর পাশাপাশি পুলিশ ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও শিল্পাঞ্চলে টহল দিচ্ছেন। এদিকে শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণে সরকার নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। ছয় সদস্যের এ বোর্ডের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ বুধবার। বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সৈয়দ আজাদ সোবহানি। মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন এ বি এম সামসুদ্দিন ও আসিব আইয়ুব। শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন বাবুল আক্তার ও আনোয়ার হোসেন। শ্রমিকদের প্রত্যাশা, নতুন মজুরি বোর্ড দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত নেবে। তবে বোর্ড গঠনের পরও আন্দোলন থামেনি; বরং রাজধানী ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষ অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস তৈরি পোশাক খাত। এ খাতে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক কাজ করেন। ফলে শ্রমিক অসন্তোষ দীর্ঘায়িত হলে উৎপাদন, সরবরাহ ও রপ্তানি কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। একদিকে জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মজুরির দাবিতে শ্রমিকদের ক্ষোভ, অন্যদিকে কারখানার উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখার চাপ—সব মিলিয়ে তৈরি পোশাক খাতের পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে।
ডিবি হেফাজতে ইকবাল সোবহান চৌধুরীঃ ২৭ মাস সমঝোতা করেও শেষ রক্ষা হলোনা শেখ হাসিনার সাবেক তথ্য উপদেষ্টার
বাংলাদেশ নিয়ে বাইডেন প্রশাসনের ভূমিকা তদন্তের দাবি, ওয়াশিংটনে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনের পর Newsmax-এ বিশেষ কলাম
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, ২০২৪ সালের আন্দোলন এবং শেখ হাসিনা সরকারের পতনে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন বাইডেন প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তদন্তের দাবি উঠেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম Newsmax-এ প্রকাশিত এক বিশেষ কলামে। গত ৩ নভেম্বর প্রকাশিত ‘What Did Biden’s State Department Know About Bangladesh?’ শীর্ষক নিবন্ধে লেখক অ্যাডেল নাজারিয়ান বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের কাছে একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন।
গত ১৯ অক্টোবর ওয়াশিংটন ডিসির ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে সেন্টার ফর ইউএসএ-বাংলাদেশ রিলেশনসের আয়োজনে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনের পরিপ্রেক্ষিতে কলামটি লেখা হয়েছে। এতে শেখ হাসিনার ছেলে ও সাবেক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের বক্তব্যের পাশাপাশি বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা, চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের আটক, হলি আর্টিজান হামলার দণ্ডপ্রাপ্তদের মুক্তি এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে পরিচালিত বিভিন্ন সংস্থার ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
কলামটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, লেখক শুধু বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেননি; বরং যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসকে বাইডেন আমলের অনুদান, কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং বাংলাদেশবিষয়ক নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তের নথি তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।
দূতাবাসকর্মী হত্যার দণ্ডপ্রাপ্তদের মুক্তি নিয়ে প্রশ্ন
কলামে সজীব ওয়াজেদ জয়ের একটি বক্তব্য বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। লেখকের সঙ্গে কথোপকথনে জয় দাবি করেন, বাংলাদেশে একজন মার্কিন দূতাবাসকর্মী হত্যার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের চাপের মুখে তৎকালীন সরকার হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে বিচারের মাধ্যমে সাজা নিশ্চিত করেছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী প্রশাসন ওই হত্যাকাণ্ডে দণ্ডিত ব্যক্তিদের মুক্তি দিয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য মার্কিন কংগ্রেসকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম, আদালতের রায়, মুক্তির অনুমোদনকারী নির্বাহী আদেশ এবং ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মূল্যায়ন সংগ্রহের পরামর্শ দিয়েছেন লেখক। এ বিষয়ে তিনি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কাছে প্রশ্ন তুলেছেন—দূতাবাসকর্মী হত্যার ঘটনায় যাদের বিচারের মাধ্যমে দণ্ডিত করা হয়েছিল, তাদের মুক্তির বিষয়ে ওয়াশিংটন অবগত ছিল কি না এবং মার্কিন কর্মকর্তারা এ নিয়ে কোনো আপত্তি জানিয়েছিলেন কি না। জয় আরও অভিযোগ করেন, ২০১৬ সালের হলি আর্টিজান বেকারিতে সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্য থেকেও কেউ কেউ পরবর্তী সময়ে মুক্তি পেয়েছেন। লেখক এই অভিযোগেরও নথিভিত্তিক তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। ।শেখ হাসিনার পতনে বাইডেন প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তদন্তের আহ্বান
কলামটির সবচেয়ে রাজনৈতিকভাবে বিস্ফোরক অংশে সজীব ওয়াজেদ জয় অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পেছনে বাইডেন প্রশাসনের ভূমিকা ছিল। তাঁর দাবি, USAID-এর অর্থায়ন এবং যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত বিভিন্ন গণতন্ত্রবিষয়ক সংস্থার কার্যক্রম আন্দোলনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন গোষ্ঠীকে সংগঠিত করতে সহায়তা করেছিল। তবে লেখক একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতাও উল্লেখ করেছেন। কোনো মার্কিন অনুদান বা প্রকল্পের অস্তিত্ব থাকলেই প্রমাণ হয় না যে ওয়াশিংটন সরাসরি কোনো সরকারবিরোধী আন্দোলন পরিচালনা করেছে। কিন্তু মার্কিন করদাতাদের অর্থ কোন সংস্থাকে দেওয়া হয়েছিল, সেই অর্থ কী কাজে ব্যবহৃত হয়েছে এবং মার্কিন কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সম্পর্কে কতটা অবগত ছিলেন—এসব তথ্য জানার অধিকার যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। এ বিষয়ে কংগ্রেসের কাছে বাইডেন আমলের USAID অনুদানের নথি এবং বাংলাদেশের বিষয়ে মার্কিন কূটনীতিকদের মধ্যে আদান-প্রদান হওয়া যোগাযোগের রেকর্ড চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য, বাইডেন হোয়াইট হাউস ২০২৪ সালে বাংলাদেশের সরকার পরিবর্তনে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ভূমিকা থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছিল। সজীব ওয়াজেদ জয়ের অভিযোগ এবং মার্কিন প্রশাসনের অস্বীকৃতি—দুটি বিষয়ই কলামে উল্লেখ করা হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য? কলামটিতে বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কেও একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরা হয়েছে। সজীব ওয়াজেদ জয় দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের সন্ত্রাসবাদবিরোধী বিভাগে তাঁর সঙ্গে আলোচনার সময় কর্মকর্তারা জামায়াতে ইসলামীকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করতেন। কিন্তু একই দপ্তরের রাজনৈতিক বিষয়ক বিভাগ দলটিকে বৈধ রাজনৈতিক দল হিসেবে বিবেচনা করছে এখন। লেখক স্পষ্ট করেছেন, এটি জয়ের ব্যক্তিগত কথোপকথনের বিবরণ; যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকায় জামায়াতকে অন্তর্ভুক্ত করার কোনো প্রমাণ নয়। তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সন্ত্রাসবাদবিরোধী কর্মকর্তারা জামায়াত বা সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট নিরাপত্তা উদ্বেগ জানিয়েছিলেন কি না, সেই উদ্বেগ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পৌঁছেছিল কি না এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন—এসব বিষয় কংগ্রেসের তদন্তের আওতায় আনার পরামর্শ দিয়েছেন নাজারিয়ান। শেখ হাসিনা সরকারের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টিও স্বীকার কলামটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, লেখক শেখ হাসিনা সরকারের আমলের মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উপেক্ষা করেননি। তিনি উল্লেখ করেছেন, জাতিসংঘের তদন্তে ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় শেখ হাসিনা সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনীর পদ্ধতিগত দমন-পীড়নের প্রমাণ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে সজীব ওয়াজেদ জয়ও ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কিছু অংশের হস্তক্ষেপের কথা স্বীকার করেছেন বলে কলামে উল্লেখ করা হয়েছে। লেখকের বক্তব্য, শেখ হাসিনার শাসনামলে যারা নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, তাদের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। একইভাবে শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর যারা রাজনৈতিক প্রতিশোধ ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন, তাদেরও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। অর্থাৎ, লেখক বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকটকে শুধু আওয়ামী লীগ বা শেখ হাসিনার রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের প্রশ্ন হিসেবে দেখেননি; বরং অতীত ও বর্তমান—উভয় সময়ের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়টি সামনে এনেছেন। চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মামলা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে পদক্ষেপ শুরুর আহ্বান কলামের শেষাংশে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের আটক ও বিচারপ্রক্রিয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক উদ্যোগের সূচনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। লেখক বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকরা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ এবং উন্মুক্ত বিচারপ্রক্রিয়া নিশ্চিত করার বিষয়ে বাংলাদেশের সরকারের ওপর কূটনৈতিক চাপ দিতে পারেন। একই সঙ্গে তাঁর আটক অব্যাহত রাখার আইনি ভিত্তি সম্পর্কে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চাইতে পারেন। এখানে লেখকের মূল বক্তব্য হলো, বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা, রাজনৈতিক বন্দিদের অধিকার এবং বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উচিত কথার বাইরে গিয়ে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া। কলামের শেষ প্রশ্নটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। লেখক স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, একসময় যুক্তরাষ্ট্র নিজের দূতাবাসকর্মীর হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে বাংলাদেশের সরকারের ওপর চাপ দিয়েছিল। এখন সেই ব্যক্তিরা মুক্তি পেয়েছেন কি না, তা জানার জন্যও ওয়াশিংটনের যথেষ্ট আগ্রহ থাকা উচিত। লেখক অ্যাডেল নাজারিয়ান: সংক্ষিপ্ত পরিচিতি Adelle Nazarian

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।
[TheChamp-FB-Comments]