নিউজ ডেক্স
আরও খবর
জাতীয়ভাবে উপেক্ষিত জেলহত্যা দিবস, সিলেটে নিষেধাজ্ঞা, মব-গ্রেফতার হুমকির মাথায় নিয়েই আওয়ামী লীগের জাতীয় নেতাদের স্মরণ
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের অসন্তোষ পর্যবেক্ষণ করছে ভারত: জয়সোয়াল
জগন্নাথ হলে মব করে ছাত্রলীগ নেতা অর্ক সাহাকে থানায় দিল ছাত্রদল
রাষ্ট্রের ক্ষমতা-কাঠামোর মৌলিক পরিবর্তন হয়নি: জেএসডি
সরকার যদি জনগণের মত অগ্রাহ্য করে, তা চরম মূল্যে দেবে: শফিকুর রহমান
পুলিশ হেফাজতে ছাত্রলীগ নেতা প্রিন্সের ওপর অকথ্য নির্যাতন, সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে প্রেরণ
চট্টগ্রামে বাসা থেকে আওয়ামী লীগ নেত্রী নুর নাহারের মরদেহ উদ্ধার
জুলাইর ওয়াসিম হত্যা-মামলার আসামিকে এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্ব দেওয়া কি পুরস্কার? প্রশ্ন- কারা মেরেছে তবে ওয়াসিমকে?
চট্টগ্রামে জুলাই সংঘাতের প্রথম নিহত ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম হত্যা মামলার অন্যতম আসামি এ কে এম জিয়াউদ্দিন ওরফে জিয়া রনিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো নিয়ে তীব্র বিতর্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ইতিমধ্যে নগরজুড়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে, খুনের আসামিকে এমন পদায়ন কি তবে পুরস্কার? তাহলে ওয়াসিমের প্রকৃত হত্যাকারী কারা?
হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে জামিনে মুক্ত থাকা এই আসামিকে এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক করার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহতের পরিবার ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্ব।
২০২৪ সালের ১৬ই জুলাই চট্টগ্রামের মুরাদপুর এলাকায় সহিংসতা চালাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হন ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরাম। গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে ওই বছরের ১৮ই আগস্ট নিহত ওয়াসিমের মা মোসাম্মৎ জোসনা আক্তার বাদী হয়ে পাঁচলাইশ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ২৩শে জুন পুলিশ একেএম জিয়াউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে এবং পরদিন ২৪শে জুন আদালতে সোপর্দ করে। মামলার মূল এজাহারে তার নাম না থাকলেও সিসিটিভি ফুটেজ ও তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০২৫ সালের ৭ই জুলাই তিনি আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হন।
২০২৬ সালের ১৪ই মে অনুমোদিত এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগর আহ্বায়ক কমিটিতে ‘জিয়া রনি’ নামে এই একেএম জিয়াউদ্দিনকেই যুগ্ম আহ্বায়ক পদে মনোনীত করা হয়। একাধিক নথিপত্র ও তথ্য বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হওয়া গেছে, ওয়াসিম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া জিয়াউদ্দিন এবং এনসিপির নবগঠিত কমিটির জিয়া রনি একই ব্যক্তি।
এনসিপির পদ পাওয়ার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে একেএম জিয়াউদ্দিন দাবি করেন, তাকে চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে তার এই দাবি খারিজ করে দিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পাঁচলাইশ থানার উপপরিদর্শক নুরুজ্জামান।
তিনি জানান, মামলার তদন্ত প্রতিবেদন এখনো আদালতে জমা পড়েনি এবং কোনো আসামিকে বাদ দেওয়ার আবেদনও করা হয়নি। ফরেনসিক সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।
ছেলে হত্যার আসামিকে রাজনৈতিক পদে বসানোয় চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ওয়াসিমের বাবা শফিউল আলম।
তিনি আরও জানান, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দেননি; অথচ একটি সৌজন্য সাক্ষাতের ভিডিও ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকরভাবে প্রচার করা হয়েছে যে তিনি এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন। তিনি সরকারের কাছে পুত্রহত্যার সঠিক ও নিরপেক্ষ বিচার দাবি করেছেন।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জহির উদ্দিন বাবর অভিযোগ করে বলেন, হত্যা মামলার আসামিকে কমিটিতে পদ দিয়ে এনসিপি মূলত জুলাই চেতনা ও নিহতের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।
বিতর্কের মুখে এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক সুজাউদ্দিন জানান, বিষয়টি নজরে এসেছে এবং এ নিয়ে মহানগর পর্যায়ে বিস্তারিত আলোচনা চলছে। আইনজীবীদের সাথে কথা বলে মামলার তথ্য ও আইনি অবস্থান সম্পর্কিত বিষয়গুলো পরিষ্কার করা হবে বলে তিনি জানান।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।
[TheChamp-FB-Comments]