রাত জেগে রিলস দেখছেন, লুকিয়ে আছে মারাত্মক বিপদ – বর্ণমালা টেলিভিশন

নিউজ ডেক্স
প্রকাশিতঃ ২০ জুলাই, ২০২৬
৫:৪৪ পূর্বাহ্ণ
42 ভিউ

রাত জেগে রিলস দেখছেন, লুকিয়ে আছে মারাত্মক বিপদ

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২০ জুলাই, ২০২৬ | ৫:৪৪ 42 ভিউ
ধরুন ঘড়িতে বাজছে রাত দুইটা। আপনার চোখ দুটো লাল হয়ে গেছে, শরীর বলছে ‘ভাই প্লিজ এবার ঘুমা!’ কিন্তু আপনার ডান হাতের বুড়ো আঙুলটা যেন আপনার কথা শুনছেই না! আর একটা মাত্র রিল... আর একটা মাত্র খবরের শিরোনাম... আর একটা মাত্র ট্রল ভিডিও... ব্যস! কিন্তু এই করতে করতে কখন যে সকাল হয়ে যায়, টেরও পাওয়া যায় না। ভাবছেন, এটা স্রেফ একটা সাধারণ খারাপ অভ্যাস? ভুল, এটি আসলে বর্তমান যুগের এক সাইলেন্ট কিলার। যার নাম ডুমস্ক্রলিং। আজ আমরা জানব, কীভাবে নিজের অজান্তেই এই ডুমস্ক্রলিং রাতের ঘুম চুরি করছে, ব্রেনকে ড্যামেজ করছে এবং কীভাবে এই মরণফাঁদ থেকে নিজেকে বাঁচাবেন। ডুমস্ক্রলিং আসলে কী? সহজ কথায়, ডুমস্ক্রলিং হলো—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একের পর এক নেতিবাচক, উদ্বেগজনক বা উত্তেজনাপূর্ণ খবর ও ভিডিও লাগাতার স্ক্রল করতে থাকা। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহিত কামাল বলছেন, মানুষ এখন তথ্য খোঁজে না, বরং তথ্যের নোংরা স্রোতে ভেসে যায়। মনের ভেতরে একটা অদ্ভুত ভয় কাজ করে—‘আরে! কোনো ট্রেন্ড মিস হয়ে গেল না তো?’ এই ভয় থেকেই আমরা বারবার পেজ রিফ্রেশ করি, কোনো নতুন নোটিফিকেশন না এলেও স্ক্রিন আনলক করি। এটাকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলে ‘ফিয়ার অব মিসিং আউট’ বা ফোমো (FOMO)। আপনি ভাবছেন খবর দেখছেন, কিন্তু আসলে খবর আপনাকে গিলে খাচ্ছে! যেভাবে খুন হয়ে যাচ্ছে ঘুম এখন প্রশ্ন হলো, এই ডুমস্ক্রলিং কীভাবে রাতের পর রাত আপনার ঘুমকে খুন করছে? এর পেছনে রয়েছে তিনটি বৈজ্ঞানিক কারণ। প্রথম কারণ (নীল আলোর ধোকা): আমাদের চোখের সামনে যখন মোবাইলের স্ক্রিন থাকে, তখন তা থেকে একধরনের ক্ষতিকর নীল আলো বের হয়। এই আলো আমাদের ব্রেনের ‘পিনিয়াল গ্ল্যান্ড’-কে বোকা বানায়। ব্রেন মনে করে বাইরে এখনো দিনের আলো আছে! ফলে ঘুম আসার হরমোন ‘মেলাটোনিন’ আর নিঃসৃত হতে পারে না। ব্যস, ঘুম উধাও! দ্বিতীয় কারণ (ব্রেনের ডোপামিন হ্যাকিং): আজকালকার শর্ট ভিডিও বা রিলগুলো এমনভাবে ডিজাইন করা, যা প্রতি পাঁচ সেকেন্ডে আপনার ব্রেনকে নতুন উত্তেজনা দেয়। প্রতিবার নতুন একটা ভিডিও স্ক্রল করার সঙ্গে সঙ্গে ব্রেনে রিলিজ হয় ডোপামিন হরমোন। ব্রেন তখন তৃষ্ণার্ত ড্রাগ আসক্তের মতো ছটফট করতে থাকে—‘আরেকটা ভিডিও দে, আরেকটা দে!’ ফল? রাত পার হয়ে গেলেও আপনি ফোন ছাড়তে পারেন না। তৃতীয় কারণ (ব্রেনের যুদ্ধাবস্থা): মাঝরাতে যখন আপনি কোনো রাজনৈতিক সংঘাত, মারামারি, খুন বা সড়ক দুর্ঘটনার খবর দেখেন, তখন আপনার শরীর বিছানায় শুয়ে থাকলেও ব্রেন চলে যায় ‘যুদ্ধ মোডে’। ব্রেন মনে করে আপনার জীবন বিপন্ন! এমন উত্তেজিত ও সতর্ক ব্রেন নিয়ে কোনো মানুষের পক্ষে ঘুমানো অসম্ভব। ঘুম না হওয়া তো কেবল শুরু। ডুমস্ক্রলিং আপনার পুরো জীবনটাকে তছনছ করে দিচ্ছে। আপনি কি মেলাতে পারছেন আপনার জীবনের সঙ্গে এই লক্ষণগুলো? মানসিক ক্ষতি: সারাদিন বুক ধড়ফড় করা, অকারণ উদ্বেগ, হতাশা এবং ভয়াব রকমের স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া। শারীরিক ক্ষতি: দিনভর মাথা ভারী হয়ে থাকা, চোখের নিচে কালি পড়া, ক্লান্তি এবং অল্প বয়সেই উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি। সামাজিক ক্ষতি: ঘরে ফিরেই আবার ফোনের স্ক্রিনে মুখ গুঁজে থাকা। ফলস্বরূপ—বাবা-মা, ভাই-বোন বা জীবনসঙ্গীর সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হওয়া। অধ্যাপক ডা. মোহিত কামালের মতে, আজকাল ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনায় যে মনোযোগ কমে যাচ্ছে, তার প্রধান কারণ কিন্তু এই ডুমস্ক্রলিং বা স্ক্রিন আসক্তি! মুক্তির উপায় তাহলে উপায় কী? আমরা কি মোবাইল ব্যবহার করা একদম ছেড়ে দেব? একদমই না! সমাধান হলো মোবাইলকে নিয়ন্ত্রণ করা, মোবাইলের দাস হওয়া বন্ধ করা। ১. ডিজিটাল কারফিউ জারি করুন: রাতে ঘুমাতে যাওয়ার ঠিক এক ঘণ্টা আগে মোবাইল, ল্যাপটপ পুরোপুরি বন্ধ বা দূরে সরিয়ে রাখুন। ২. ফোনকে বিছানা থেকে তালাক দিন: ফোন চার্জে দিন আপনার বিছানা থেকে অন্তত পাঁচ হাত দূরে, যাতে ইচ্ছে করলেই হাত বাড়িয়ে ফোন ছোঁয়া না যায়। ৩. নোটিফিকেশন সাইলেন্ট: ঘুমানোর সময় ফোনের ইন্টারনেট কানেকশন বন্ধ করে দিন অথবা ‘ডু নট ডিস্টার্ব’ মোড চালু রাখুন। ৪. সোশ্যাল মিডিয়া ফিল্টার করুন: আপনার ফেসবুক বা ইউটিউব ফিড থেকে সমস্ত নেতিবাচক পেজ বা টক্সিক গ্রুপগুলোকে আজই আনফলো বা মিউট করুন। শুধু ইতিবাচক ও শিক্ষণীয় কনটেন্ট রাখুন। ৫. বিকল্প অভ্যাস তৈরি করুন: ঘুমানোর আগে স্ক্রল না করে বই পড়ুন, ডায়েরি লিখুন, মেডিটেশন করুন বা হালকা কোনো ইনস্ট্রুমেন্টাল গান শুনুন। ব্রেনকে শান্ত হতে দিন। মনে রাখবেন, প্রযুক্তিকে আমরা ব্যবহার করব, প্রযুক্তির দ্বারা আমরা ব্যবহৃত হব না। একটা সুস্থ-সুন্দর জীবনের জন্য আজ রাতেই নিজের বিছানা থেকে মোবাইলের একটি স্বাস্থ্যকর দূরত্ব তৈরি করুন।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

[TheChamp-FB-Comments]
ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ এমপির বাড়ি লুটতে গিয়ে ‘শহীদ’ জুলাই কর্মীর পিতা সেপটিক ট্যাংকে পড়ে নিহত একটির খরচে ৫টি মেট্রোরেল- স্বপ্নই রয়ে গেল: দুই রুটের ব্যয় আওয়ামী আমলের দ্বিগুণেরও বেশি রাজধানীতে প্রকাশ্যে গোলাগুলি, নারীসহ আহত ৩; নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত সাধারণ মানুষ হাঙ্গেরিতে চুরি করা বিমান নিয়ে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার চেষ্টা, রুখে দিল যুদ্ধবিমান উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ ক্রয়ের অযুহাতে ইউনূসের বন্ধ রাখা তেল বিদ্যুতকেন্দ্র গুলোতেই লোডশেডিং এর সমাধান খুঁজছে সরকার ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি: বাংলাদেশ বাড়াচ্ছে বোয়িং উড়োজাহাজের অর্ডার, নতুন চুক্তির ঘোষণা ভারতে নিয়োজিত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের ১ কোটি কর্মসংস্থানের সরকারি মূলা ও বাস্তবতা: বিশ্বব্যাংক বলছে কর্মহীন হবেন ৬ লাখ মানুষ, বাড়বে দারিদ্র ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চার ঘন্টা যানজটে আটকে অ্যাম্বুলেন্সেই রোগীর মৃত্যু বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন: এক বছরে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে ১৪ লাখ মানুষ আবেগঘন বার্তায় শ্রমিকদের কাছে ক্ষমা চেয়ে কারখানা বন্ধ ঘোষণা: ‘টিকিয়ে রাখার অনেক চেষ্টা করেছি, পারলাম না’ বিষাদময় গ্রীষ্ম পার করার পর এখন মেসির সামনে কী? থার্ড টার্মিনাল: ৯৯.৯১% কাজ শেষ হলেও ব্যয় বাড়ানো হচ্ছে ৯০২ কোটি টাকা রাজনীতি থেকে ধর্ম- অনলাইনে মত প্রকাশে ভয়: ঝুঁকিতে সাংবাদিকতা-বাকস্বাধীনতা নারায়ণগঞ্জে হারিয়ে যাচ্ছে একের পর কিশোরী, নিখোঁজ অর্ধ শতাধিক ভেনেজুয়েলার তেল-সম্পদ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দিলেন অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট, ট্রাম্পের সন্তোষ প্রকাশ রাশিয়ার মিগ-২৯ থেকে চীনা জে-১০: গল্পটি সক্ষমতার, মিথ্যা এবং ধোঁকাবাজিরও বাণিজ্যে ভারত-নির্ভরতা বাড়ছেই, দুই বছরে বাণিজ্য ঘাটতি আরও প্রকট পায়রা ও আদানিকে রেকর্ড ক্যাপাসিটি চার্জ প্রদান: গত অর্থবছরে কেন এত বেশি দিতে হলো? একটির খরচে ৫টি মেট্রো নির্মাণ সম্ভব হচ্ছে না: লাইন-২ রুটে খরচ ৬০ হাজার কোটি টাকার বেশি যুক্তরাজ্যে আশ্রয়ের নামে এলজিবিটি কোটায় আবেদনের শীর্ষে পাকিস্তান, দ্বিতীয় বাংলাদেশ