নিউজ ডেক্স
আরও খবর
দুই পরাশক্তির স্বার্থের ফাঁদে রূপপুর: সাশ্রয়ী রুশ মডেল বনাম ব্যয়বহুল মার্কিন প্রযুক্তি- কোন পথে হাঁটবে বাংলাদেশ?
ছাগল চুরির ট্রমায় কাতর মবের হোতারা, দেশের পরিস্থিতি নিয়ে ভাবনা দূর অস্ত
হামে মৃত্যু হাজার পার, ডেঙ্গুতে হাহাকারঃ স্বাস্থ্য খাতের চরম প্রশাসনিক দেউলিয়াত্ব
বেতন দ্বিগুণ সেবা অনিশ্চিত
উগ্রবাদের সতর্কবার্তা যাচাই ছাড়া প্রত্যাখ্যান করার সামর্থ্য কি রাখে বাংলাদেশ?
মানবিক ও বিবেকবান বাঙালিদের উচিত একে অপরের পাশে দাঁড়ানো ও ঐক্যবদ্ধভাবে অন্যায়ের প্রতিবাদ করা
‘ভারতের সাথে দেশের স্বার্থবিরোধী চুক্তি’ বয়ান সৃষ্টি করা মানুষগুলো কেন ‘মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি’ নিয়ে নীরব?
যুক্তরাষ্ট্র কী রূপপুর চালু হতে দেবে?
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে আমি অনেক রিপোর্ট করেছি, প্রতিটি রিপোর্ট ছিল নিরাপত্তা শঙ্কা, অর্থনৈতিক দিক থেকে কতটা সুরক্ষা পাবো এসব নিয়ে। মানে কেন্দ্রটি হোক, কিন্তু জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি ও অর্থনৈতিক ঝুঁকিগুলো বিবেচনায় নিতে হবে সবার আগে।
রূপপুর একটা দীর্ঘ যাত্রা। ভারতের সাথে যুক্ত হওয়ায় ঝুঁকি কতটা তৈরি হয়েছে; বিশেষ করে ১০০ কিলোমিটারের ভেতর সীমান্ত থাকলে পাশের দেশ আলোচনায় ঢুকে পড়ে।
প্রতিবারই চেয়েছি রূপপুর হোক। দুনিয়াতে কোনো পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সময়মতো আসেনি, কাজ শেষ হয়নি। রাশিয়ার পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সরেজমিন গিয়ে দেখেছি, সোভিয়েত আমলের কেন্দ্র নির্মাণ শেষ হয়নি। কারণ এটা শুধু কেন্দ্র না, নিউক্লিয়ার সায়েন্সের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়। চিকিৎসা, কৃষি থেকে শুরু করে এমন কোনো বিষয় নেই যা নিউক্লিয়ার সেবার বাইরে।
একটি শক্তিশালী বিজ্ঞানভিত্তিক আধুনিক দেশ গঠনে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র মারাত্মক দরকারি কাজ। দেশের সরকার যদি কেন্দ্রটিকে ঠিকঠাকমতো চালাতে পারে গোটা দেশের ভাগ্যে সত্যি ভালো কিছু হবে। মাত্র ৩২টি দেশ এমন ধরনের শক্তির অধিকারী, বাংলাদেশ তার একটা। সে তুলনায় আমরা সম্ভবত প্রথম দেশ যারা ডেট লাইনের কাছাকাছি সময় কেন্দ্র নির্মাণ (প্রথম ইউনিট) শেষ করেছি।
জীবনে যারা প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বানিয়েছে সেইসব দেশের সাথে তুলনা করলে বাংলাদেশের খরচও খুব বেশি না প্রতি ইউনিটের ওভার নাইট কস্ট। রাশিয়ার প্রতি প্রীতি থেকে বলছি না, ওদের কাম-কাজ বেশ ভালো লেবেলেরই।
বাংলাদেশ তথা সারা দুনিয়ার এক নম্বর শত্রু হলো যুক্তরাষ্ট্র। আমাদের গর্বের রূপপুরেরও প্রধান শত্রু যুক্তরাষ্ট্র তথা আমেরিকা। সেই আমেরিকার সাথে বিএনপি সরকারের পারমাণবিক সহায়তা চুক্তি হয়ে গেলো অনেকটা নীরবে, কেউ কোনো শব্দ করলো না।
তারও আগে মানে ইন্টেরিম সরকার গত ৯ই ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র একটা ট্রেড এগ্রিমেন্ট সই করেছে। সেই চুক্তি অনুযায়ী রাশিয়া, চীন এখন বাংলাদেশের শত্রু রাষ্ট্র। রাশিয়ার নির্মাণ করা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি আমেরিকা আসলে চালু হতে দিতে চায় না। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে এই ট্রেড এগ্রিমেন্ট হলো প্রথান বাধা রূপপুর চালু করার ব্যাপারে।
যুক্তরাষ্ট্র পদে পদে চেষ্টা করছে কেন্দ্রটি যাতে চালু না হয়। ২০২৩ সালে কিন্তু আকাশপথে পারমাণবিক জ্বালানি বা ইউরেনিয়াম এসেছে বাংলাদেশে, সমস্যা হয়নি। এখন আমেরিকা বাংলাদেশের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর সে রাশিয়া থেকে বাংলাদেশে ইউরেনিয়াম কোনোভাবেই আসতে দিতে চায় না, সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে পাকিস্তানকে দিয়ে আকাশপথ বন্ধ করেছে।
বাংলাদেশের জন্য ইউরেনিয়াম নিয়ে আগেও একই পথে আসলেও এবার পাকিস্তানের আকাশপথ বন্ধ করে দিয়েছে। মানে তোমরা বাংলাদেশিরা কেন্দ্র বানাইছো ভালো, বাট ফুয়েল যেতে দেবো না, ভাবটা এমন।
এর আগে ২০২৩ সালে বাংলাদেশে ইউরেনিয়াম আসছে উড়োজাহাজে করে,সেবার রূট ছিল রাশিয়া – কাজাখস্তান- উজবেকিস্তান/তুর্কমেনিস্তান-আফগানিস্তান- পাকিস্তান- ভারত -বাংলাদেশ। তবে এবার পাকিস্তান আটকে দিয়েছে তাদের বাপ আমেরিকার কারণে।
রূপপুর নিয়ে একটা ইনার স্টোরি করবো। অন্তত সাধারণ মানুষ সাক্ষী থাক, একটা কেন্দ্রকে ঘিরে পরাশক্তিরা যা করছে আমরা যদি আরও বড় হই তাহলে পরাশক্তিগুলো কী করবে সেটার আন্দাজ করুন।
পাকিস্তানের শাসক সরকার আমেরিকা যদি তার গু পরিষ্কার করতে বলে, তাহলে তারা হ্যান্ডওয়াশের বদলে জিহ্বা দিয়ে পরিষ্কার করে দেবে।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।
[TheChamp-FB-Comments]