দ্বিতীয় প্রত্যাবর্তনঃ ১/১১’র সরকারের সময়েও সকল প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে তিনি ফিরেছিলেন – বর্ণমালা টেলিভিশন

দ্বিতীয় প্রত্যাবর্তনঃ ১/১১’র সরকারের সময়েও সকল প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে তিনি ফিরেছিলেন

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২ November, ২০২৬ | ৬:০২ 10 ভিউ
২০০৭ সালের ১০ জানুয়ারি আমাকে হঠাৎ করে এক ব্যাংকের মহাখালী শাখায় জয়েন করতে হয়,বদলীর চাকরী কিছু করার নেই। ১১ জানুয়ারি দুপুর নাগাদ খবর আসে এটিএন বাংলায় কাজ করা একজন ফোন দিয়ে জিজ্ঞেস করে তুই কই লোচন?বললাম আমি উত্তরা ব্রাঞ্চ থেকে মহাখালী ব্রাঞ্চে গতকাল জয়েন করেছি। আমার সেই শুভাকাঙ্ক্ষী বলে অফিস থেকে বের হয়ে যা,কারফিউ দিচ্ছে,একটু পর আর কোন ট্রান্সপোর্ট পাবি না। ম্যানেজারকে গিয়ে বললাম যে কারফিউ দিচ্ছে অফিস ছুটি দেন।ম্যানেজার আমাকে বললেন আফসানা কাজ করেন,এ ধরনের কিছু ঘটেনি। হেড অফিস থেকে যখন অফিস খালি করার ফ্যাক্স এলো তখন বেলা ৫টা। ম্যানেজারের দিকে তাকিয়ে থাকলাম।কলিগদের সাথে রাস্তায় নেমে মনে হলো লাখ লাখ মানুষ কিন্তু সেই তুলনায় যানবাহন নেই বললেই চলে। আমরা হাঁটা শুরু করলাম।হেঁটে কাকলী এলাম।তারপর একটা রিকশা ভ্যানে পা ঝুলিয়ে এয়ারপোর্টের কাছে,সেখান থেকে আবার হেঁটে উত্তরা। বিএনপির গণতন্ত্র(!) রক্ষার চালবাজিতে ফখরুদ্দিন মঈনুদ্দিন গং দেশের ক্ষমতা নিয়ে নিলো। শুরু হলো জলপাইদের এক অন্তহীন অত্যাচার।দুপুরে তারা আমাদের ব্রাঞ্চে আসে,সন্ধ্যা পর্যন্ত শুধু তাদের ডকুমেন্ট দেই,কারণ আমাদের ব্রাঞ্চে এমন কোন মানুষ নেই বিএনপির যার একাউন্ট নেই।সে লুৎফুজ্জামান বাবর ই হোক আর খালেদা জিয়াই হোক। দুঃসহ সেই অবস্থার ভেতর HPM শেখ হাসিনা গেলেন চিকিৎসা করাতে ও সদ্যোজাত নাতনিকে দেখতে বিদেশে।এদিকে আপোসহীন(!) নেত্রী খালেদা জিয়া তৈরী জলপাইদের সাথে সমঝোতা করে সৌদী আরব চলে যেতে।তার ওমরাহর ভিসাও হয়ে গিয়েছে ততোদিনে।উনি বাক্স প্যাটরা বেঁধে রেডি। দেশকে বিরাজনীতিকরণ করতে একদিকে কিছুতেই আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরতে দিচ্ছে না ফখরুদ্দিন মঈনুদ্দিন,অন্যদিকে খালেদা জিয়া সৌদী চলে যেতে রাজি।এই সেই ঐতিহাসিক মাইনাস টু আদতে রাজনীতিহীন দেশ চালানোর প্রক্রিয়া। এমতাবস্থায় জননেত্রী শেখ হাসিনা সকল নিষেধ,বাঁধা অতিক্রম করে দেশে এলেন ৭ই মে।আমরা সাধারণ মানুষেরা দুঃসহ সেই সেনা ও এনজিও শাসনের হাত থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য আমাদের ত্রাতা শেখ হাসিনার দিকে আকুল নয়নে চেয়ে বসেছিলাম। এই ভূ-খন্ডে, একটা গালভরা মুসলমানের দেশে গণতন্ত্র,সংসদ এসব ছিলই আওয়ামী লীগের উপর ভর করে।আমাদের দেশের মুসলমানেরা যাদের ভাবে তাদের আসল দেশ যেমন সৌদী সেখানে কিন্তু রাজতন্ত্র। যাই হোক লম্বা কথা শর্ট নেত্রী এলেন,কারাবরণ করলেন।অকহতব্য সব নিপীড়নের শিকার হলেন।নেত্রী আমাদের সেনা শাসন মুক্ত বাংলাদেশ উপহার দিলেন। আমরা তখনকার তরুণ প্রজন্ম নিজেদের উজাড় করে ২০০৮ এর নির্বাচনের সময় অনলাইনে,অফলাইনে কাজ করেছি।শুধু দেশটা যেন ভালো থাকে সেই ভাবনায়।ঐ নির্বাচনের সময় আমি আরেকটা বিদেশী ব্যাংকে,সেখানে আমার কলিগ যে পাঁড় বিএনপি ছিল আমার কথায় উদ্বুদ্ধ হয়ে,আমার লেখা পড়ে কিরা কসম কেটে নৌকায় ভোট দিয়ে এলো।
আমাদের পুরো জার্নি তো কখনোই সহজ ছিল না।এই ছোট্ট জীবনটা শুধু অসম লড়াইয়ের। কিন্তু লড়ে গিয়েছি।
যারা মন খারাপ করছেন যে আমাদের,অর্থাৎ মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির কোন মূল্যায়ন হবে না,আমাদের কেউ মনে রাখবে না শুধু জানবেন দেশের প্রশ্নে অভিমানের কোন জায়গা নেই।২০১৩ এর গণজাগরণ মঞ্চ পেরিয়ে ২০১৬ তে আমার দেশ পত্রিকার মাহমুদুর রহমান ও ফরহাদ মাজহারের প্ররোচনায় যখন ধারাবাহিক ব্লগার কি/লিং হতে থাকে আমরা অনেকে অভিমানে চুপ করে যাই। যুতে যাই ঘর গেরস্থালিতে,ফুল পাখি লতাপাতা আর কবিতায় মুখ গুঁজে দেয়াতে ছাপড়ি,শিবি/র এসবের এমন বাম্পার ফলনের দ্বার উন্মোচিত হয়।
দেশকে, দেশের সংস্কৃতিকে, বাঙালী জাতীয়তাবাদকে, সেকুলারিজমকে, সংবিধানকে, সার্বভৌমত্বকে সমুন্নত রাখার যে লড়াই তা আজীবনের-এখানে অভিমানের কোন জায়গা নেই।
মনে আমিও ব্যথা পাই,আমারও তীব্র বিষাদ কাজ করে-তারপর ভাবি যে মানুষ নিজের পুরো পরিবার হারিয়েছে নিজের দেশের মানুষের কারণে সেই মানুষ যদি সেই দেশের জন্য এভাবে সর্বস্ব বাজি রেখে লড়তে পারেন,এতকিছুর পরেও যদি দেশের ভালোর কথাই রাতদিন ভাবতে পারেন,তাহলে আমি কেন শুধু একটু মূল্যায়ন করেনি এ ক্ষোভে দেশের কাজ করা থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেব? নেত্রীর অনুসারী হিসেবে,দেশপ্রেমিক হিসেবে আমাদের কর্তব্য পালন করে যেতে হবে,রক্তের ঋণ শোধ করে যেতে হবে এ জন্মেই।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

[TheChamp-FB-Comments]
ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
চুয়েটে ফের শাটডাউন কর্মসূচি, উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেওয়া নিয়ে আপত্তি উড়োজাহাজ কেনার আগে সম্ভাব্যতা যাচাই নিয়ে সংসদীয় কমিটিতে প্রশ্ন ইউক্রেনের রুশ নিয়ন্ত্রিত ওলেশকিতে যুদ্ধবিরতি শেষ হরমুজ প্রণালিতে মাইন বিস্ফোরণে দুই তেলবাহী জাহাজে ক্ষয়ক্ষতি খুলনায় নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তাঁতী দলের নেতাকে কুপিয়ে হত্যা নগদের ৭৮৬ কোটি টাকার শেয়ার ছাড়াতে আবেদন, বিরোধিতা করবে দুদক যুক্তরাষ্ট্রে বসে ওয়ারীতে মাদক ল্যাব পরিচালনা, দেশে ফিরে গ্রেপ্তার প্রধানমন্ত্রীর বাস নিয়ে ফেসবুকে মন্তব্য: আদালতে স্বীকারোক্তি যুবকের ট্রাইব্যুনালে শুধু পলাতক আসামিদের বিচার হয়—জামায়াত নেতার দাবি অসত্য: প্রসিকিউটর দ্বিতীয় প্রত্যাবর্তনঃ ১/১১’র সরকারের সময়েও সকল প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে তিনি ফিরেছিলেন তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনায় জাপানি কনসোর্টিয়ামঃ বাংলাদেশের প্রাপ্তি রাজস্বের ২৭% ও ২১ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প ঋণ শোধের দায় আকাশ আমার ছাদ হবে, মাটি আমার ঘর।” -দেশরত্ন শেখ হাসিনার এক নির্মোহ ও অনন্য জীবনদর্শন ই-রিকশা’ নিবন্ধন শুরু ১৩ সিটি কর্পোরেশনে: গুণতে হবে রিকশাপ্রতি ৮-১০ হাজার টাকা গার্মেন্টস শ্রমিক আন্দোলন ধামাচাপা দিতে শ্রমিক বিক্ষোভে ছাত্রলীগ খুঁজছে সরকার ও মিডিয়া! বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও রাজনৈতিক নিপীড়ন নিয়ে জার্মান পার্লামেন্টে নথি পেশ করল জার্মানি শাখা ছাত্রলীগ নিয়ন্ত্রণের বাইরে তৈরি পোশাক খাতের অসন্তোষ: পরিস্থিতি মোকাবেলায় মন্ত্রীদের জরুরি বৈঠকে ডাকলেন প্রধানমন্ত্রী চার দিন বন্ধ থাকবে একটি এলএনজি টার্মিনাল, কমবে ৩২ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ শ্রমিক অসন্তোষে সাভার-আশুলিয়া ও গাজীপুরের ৩০০ কারখানায় ছুটি জগন্নাথ হলে মব করে ছাত্রলীগ নেতা অর্ক সাহাকে থানায় দিল ছাত্রদল অর্থনীতির বেহাল দশা, মানুষের পেটে ভাত নেই: একে একে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে দেশের অনেক শপিং মল