গিনির দাপটে ভাতিজা কোটিপতি – বর্ণমালা টেলিভিশন

গিনির দাপটে ভাতিজা কোটিপতি

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৬ April, ২০২৫ | ৮:৫৮ 188 ভিউ
পুলিশের নজর এড়িয়ে গাইবান্ধা জেলা যুবলীগ সম্পাদক আহসান হাবীব রাজিব শত কোটি টাকা নিয়ে আত্মগোপনে আছেন। তার অনুপস্থিতিতে কোটি কোটি টাকা তার চামচাদের হাতে আসছে কোন পথে এ নিয়ে শহরে চলছে জল্পনা-কল্পনা। তিনি নেই তাতে কি। শহরের বুকে গড়ে ওঠা আলিশান শপিংমলের নির্মাণ কাজ উঠছে আকাশের দিকে। সাবেক সংসদ-সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ মাহবুব আরা বেগম গিনির আপন ভাতিজা আহসান হাবিব রাজিবের নাম গাইবান্ধার মানুষের মুখে মুখে। এক সময়ের রাজিব আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে তার ভাগ্য বদলাতে শুরু করে। তার মূল কাজ ছিল টেন্ডারবাজি। বড় বড় ঠিকাদারের কাজে বিনা পয়সায় ভাগ বসিয়ে রাতারাতি বনে যান শত কোটি টাকার মালিক। গিনির ভাতিজা হওয়ার সুযোগে তিনি অল্প সময়েই হয়ে ওঠেন গাইবান্ধার মাষ্টার মাইন। তাকে ছাড়া কোনো সরকারি দপ্তরে কোনো কাজ হতো না। তবে এক্ষেত্রে রাজিবের কৌশল ছিল ভিন্ন। নিজের লাইসেন্সে কোনো কাজ করতেন না। বড় ঠিকাদারের নামে সাঘাটা থেকে সুন্দরগঞ্জ পর্যন্ত তিস্তা যমুনার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণের নামে বালু দিয়ে বাঁধ তৈরি করে শত শত কোটি টাকার উত্তোলন করেন পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে। গাইবান্ধার জেনারেল হাসপাতালের অত্যাধুনিক ৮ তলা ভবন নির্মাণ থেকে শুরু করে, গণপূর্ত, সড়ক জনপদ, এলজিইডির শত শত কোটি টাকার কাজের ভাগ নিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন মাহবুব আরা বেগম গিনির অর্থ কালেকশনের ছায়া সম্রাট। অল্প বয়সে যুবলীগের সম্পাদকের পদ পেয়ে বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। উপজেলা পরিষদের টিআর, কাবিখা, কাবিটা থেকে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বাণিজ্যে নেমে পড়েন। তার পেছনে থাকেন তার ফুফু মাহবুব আরা বেগম গিনি। স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগের ক্ষমতার সময়ে তিনি গাইবান্ধা শহরের নিয়ন্ত্রণ হাতে নেন। পুলিশ প্রশাসনের নাকের ডগার ওপর দিয়ে দলীয় প্রভাবে চলে মাদক মাস্তানি, চাঁদাবাজি টেন্ডারবাজি। এডিপি, টিআর কাবিখার ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে তিনি অগাধ টাকার মালিক বনে যান। তার স্ত্রী ও মেয়ে এবং শ্বশুর কাইজারের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে গোপনে টাকার পাহার জমিয়ে রাখেন। ঢাকায় ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর ও ফরাসগঞ্জে নিজের নামে একাধিক ফ্লাট কেনেন। গাইবান্ধা শহরের প্রাণ কেন্দ্র পুরাতন জেলখানার সামনে রাস্তার পাশে বিশাল জায়গা কিনে দশতলা শপিংমল নির্মাণ শুরু করেন। গাইবান্ধা শহরের থানা পাড়ায় নানা রকম পাথর দিয়ে ৫তলা বাড়ি নির্মাণ করে গাইবান্ধাবাসীকে তাক লাগিয়ে দেন। আওয়ামী লীগের ক্ষমতার সময়ে সরকারি কর্মকর্তারা তার বিরুদ্ধে কিছু বলার সাহস ছিল না বলে তার নামে টেন্ডারবাজি চলতো দীর্ঘদিন। দামি গাড়ি নিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত চামচাদের নিয়ে দাপিয়ে বেড়াতেন সারা শহর। তার টাকার হিসাব তিনি নিজেই জানতেন না বলে ম্যানেজার হিসাবে ৫ জন মাস্তানকে দায়িত্ব দেন। জুলাই আগস্ট বিপ্লবের পর আহসান হাবীব রাজিব স্ত্রী কন্যাকে শ্বশুরবাড়িতে রেখে পালিয়ে যান। তবে এই যুবলীগ নেতা রাজিব এতো টাকা কোথায় রেখেছেন, কোন ব্যাংকে রেখেছেন তার খবর শুধু পরিবারের লোকজন জানে। তবে দীর্ঘদিন পালিয়ে থাকলেও তার আলিশান শপিংমলের কাজ বন্ধ হয়নি। গোপন পথে টাকা আসছে। আর সেই টাকায় চলছে শপিংমলের নির্মাণ কাজ। যুবলীগ নেতা রাজিব পালিয়ে থাকলেও কোথায় থেকে তার টাকা আসছে গাইবান্ধার কয়েক চামচার হাতে এই প্রশ্ন গাইবান্ধাবাসীর। গাইবান্ধার বিএনপি অফিসে অগ্নিসংযোগসহ হামলার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। ফুফু সাবেক হুইপ মাহবুব আরা বেগম গিনি ঢাকায় পুলিশের হাতে ধরা পড়লেও রাজিবসহ অনেকেই এখনও সীমান্ত পার হয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

[TheChamp-FB-Comments]
ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
গ্যাসের দাম বাড়ার পঞ্চহেতু কোস্ট গার্ডের পাঁচ জাহাজ থেকে মুছে ফেলা হলো জয় বাংলা ও জাতীয় চার নেতার নাম তিন মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ছাড়াল ৭৪৭ কোটি ডলার দেয়ালে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ লিখন: স্কুলছাত্রীদের শনাক্ত করল পুলিশ, শিক্ষার্থী-নিপীড়নের শংকা বাংলাদেশকে হরমুজ প্রণালী ব্যাবহারের প্রস্তাব ইরানের; বাধা হতে পারে ইউনূস সরকারের করা ‘মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি’ ব্যাংক হিসাব জব্দের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিরা ব্যাংক দেউলিয়া হওয়ার বিতর্কে পদত্যাগ করলেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট ম্যাককেনা অতিরিক্ত যৌন আবেদনময় দৃশ্যে অভিনয় করতে চান না পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে কারখানা বন্ধের ইঙ্গিত মালিকদের ইসলামী বক্তা ও জামায়াতের সাংসদ আমির হামজার নারীঘটিত অডিও-ভিডিও পাওয়ার দাবি রাশেদ খাঁনের পোশাক শ্রমিক নির্যাতন আড়াল করতে পারেনি সরকার, পুলিশি নির্যাতন ও রাজনীতিকরণে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগ হামলা বন্ধে সৌদি’র ১ বিলিয়ন ডলার প্রস্তাব; জবাবে হুথিদের ৫১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ ও ইয়েমেনের শাসনভার দাবি শ্রমিক অসন্তোষে স্থবির দেশের প্রধান রপ্তানি খাত: বড় সংকটের মুখে তৈরি পোশাকশিল্প বীর মুক্তিযোদ্ধার জানাজা ও দাফনে জামায়াত-শিবিরের বাধার ঘটনার প্রতিবাদে শৈলকুপায় মানববন্ধন ইউনূস আমলে হামের টিকার অনিয়ম তদন্তে কমিশন গঠন মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের জের ধরে সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আজ ৫ই নভেম্বর, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এই অঞ্চলের একাধিক পোশাক কারখানায় শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করছেন। একপর্যায়ে পুলিশের রক্তচক্ষু ও বাধা উপেক্ষা করে হাজারো শ্রমিক রাজপথে নেমে এলে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়। সকালে সাভার ও আশুলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোতে শ্রমিকেরা যথারীতি উপস্থিত হলেও তারা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অংশ না নিয়ে কর্মবিরতির ডাক দেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সার্বিক নিরাপত্তাশঙ্কা দেখা দিলে বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের জামগড়া, নিশ্চিন্তপুর ও নরসিংহপুর এলাকার একাধিক পোশাক কারখানা কর্তৃপক্ষ কারখানাগুলোতে ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। কাঠগড়া এলাকার একটি বিশিষ্ট শিল্পগ্রুপের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় এই অঞ্চলের অধিকাংশ কারখানাতেই ইতিমধ্যে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিছু কারখানায় শ্রমিকেরা ভেতরে থাকলেও তারা উৎপাদন কাজ বন্ধ রেখেছেন। সকাল ১০টার পর আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় পরিস্থিতি মোড় নেয় নতুন দিকে। সেখানকার কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা এক জোট হয়ে সড়কে অবস্থান নেন এবং মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে বাধা দিলে তৈরি হয় মুখোমুখি অবস্থান, যা এলাকায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করে। পরে শ্রমিকেরা পুলিশের সে বাধা তোয়াক্কা না করেই একযোগে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন এবং জামগড়ার দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাভারের হেমায়েতপুর, উলাইল, পদ্মার মোড় এবং আশুলিয়ার বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের বিভিন্ন কৌশলগত ও সংবেদনশীল পয়েন্টে পুলিশ ছাড়াও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিক্ষোভরত শ্রমিকদের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের কাছাকাছি অবস্থানে থেকে সতর্ক টহল দিচ্ছেন। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, সে জন্য পুরো শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ট্রাম্প শ্রমিকদের কারখানায় ফিরে আসার আহ্বান শ্রমমন্ত্রীর খুলনা অঞ্চলে চুইঝালের শতকোটি টাকার বাণিজ্য সচিবালয় স্থানান্তরের প্রতিবাদে ফের সড়ক অবরোধ শেকৃবি শিক্ষার্থীদের