শিশুদের টাইপ ১ ডায়াবেটিস – বর্ণমালা টেলিভিশন

শিশুদের টাইপ ১ ডায়াবেটিস

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২৪ July, ২০২৫ | ১১:৫৬ 267 ভিউ
বর্তমানে বাংলাদেশে শিশুদের মাঝে টাইপ ১ ডায়াবেটিস একটি ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্য সমস্যা। যদিও এটি একটি জেনেটিক (বংশগত) ও অটোইমিউন রোগ, তবে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে এটি নিয়ে সচেতনতা এবং সঠিক চিকিৎসাব্যবস্থা এখনো সীমিত। আজ আমরা সহজভাবে জানব শিশুদের টাইপ ১ ডায়াবেটিস কী, কেন হয়, কী কী লক্ষণ দেখা যায়, চিকিৎসা ও করণীয় এবং বাংলাদেশের বাস্তবতা। টাইপ ১ ডায়াবেটিস কী? টাইপ ১ ডায়াবেটিস হলো এমন একটি অবস্থা, যেখানে শিশুর শরীরে ইনসুলিন তৈরি বন্ধ হয়ে যায় বা খুব কম পরিমাণে তৈরি হয়। ইনসুলিন এক ধরনের হরমোন, যা রক্তে শর্করার (গ্লুকোজ) পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে। ইনসুলিন ছাড়া গ্লুকোজ কোষে প্রবেশ করতে পারে না। ফলে রক্তে চিনি বেড়ে যায়। এটি মূলত একটি অটোইমিউন রোগ। অর্থাৎ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভুল করে নিজেরই ইনসুলিন তৈরি করা কোষকে ধ্বংস করে ফেলে। শিশুদের মাঝে টাইপ ১ ডায়াবেটিসের লক্ষণগুলো কী কী? - ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া - খুব বেশি পিপাসা লাগা - ওজন কমে যাওয়া - বারবার ক্ষুধা লাগা - ক্লান্তি বা দুর্বলতা - ঘন ঘন সংক্রমণ (যেমন : চামড়ার ফুসকুড়ি, ফাংগাল ইনফেকশন) - ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে হঠাৎ করে প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারা অনেক সময় এসব লক্ষণ অজান্তে উপেক্ষিত হয়। এতে শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং ডায়াবেটিক কোমাতেও চলে যেতে পারে। বাংলাদেশে বাস্তব চিত্র কেমন? বাংলাদেশে শিশুদের টাইপ ১ ডায়াবেটিস সম্পর্কে সচেতনতা এখনো খুবই কম। গ্রামের দিকে তো বটেই, শহরেও অনেক সময় ডাক্তাররাও শিশুদের এই ডায়াবেটিস চিহ্নিত করতে দেরি করে ফেলেন। কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বাংলাদেশ প্রসঙ্গে : - অনেক বাবা-মা মনে করেন ডায়াবেটিস শুধু বড়দের রোগ। - ইনসুলিন ব্যবহারে সামাজিক লজ্জা বা ভয় কাজ করে। - ইনসুলিন সংরক্ষণ, ইনজেকশন দেওয়া এবং নিয়মিত ব্লাড সুগার চেক করা এখনো অনেক পরিবারে কঠিন ব্যাপার। - স্কুল-কলেজে ডায়াবেটিক শিশুদের জন্য কোনো বিশেষ সহায়তা নেই। - দরিদ্র পরিবারের শিশুরা প্রয়োজনীয় ইনসুলিন বা ডায়েট পায় না। চিকিৎসা ও করণীয় কী? টাইপ ১ ডায়াবেটিসের কোনো স্থায়ী চিকিৎসা নেই, তবে নিয়ম মেনে চললে শিশু একটি সম্পূর্ণ সুস্থ জীবন কাটাতে পারে। প্রথমেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। পাশাপাশি : - নিয়মিত ইনসুলিন নিতে হবে - প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে রক্তে চিনি পরীক্ষা করা দরকার - স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে - শরীরচর্চা করা দরকার (বয়স অনুযায়ী) - চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জীবনযাপন বাবা-মা ও শিক্ষকের দায়িত্ব - শিশুর লক্ষণগুলো বুঝে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হবে - ইনসুলিন নেওয়া নিয়ে লজ্জা বা দ্বিধা দূর করতে হবে - স্কুলে শিক্ষক ও সহপাঠীদের সচেতন করতে হবে যাতে শিশু চাপ বা অপমান বোধ না করে - পরিবারে মানসিক সাপোর্ট দিতে হবে টাইপ ১ ডায়াবেটিস শিশুদের জীবনের এক নতুন চ্যালেঞ্জ হলেও মনে রাখা দরকার এটি মোটেও জীবন শেষ করে দেয় না। সচেতনতা, সঠিক চিকিৎসা ও পরিবার-পরিবেশের ভালোবাসা পেলে শিশুরাও টাইপ ১ ডায়াবেটিস নিয়ে স্বাভাবিক জীবন কাটাতে পারে।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

[TheChamp-FB-Comments]
ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
বঙ্গোপসাগরের ভূরাজনীতিতে ডিপি ওয়ার্ল্ড-এনসিটি চুক্তির অর্থ কী? ভারতে ক্যানসার ওষুধের দাম কমতে পারে ৭০ শতাংশ ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছেই গেল এনসিটি রূপপুরে প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর অনুমতি ১০ দিনে চেলা নদীর পাড় কেটে ২৫ লাখ ঘনফুট বালু খেয়ে নিল বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা ১০ এয়ারবাস ক্রয়ের চুক্তি করলো বিমান; অথচ বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে শঙ্কায় বিশ্বব্যাংক-এডিবি ২০ হাজার শ্রমিকের উদ্বেগ-প্রতিবাদ উপেক্ষা করে ১৫ বছরের চুক্তি সম্পন্নঃ DP World-এর হাতে তুলে দেয়া হলো এনসিটি ‘সবকিছু যুক্তরাষ্ট্রকে দিয়ে দিয়েছি ধরে নেবেন না’- ফরাসি রাষ্ট্রদূতকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের কড়া জবাব ​‘উত্তেজনার বশে মামলা করেছিলাম’: ভুল স্বীকার করে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে করা মিথ্যা মামলা তুলে নিলেন বাদী কফিল উদ্দিন দিলারা চৌধুরী এবং তার স্বামীর বঙ্গবন্ধুবিরোধিতা ও ইতিহাস বিকৃতি’র শেকড় ১৯৭১-এ প্রোথিত অর্থনীতির বেহাল দশা, খাদ্য নিরাপত্তার ঝুকিতে দেশঃ অথচ দেশে আসছে কোটি টাকার চোরাই BMW স্পোর্টস কার সৌদির দুই বিমানবন্দরে হুথি হামলা: নিহত ৩, আহত ৩৬; আহতদের মধ্যে বাংলাদেশি রামপালে ৪৪২ মে:ও: সৌরবিদ্যুৎঃ উদ্যোগ, পরিকল্পনা ও সৌদি বিনিয়োগ আওয়ামীলীগ আমলেই; জানালেন সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী হিন্দু পরিচয়ের কারণে ইউনূস আমলে পাসিং আউট প্যারেডের আগে নেভাল একাডেমি থেকে বহিষ্কৃত হন পৃথ্বী নন্দী ধর্মের নামে শিশুকে ভয় দেখানো, নির্যাতন-কে শিশুর মানসিক ক্ষতির কারণ বলছে জাপান সরকার বাণিজ্য চুক্তি ও বিলিয়ন ডলারের ক্রয় সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় স্থান হারালো বাংলাদেশ লোডশেডিং আড়াই হাজার মেগাওয়াট, জ্বালানি সংকটে বন্ধ ৩৫ বিদ্যুৎকেন্দ্র জলপরী দেখতে চলল পুজো-অর্চনা, জালে মিলল সিলভার কার্প মাছ এলপিজি কারসাজির শেষ কোথায় নতুন আলোচনা রিকনসিলিয়েশন