নিউজ ডেক্স
আরও খবর
মোগল জাহাজে ডাকাতিতে জড়িত টমাস জোন্সের নামে নিউইয়র্কের সৈকত
শ্রমিক আন্দোলনে ফ্যাসিস্টদের অনুপ্রবেশের দায় সরকারের: নাহিদ ইসলাম
ভারতেই শেখ হাসিনার মৃত্যু কামনা করা আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ক্রিস্টিন ফেয়ার কে?
ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের প্রধান সম্পাদক ও তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ৭টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ
কলকাতায় ভারতের প্রথম ম্যাজিক ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ
ইউরোপের যে ১০ দেশে ঘণ্টাপ্রতি বেতন সবচেয়ে বেশি
দেশের বাজারে সোনার দাম ভরিতে বাড়ল ৩,২৬৬ টাকা
দেয়ালে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ লিখন: স্কুলছাত্রীদের শনাক্ত করল পুলিশ, শিক্ষার্থী-নিপীড়নের শংকা
চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বিপরীত দিকের শেখপাড়ার একটি গলিতে কয়েকজন স্কুলছাত্রী মিলে দেয়ালে ‘জয় বাংলা’, ‘জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘জয় শেখ হাসিনা’ ও ‘ফিরছি আবার ডিসেম্বরে’সহ বিভিন্ন স্লোগান লেখার ঘটনার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় যেমন চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে, তেমনি ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়েও তৈরি হয়েছে শঙ্কা।
পুলিশ বলছে, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে স্লোগান লেখার ঘটনায় চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।
৫ই নভেম্বর, বৃহস্পতিবার বিকেলে স্থানীয় বাসিন্দাদের বিষয়টি নজরে আসে। এর আগের দিন ৪ঠা নভেম্বর, বুধবার দিনের বেলায় বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী জন্মদিন উদ্যাপন করতে ওই গলিতে যায়। পরে তারাই বসতবাড়ির দেয়ালে এসব স্লোগান লেখে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
ঘটনাটি জানাজানি হলে সদর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে দেয়াল থেকে লেখাগুলো মুছে ফেলা হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, শেখপাড়ার ওই গলির একটি বসতবাড়ির প্রাচীরে কালো ও সাদা রঙের স্প্রে দিয়ে ‘জয় বাংলা’, ‘জয় হাসিনা’, ‘মুজিব সেনা’ ও ‘ফিরছি আবার ডিসেম্বর’ লেখা ছিল। এসব স্লোগানকে আওয়ামী লীগ ও দলটির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্লোগান হিসেবে দেখা হয়।
স্থানীয় বিএনপি-জামায়াতের উগ্রবাদী কর্মীরা বলছেন, দিনেদুপুরে স্কুলের ছাত্রীরা এসে দেয়ালে এসব স্লোগান লিখেছে, ভাবা যায়! একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এমন কাজ করবে, তা মোটেও আশা করা যায় না। এদের বয়স কম হলেও এরা এখন থেকেই যা শুরু করেছে, এদের দমন করা জরুরি।
একইসাথে স্থানীয় সচেতন মহল পুলিশ-প্রশাসনের সমালোচনাও করেছেন। তাদের ভাষ্য, কিছু স্লোগান লেখার কারণে স্কুলছাত্রীদের নিয়ে যেভাবে আলোচনা-সমালোচনা চলছে, তাতে ওদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক সন্ত্রাসীরা তো আছেই, পুলিশ-প্রশাসনের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে অনেক বড় কোনো অপরাধী চক্রের সন্ধান পেয়েছে।
সংস্কৃতিকর্মী মো. আজাদ বলেন, দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা ছাড়াও অনেক গুরুত্বপূর্ন কাজ আছে পুলিশের। কিন্তু স্কুলছাত্রীদের নিয়ে পুলিশের এমন তৎপরতা অবশ্যই নিন্দনীয়।
এদিকে, চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ রেজাউল করিম মুঠোফোনে বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পর আমি জেলা প্রশাসক মহোদয়কে বিষয়টি জানিয়েছি। পরে তার নির্দেশে বিদ্যালয়ের সহায়কদের মাধ্যমে লেখাগুলো মুছে ফেলা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে শনাক্ত করা গেছে। এ ঘটনায় কারা জড়িত এবং শিক্ষার্থীরা কেন এমন কাজ করেছে, তা তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার তদন্ত কর্মকর্তা হিমেল রানা বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে এ ঘটনায় চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সম্পৃক্ততার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। কারও নির্দেশনা বা প্ররোচনায় তারা দেয়ালে এসব স্লোগান লিখেছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ৬ই অক্টোবর দুপুরে টিফিনের পর শ্রেণিকক্ষের ভেতরে কয়েকজন শিক্ষার্থী রাজনৈতিক স্লোগান দেয়। এ সময় তারা আওয়ামী লীগের স্লোগান দেয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে ওই ঘটনার ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করে সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। মুহূর্তেই ভিডিওটি ভাইরাল হয়।
ঘটনার পরদিন ৭ই অক্টোবর বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. ইকবাল হোসেনকে প্রধান করে ৭ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। বিদ্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজ ও ছড়িয়ে পড়া ভিডিও পর্যালোচনা করে তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন তৈরি করে।
গত ৪টা নভেম্বর, বুধবার প্রতিবেদনটি প্রধান শিক্ষকের কাছে জমা দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই নয় শিক্ষার্থীকে ছাড়পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।
তদন্ত কমিটির প্রধান সহকারী শিক্ষক ইকবাল হোসেন বলেন, বিদ্যালয়ে রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়ার ঘটনার ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে তদন্ত প্রতিবেদন প্রধান শিক্ষকের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওই শিক্ষার্থীদের ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
প্রধান শিক্ষক মো. জিয়াউল হক জানান, গত ৬ই অক্টোবর বিদ্যালয়ের ভেতরে কয়েকজন শিক্ষার্থী আওয়ামী লীগের স্লোগান দেয়। ঘটনার সময় তিনি নামাজে ছিলেন। পরে নামাজ শেষে গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে ফোন করে মিছিলের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়।
এরপরে অন্য শিক্ষকদের কাছ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত হন তিনি। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শ্রেণিকক্ষে জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান: ৯ শিক্ষার্থীকে একসঙ্গে টিসি
গোপালগঞ্জ সরকারি জেলা স্কুলের শ্রেণিকক্ষে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণির নয় শিক্ষার্থীকে ছাড়পত্র (টিসি) দিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। আজ ৫ই নভেম্বর, বৃহস্পতিবার তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের ছাড়পত্র দেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জিয়াউল হক।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ৬ই অক্টোবর দুপুরে টিফিনের পর শ্রেণিকক্ষের ভেতরে কয়েকজন শিক্ষার্থী রাজনৈতিক স্লোগান দেয়। এ সময় তারা আওয়ামী লীগের স্লোগান দেয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে ওই ঘটনার ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করে সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। মুহূর্তেই ভিডিওটি ভাইরাল হয়।
ঘটনার পরদিন ৭ই অক্টোবর বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. ইকবাল হোসেনকে প্রধান করে ৭ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। বিদ্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজ ও ছড়িয়ে পড়া ভিডিও পর্যালোচনা করে তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন তৈরি করে।
গত ৪টা নভেম্বর, বুধবার প্রতিবেদনটি প্রধান শিক্ষকের কাছে জমা দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই নয় শিক্ষার্থীকে ছাড়পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।
তদন্ত কমিটির প্রধান সহকারী শিক্ষক ইকবাল হোসেন বলেন, বিদ্যালয়ে রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়ার ঘটনার ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে তদন্ত প্রতিবেদন প্রধান শিক্ষকের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওই শিক্ষার্থীদের ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
প্রধান শিক্ষক মো. জিয়াউল হক জানান, গত ৬ই অক্টোবর বিদ্যালয়ের ভেতরে কয়েকজন শিক্ষার্থী আওয়ামী লীগের স্লোগান দেয়। ঘটনার সময় তিনি নামাজে ছিলেন। পরে নামাজ শেষে গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে ফোন করে মিছিলের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়।
এরপরে অন্য শিক্ষকদের কাছ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত হন তিনি। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।
[TheChamp-FB-Comments]