নিউজ ডেক্স
আরও খবর
ডাকসুতে ছেঁড়া হলো জিন্নাহর ছবি, টাঙানো হলো রাজাকার গোলাম আযমকে জুতাপেটার ছবি
রাবির সাবেক শিক্ষার্থীকে হানি ট্র্যাপে ফেলে মুক্তিপণ আদায়, গ্রেফতার ৪
ইবিতে পরীক্ষায় নকলসহ ধরা ছাত্রদল নেতা
কৃষি গুচ্ছের ভর্তি পরীক্ষা ২ জানুয়ারি, নেতৃত্বে শেকৃবি
কমিটিতে বিএনপি নেতার পছন্দের লোক বসাতে না পেরে প্রধান শিক্ষক বিকাশ দাশ লাঞ্ছিত
ভোর ৬টা থেকে শুরু লোডশেডিং, দিনে পাঁচ দফায় বিদ্যুৎহীন থাকবে বুয়েট
ঢাবিতে জঙ্গি সংশ্লিষ্ট বক্তা আনার নেপথ্যে শিবির, অন্ধকারে হল কর্তৃপক্ষ
মব হামলায় ক্যাম্পাসছাড়া, পাননি প্রশাসনের সহায়তা: ঢাবির ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান তাহসীনের
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে মবের হামলা ও হুমকির মুখে ক্যাম্পাস ছাড়তে বাধ্য হওয়ার অভিযোগ তুলে ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষার্থী এ. আর. তাহসীন জাহান। ২০২৩ সালের বিএসএস (অনার্স) পরীক্ষায় নিজ বিভাগে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে এই পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন তিনি।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “ন্যায়বিচার যদি সবার জন্য না হয়, তবে সেটি ন্যায়বিচার নয়” দাবি করে তাহসীন জাহান ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্তের কথা জানান।
তাহসীন বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চার বছরের স্নাতকজীবনের শুরু থেকেই তিনি ডিনস অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার দিনের অপেক্ষায় ছিলেন। অসংখ্য নির্ঘুম রাত ও কঠোর পরিশ্রমের পর নিজ বিভাগে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হওয়ার স্বীকৃতি হিসেবে পুরস্কারটি পাওয়ার কথা ছিল তাঁর। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি পুরস্কারটি গ্রহণ করেননি।
নিজের একাডেমিক ফলাফলের তথ্য তুলে ধরে তাহসীন জানান, ২০২৩ সালের বিএসএস (অনার্স) পরীক্ষায় উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগে ৪-এর মধ্যে ৩.৯৫ সিজিপিএ অর্জন করেন তিনি। এর আগে ২০১৭ সালে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি এবং ২০১৯ সালে একই প্রতিষ্ঠানের ইংরেজি ভার্সন থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পান।
ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যানের কারণ ব্যাখ্যা করে তাহসীন বলেন, ২০২৪ সালে শুধুমাত্র তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তিনি মবের হামলার শিকার হন। কোনো ধরনের সহিংসতার সঙ্গে সম্পৃক্ত না থাকা সত্ত্বেও নিজের বিভাগ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরেই তিনি হুমকির মুখে পড়েছিলেন বলে দাবি করেন।
তাঁর ভাষ্য, মবের হামলার আশঙ্কায় একপর্যায়ে তিনি ক্যাম্পাসে ফিরতে পারেননি। তাঁকে ফাইনাল ভাইভায় অংশ নেওয়া এবং স্নাতক থিসিস জমা দিতে বাধা দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তাহসীন বলেন, ওই পরিস্থিতিতে তাঁর বিভাগের কয়েকজন শিক্ষক একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষার অধিকারের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন। তাঁদের সহযোগিতায় শেষ পর্যন্ত নিরাপদ জায়গা থেকে অনলাইনে ফাইনাল ভাইভায় অংশ নিয়ে স্নাতক সম্পন্ন করতে সক্ষম হন তিনি।
যেসব শিক্ষক তাঁকে সহযোগিতা করেছেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তাহসীন বলেন, তাঁর অর্জনের পেছনে তাঁদের অবদান রয়েছে এবং সেই কৃতিত্ব তাঁদের প্রাপ্য।
তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, তাঁর মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে সংকটে পড়েছেন। এসব শিক্ষার্থীর শিক্ষার অধিকার রক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অর্থবহ পদক্ষেপ নেয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তাহসীনের অভিযোগ, প্রশাসন নীরব থাকার পাশাপাশি মৌলবাদী মবকে নীরবে সমর্থন করেছে এবং এখনো করছে।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, সরকার পতনের পর দেশে যদি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়ে থাকে, তাহলে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে শিক্ষাজীবন বাধাগ্রস্ত হওয়া হাজার হাজার শিক্ষার্থী এখনো কেন শ্রেণিকক্ষে ফিরতে পারছেন না।
পোস্টে তাহসীন আরও বলেন, কারাগারে থাকা গুরুতর অপরাধীরও শিক্ষা গ্রহণের অধিকার রয়েছে। অথচ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রশাসন নিজেদের শিক্ষার্থীদের সেই অধিকার রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। তোফাজ্জল, মাসুদ ও শামীমসহ নিরপরাধ মানুষের মৃত্যুর দায়ও এসব প্রতিষ্ঠানের ওপর রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্তকে কোনো পুরস্কারকে ছোট করা হিসেবে দেখছেন না তাহসীন। বরং রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে শিক্ষার অধিকার হারানো সহপাঠীদের প্রতি সংহতি জানাতেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান।
তিনি বলেন, যে প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসন হাজার হাজার শিক্ষার্থীর জীবন ও ভবিষ্যৎ ধ্বংস হয়ে যেতে দেখেও তাঁদের পাশে দাঁড়ায়নি, সেই প্রতিষ্ঠানের পুরস্কার গ্রহণ করে নিজের অর্জন উদযাপন করতে তিনি পারেন না।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।
[TheChamp-FB-Comments]